প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী?
প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপনার সারাউন্ডিং-এর প্রত্যেককে আপনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, নিজেকে কমন ভাবা, আপনার পাশের মানুষ বা জীব আপনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ,মাঝে মাঝে সে চিন্তাও করা।

হয়তো প্রশান্তি হতে পারে মানুষের দিকে এক গভীর সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকানো, যেখানে জেলাসি নেই, হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই, ঘৃণা নেই, নেই কাউকে ছোট করে ভাবার প্রবণতা কিংবা অকারণ সন্দেহ করা। প্রশান্তি হতে পারে পাশের মানুষটিকে আন্তরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে অনুভব করা। তার দুঃখকে নিজের অনুভূতির মতো ধারণ করা, তার কষ্টে নীরবে ব্যথিত হওয়া, আর তার সুখকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর করে তোলার জন্য আন্তরিক সমর্থন ও দোয়া করা।

হয়তো এটাই প্রশান্তি, একটি কোমল, নির্মল ও মানবিক মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষ অহংকার, প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষ ছাড়িয়ে অন্য মানুষের অস্তিত্বকে অনুভব করতে শেখে। অন্যকে বড় করে দেখতে চেষ্টা করে কিবা সমান ভাবতে চেষ্টা করে। 

জীবন খুব সুখময়, আর প্রশান্তিময়। আল্লাহ আমাদের সুখ ও প্রশান্তিকে প্রসারিত করুক।

রাজনীতির প্রতিহিংসা: আজ আপনি সেলিব্রেট করছেন, কাল আপনি শিকার হবেন!

আপনার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যখন অন্য দলের নেতা বা কর্মীদের মারে, আর সেটা আপনি সেলিব্রেট বা ডিফেন্ড করেন, তখন আসলে আপনি নিজের দলের সমর্থিত নেতা কর্মীদের ওপর একই ধরনের সহিংসতাকেও পরোক্ষভাবে জাস্টিফাই করেন। কারণ তখন অন্য দলও আপনাদের মেরে ভাববে আপনাদের নেতা বা কর্মীদের জেল, জুলুম, কিংবা ফ্যান বা ছাদের সাথে ঝুলিয়ে পেটানোও স্বাভাবিক এবং সেটাকেও ডিফেন্ড করা যায়। সুতরাং আপনার ওপর কখনো মব হলে, জুলুম হলে কিবা সহিংসতা হলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেটাকে সেলিব্রেট করবে এবং সমর্থন জানাবে।

রাজনীতির এই প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিরাপত্তা দেয় না। আজ আপনি সহিংসতাকে সমর্থন দিলে, কাল সেই একই সহিংসতা আপনার দিকেও ফিরে আসে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তখন প্রতিপক্ষ বা অন্য দলের নেতাকর্মীরা আর শুধু মানুষ বা নাগরিক থাকে না, তারা শুধুই শত্রু বা প্রতিপক্ষ। যাদেরকে পেটানো যায় এবং জুলুমও করা যায়। 

আর জনগণ? জনগণ অধিকাংশ সময়ই দর্শক হয়ে থাকে। আপনার সুপ্রিম নেতাকে যখন ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মারা হচ্ছিল, তখনও তারা দর্শক ছিল। এখন আপনার নেতা ক্ষমতায় আছে, এখনো তারা দর্শক। Nasiruddin Patwari কে মারার সময়ও তারা দর্শক। আবার নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীরা যখন ক্ষমতায় যাবে, তখন আপনাদের ওপর জুলুম করা হলেও তারা দর্শকই থাকবে। সুতরাং, ভেবেচিন্তে কাজ করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ, প্রতিশোধ আর মারামারির মাঝে সাধারণ মানুষের নিজের কোনো শক্তি বা অবস্থান থাকে না। তারা শুধু দর্শক থাকে তাদের শুধু মন্তব্য থাকে, যে মন্তব্যের বাস্তবে খুব বেশি গুরুত্ব থাকে না এবং সেটা তারা নিজেরাও জানে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনা কি বা মন্তব্যকে গুরুত্ব কখনো দেয় না। শেষ পর্যন্ত যে জিতে ক্ষমতায় যায়, জনগণ বাধ্য হয় তার কাছেই প্রত্যাশা রাখতে।

এই তো পলিটিক্স। দ্যাটস ইট।

স্যাটায়ার থেকে প্রতিবাদ : কক্রোচ জনতা পার্টি ও ভারতের যুবসমাজের ফ্রাস্ট্রেশন


গত দুই দিন আগে ইন্ডিয়া তে একটা খুবই ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটে গেছে। ভারতের চিফ জাস্টিস বা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তার এক শুনানিতে কর্মহীন যুবকদের ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে অভিহিত করেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়া তে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতেই ক্ষুব্ধ ইউথরা স্যাটায়ার ও ফ্রাস্ট্রেশন এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে 'কক্রোচ জনতা পার্টি ' বা সিজেপি নামে একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করে বসেছে। 

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, পিওরলি স্যাটায়ারিক্যাল ও সোশ্যাল মিডিয়া ড্রিভেন এই উদ্যোগটি মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রায় সেভেন মিলিয়ন ফলোয়ার ক্রস করে ফেলেছে। এটা শুধু মিম কালচারের জনপ্রিয়তা না বরং ইউথ ফ্রাস্ট্রেশন, আনএমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস, রাজনৈতিক ডিসকানেক্ট এবং মেইনস্ট্রিম পলিটিক্স এর প্রতি অনাস্থারও একটা প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

