ডেইলি ব্লগ -০১ (২৩/১২/২৫)

ডেইলি ব্লগ -০১
২৩/১২/২৫


আজ সকালে দেরিতে ঘুম ভেঙেছে, কারণ গত রাতে অনেক দেরি পর্যন্ত জেগে ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়টা কোনো প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যবহার হয়নি, বেশিরভাগই কেটেছে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইমে, যা এখন স্পষ্টভাবে আমার কাছে অনুশোচনার বিষয়। এর ফল হিসেবে সকালে দেরিতে ওঠায় দিনের প্রোডাক্টিভ সময় ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি, আর নিয়মিত হাঁটার যে অভ্যাসটা শুরু করেছিলাম সেটাতেও আজ বিরতি পড়ে গেছে। প্রায় দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হই।  এরপর ইসমাইল ভাইয়ের দোকানে গিয়ে চা খাই। সেখানে পাঁচটা বাচ্চার সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটে, যা এক অর্থে ভালোই “কোয়ালিটি টাইম” ছিল।

এই সময়টায় একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করলাম। আধুনিক সময়ের যে নতুন আলফা জেনারেশন আসছে, তাদের ভবিষ্যৎ আমি এই চার–পাঁচজন বাচ্চাকে দেখেই পুরোপুরি বিচার করছি না, কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তারা অনেক বেশি ফ্রি, ভয়হীন, লাজুক নয়, লজ্জাবোধ বা বিব্রত হওয়ার প্রবণতা কম। আলফা জেনারেশনের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক মানসিকতা, সেটা তাদের মধ্যে স্পষ্ট ছিল।
আমাদের সমাজে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, জেন জি বা বর্তমান প্রজন্মের একটা অংশ যেভাবে আলট্রা-ন্যাশনালিস্টিক, কড়া কালচারাল ফ্রেম তৈরি করতে চাচ্ছে, আমার মনে হয় এই আলফা জেনারেশন সেই মানসিকতাকে অনেকটাই ভেঙে দেবে। তবে এখানে একটা কনট্রাডিকশনও আছে।



ওই বাচ্চাগুলো না হিন্দি গান জানে, না বাংলা গান। তারা শুধু ভোজপুরি গানই জানে। ইদানীং আমাদের সমাজে এই প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অর্থাৎ আমরা শুধু আধুনিক বা উচ্চমানের কালচারের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি না, বরং নিম্নমানের বা তথাকথিত “বেড কালচার”-এর মাধ্যমেও আমাদের কালচার গড়ে উঠছে। এটা একটা বাস্তব উদাহরণ। এরপর বাসায় ফিরে বেশিরভাগ সময় রুমেই ছিলাম। আজকে আমার দ্বারা একটা খারাপ কাজও হয়ে গেছে। আমার এক খালাতো ভাই ফিজিতে থাকে। সে হোল্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছিল, আর আমি সেই টাকা উত্তোলন করেছি। বিষয়টা করতে গিয়ে ভীষণ বিব্রত বোধ করেছি, কিন্তু না করতেও পারিনি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে হেফাজত করেন।

সবশেষে,  এশার পর সজীব দেশের সঙ্গে কথা হলো। কিছু সময় ভালোভাবেই কাটালাম। দীর্ঘ একটা হাঁটা হয়েছে এশারের পর বাসির, আমি আর নাইম
এই ছিল আজকের দিন।

আজকের পুরো দিনের ব্যস্ততার ভেতরেও বাস্তবে কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ হয়নি। নামাজের সময়গুলোও বেশিরভাগ রুমের মধ্যেই কেটে গেছে। সাহেদ আমাকে একটা জানাজায় যাওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি সেই জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি।

তবে আজকের দিন থেকে কিছু বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি, এগুলো থেকে আমাকে সচেতনভাবে বেঁচে থাকতে হবে। যেমন, অপ্রয়োজনে বেশি হাসা, জোরে শব্দ করে হাসা, এই আচরণগুলো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি আজকে কিছু গালিগালাজও হয়ে গেছে, যা একেবারেই অনুচিত। আরও খারাপ লাগার বিষয় হলো, মাঝে মাঝে গিবত করে ফেলেছি অজান্তিকভাবেই। শুধু তাই না, গিবত শুনেছিও। এই বিষয়গুলোকে আমাকে খুব টেকনিক্যাল ও সচেতনভাবে ট্যাকল করতে হবে। কথাবার্তায় স্ল্যাং ব্যবহার করা যাবে না, এই সিদ্ধান্তটা আরও শক্তভাবে নিতে হবে।

আজকে আরেকটা গুরুতর ভুল হয়েছে। আম্মার পার্শ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ফেলেছি, যেটা আসলে চুরি হিসেবেই গণ্য হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে রক্ষা করুন।
খরচের দিক থেকেও আজকের দিনটা ভালো ছিল না। মোটামুটি চারশো থেকে সাড়ে চারশো টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে, আর এর বেশিরভাগ খরচই অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। তবে ইসমাইল ভাই  আমার কাছে একশো টাকা পাওনা আছে, এটা আলাদা করে মনে রাখতে হবে।

বিবাহ কেন?

