রাজনীতির প্রতিহিংসা: আজ আপনি সেলিব্রেট করছেন, কাল আপনি শিকার হবেন!

আপনার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যখন অন্য দলের নেতা বা কর্মীদের মারে, আর সেটা আপনি সেলিব্রেট বা ডিফেন্ড করেন, তখন আসলে আপনি নিজের দলের সমর্থিত নেতা কর্মীদের ওপর একই ধরনের সহিংসতাকেও পরোক্ষভাবে জাস্টিফাই করেন। কারণ তখন অন্য দলও আপনাদের মেরে ভাববে আপনাদের নেতা বা কর্মীদের জেল, জুলুম, কিংবা ফ্যান বা ছাদের সাথে ঝুলিয়ে পেটানোও স্বাভাবিক এবং সেটাকেও ডিফেন্ড করা যায়। সুতরাং আপনার ওপর কখনো মব হলে, জুলুম হলে কিবা সহিংসতা হলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেটাকে সেলিব্রেট করবে এবং সমর্থন জানাবে।

রাজনীতির এই প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিরাপত্তা দেয় না। আজ আপনি সহিংসতাকে সমর্থন দিলে, কাল সেই একই সহিংসতা আপনার দিকেও ফিরে আসে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তখন প্রতিপক্ষ বা অন্য দলের নেতাকর্মীরা আর শুধু মানুষ বা নাগরিক থাকে না, তারা শুধুই শত্রু বা প্রতিপক্ষ। যাদেরকে পেটানো যায় এবং জুলুমও করা যায়। 

আর জনগণ? জনগণ অধিকাংশ সময়ই দর্শক হয়ে থাকে। আপনার সুপ্রিম নেতাকে যখন ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মারা হচ্ছিল, তখনও তারা দর্শক ছিল। এখন আপনার নেতা ক্ষমতায় আছে, এখনো তারা দর্শক। Nasiruddin Patwari কে মারার সময়ও তারা দর্শক। আবার নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীরা যখন ক্ষমতায় যাবে, তখন আপনাদের ওপর জুলুম করা হলেও তারা দর্শকই থাকবে। সুতরাং, ভেবেচিন্তে কাজ করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ, প্রতিশোধ আর মারামারির মাঝে সাধারণ মানুষের নিজের কোনো শক্তি বা অবস্থান থাকে না। তারা শুধু দর্শক থাকে তাদের শুধু মন্তব্য থাকে, যে মন্তব্যের বাস্তবে খুব বেশি গুরুত্ব থাকে না এবং সেটা তারা নিজেরাও জানে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনা কি বা মন্তব্যকে গুরুত্ব কখনো দেয় না। শেষ পর্যন্ত যে জিতে ক্ষমতায় যায়, জনগণ বাধ্য হয় তার কাছেই প্রত্যাশা রাখতে।

এই তো পলিটিক্স। দ্যাটস ইট।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...