একটা রাষ্ট্রের ইউথ কতটা অসহায় হইলে, সরকার ইউথ রিলেটেড বিষয়গুলাকে কতটা ইগনোর করলে, স্যাটায়ার করে তৈরি করা একটা দল 'কক্রোচ জনতা পার্টি' দুই দিনের মধ্যে প্রায় সেভেন মিলিয়ন ফলোয়ার ক্রস করে, সেটা চিন্তার বিষয়।

আপনি চিন্তা করেন, দেখেন নেপাল কিংবা বাংলাদেশ এর ইউথরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কথা, বার্তা, চিন্তা-চেতনা প্রকাশ করতে পেরেছে, ইন্ডিয়া তে কিন্তু সেই জায়গাটা অনেক সীমিত। 

একেতো ভারতের মিডিয়া ব্যাপক বেশি সরকার ঘেষা তার চেয়েও তাদের সুশীল সমাজের মানুষেরা খোলাখুলি ভাবে সরকারবিরোধী কথা বলতে ব্যাপক ভয় পাই, কারণ বর্তমান যে সরকার বিজেপি তারা মূলত ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের উপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় আছে। আর তাদের অধিকাংশ জনগণ বা তার সাপোর্টারেরা মোটামুটি অশিক্ষিত কিবা কম শিক্ষিত হলেও ধর্মের প্রতি তাদের একটা আলাদা অন্ধ ভক্তি রয়েছে । ভারতের অধিকাংশ জনগণকে আমি অশিক্ষিত বলছি না; কিন্তু জনগণের একটা বড় অংশের রাজনৈতিক মতামত রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট এর ওপর হেভিলি নির্ভরশীল। যারা কর্মসংস্থান ,স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা কিবা সুন্দর সরকারি ব্যবস্থার চাইতেও ধর্মীয় সরকারকে বেশি গুরুত্ব দেয় ।

ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিও মূলত এই রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট এর ওপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা একটা জায়গায় ভুল করছে। রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট হয়তো একটা দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে, হয়তো বিশ-পঁচিশ বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখতেও পারে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর জনগণকে খাদ্য দিতে হয়, জব ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিচারব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হয়, এবং রাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হয়।
এই জায়গাগুলোতে ব্যর্থতা তৈরি হলে মানুষের ফ্রাস্ট্রেশন অন্যভাবে প্রকাশ পায়। 

'কক্রোচ জনতা পার্টি'র মতো স্যাটায়ারিক্যাল রাজনৈতিক প্রতীক তখন শুধু মিম থাকে না, এটা ইউথ ফ্রাস্ট্রেশন এর কালেক্টিভ এক্সপ্রেশন হয়ে যায়। অনেকে এটাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করে, কারণ তারা মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পায় না।

আর এই কারণেই ভারতের এই ঘটনাটা আরও ইন্টারেস্টিং, ভারতের চিফ জাস্টিস বা সিজিআই সূর্য কান্ত এক শুনানিতে কর্মহীন যুবকদের 'ককরোচ' বা তেলাপোকা ধরনের উপমা দেওয়ার পর থেকেই জনতা ও বুঝতে পারে তারা মূলত ককরোচই , আর এই থেকেই তৈরি হয় এই পলিটিক্যাল পার্টি। সোশ্যাল মিডিয়াতে এই 'কক্রোচ জনতা পার্টি' নিয়ে ব্যাপক স্যাটায়ার শুরু হয়। ইউথরা সেই অপমানসূচক শব্দকেই উল্টো আইডেন্টিটি ও প্রতিবাদের ভাষায় কনভার্ট করে ফেলেছে। 

আপনি এইটার সাথে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনে রাজাকার শব্দটাকে তুলনা করতে পারেন। যদিও বাংলাদেশে রাজাকার শব্দটা অপমানসূচক কিন্তু জুলাই আন্দোলনে সরকার যখন তাদেরকে রাজাকার হিসাবে ঘোষণা দিল, ছাত্র জনতা রাজাকার শব্দের মাধ্যমেই নিজেদেরকে চিত্রায়িত করতে পারছিলেন, নিজেদের ক্ষোভকে উগলে দিতে পারছিলেন এবং একটা প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ফ্রাস্টেশন ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করতে পারছিলেন, আর সরকারকে উৎখাত করতে পারছিলেন। 

এটাই ফ্রাস্ট্রেশন এর একটা ক্লাসিক রূপ যখন মানুষ সরাসরি রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে না, তখন তারা স্যাটায়ার, মিম, আয়রনি এবং ডিজিটাল কালচারকে অস্ত্র বানায়। কারণ তারা অনুভব করে যে তাদের বাস্তব সমস্যা জব ক্রাইসিস, এক্সাম করাপশন, ইনইকুয়ালিটি, সোশ্যাল প্রেসার, ফিউচার ইনসিকিউরিটি এসব নিয়ে রাষ্ট্রের আগ্রহ কম, কিন্তু সিম্বলিক পলিটিক্স নিয়ে আগ্রহ বেশি।

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...