 একটা স্ট্রং সোসাইটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিবাহ। আমাদের সমাজ বর্তমানে একটি বড় শিফটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর এই শিফটটি হচ্ছে পার্সোনাল রাইটসের দিকে। অর্থাৎ ব্যক্তি, ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যতা এবং ব্যক্তি-স্বেচ্ছাচারিতাই এখন কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে সবকিছুই ব্যক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। ব্যক্তি তার জীবনে অন্য কাউকে, কিংবা অন্য কারো হস্তক্ষেপকে কামনা করছে না। এমনকি সে মনে করছে না যে তার জীবনে একজন পার্টনার দরকার, যে তার চিন্তা, চেতনা, ইন্টিমেসি, রিলেশনশিপ ও মনোভাবের জগতে তাকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে। 

এর ফল হিসেবে বিবাহের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আন্তরিকতা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এখনও আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, দরিদ্র সমাজগুলোতে বিবাহের গুরুত্ব ও প্রচলন অনেকাংশে টিকে আছে। এর কারণ এই সমাজগুলোতে এখনও মানুষের পূর্ণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে, ধনী দেশগুলোতে বা অর্থনৈতিকভাবে অ্যাডভান্সড আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে যেমন ইউরোপীয় বা আমেরিকান সমাজে, বিবাহের প্রচলন ও সামাজিক গুরুত্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেখানে ডিভোর্স, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, পার্সোনাল রাইটস, ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রবণতা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এর পেছনে বড় কারণ হলো মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, স্বাধীনতা ও সামাজিক সচলতা।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মাথায় রাখতে হবে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকলেই সমাজ টিকে থাকবে, এমন নয়। আমরা আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই, সেখানে সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, সমাজের কোর ভ্যালু ও নৈতিকতার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। এর বিপরীতে, দরিদ্র কিংবা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে সংযুক্ত সমাজগুলোতে ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যতার চেয়ে কালেক্টিভনেস বা সমষ্টিগত চেতনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই কারণেই এসব সমাজে মানুষ বিবাহের প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকে।
আমি এখানে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বা সচ্ছলতার দোহাই দিয়ে বিবাহের তুলনা করছি না। আমার মূল বক্তব্য হলো, একটি স্ট্রং সোসাইটির পূর্বশর্তই হচ্ছে বিবাহ। মানব ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনা ও কাঠামোর কেন্দ্রে বিবাহের প্রচলন রয়েছে। কারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কিছু মৌলিক নিড নিয়ে জন্মায়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিক ও যৌন চাহিদা। এই চাহিদা পূরণের জন্য মানুষের দরকার ইন্টিমেসি ও সম্পর্ক। বর্তমানে এই সম্পর্ক অপোজিট সেক্স বা সেম সেক্স, যাই হোক না কেন, মূল বিষয় অপরিবর্তিত থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিবাহ এই যৌন ও শারীরিক চাহিদাকে একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসে। সমাজ সবসময়ই প্রো-শৃঙ্খল, প্রো-স্ট্রাকচার্ড এবং প্রো-কালেক্টিভ। সমাজ কখনোই বিশৃঙ্খলা, চরম ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যতা, স্বেচ্ছাচারিতা বা একাকিত্বকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে না। কারণ সমাজ জানে, এই প্রবণতাগুলো তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তাই সমাজ এমন একটি সিস্টেম তৈরি করেছে, যেখানে মানুষকে একটি মেলবন্ধনের মধ্যে আনা হয়। এই সিস্টেমটাই হলো বিবাহ।

বিবাহ সমাজের প্রজনন ব্যবস্থা, ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণের ভিত্তি। সমাজের এক্সপ্যান্ড করার জন্য বিবাহ অপরিহার্য। শুধু একটি সমাজে নয়, পৃথিবীর প্রতিটি মানব সমাজেই এটি দেখা যায়। এমনকি তথাকথিত আদিম বা বর্বর সমাজেও, যখন একজন মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তার যৌন চাহিদা তৈরি হয়, তখন সমাজ তাকে একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সেই চাহিদা পূরণের অনুমতি দেয়। এই ব্যবস্থার রূপ ও রিচুয়াল ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মূল ধারণাটি এক, যাকে আমরা বিবাহ বলি। বিবাহ ছাড়া কোনো টেকসই মানব সমাজ বা মানব সংগঠন ইতিহাসে পাওয়া যায় না। 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মানুষ যখন একাকিত্বে থাকে, বিশেষ করে তরুণ বয়সে, যখন তার ওপর কোনো দায়িত্ব থাকে না এবং তার জীবনে কোনো পার্টনার থাকে না, তখন তার মধ্যে একধরনের সীমাহীনতা তৈরি হয়। সে মনে করে, তার কিছু হারানোর নেই। এই মানসিকতা থেকেই ব্যক্তির ধ্বংসাত্মক প্রবণতা, বর্বরতা ও অসভ্য আচরণ জন্ম নেয়।

কিন্তু বিবাহের মাধ্যমে যখন একজন মানুষ একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত পার্টনারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়, তখন তার ভেতরে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। তার মধ্যে sense of belonging ও sense of attachment আসে। সে আর শুধু নিজের জন্য ভাবে না, সে তার পার্টনার, পরিবার এবং সন্তানের জন্য ভাবতে শেখে। সন্তান তখন তার উত্তরাধিকার, তার অস্তিত্বের সম্প্রসারণ হয়ে ওঠে।

এই কারণেই সমাজ বিবাহকে এমন একটি সিস্টেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা সহিংসতা কমায়, ব্যক্তি-স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যক্তি-ব্যক্তি সংঘর্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হ্রাস করে এবং মানুষকে দয়া, মায়া, মমতা ও একসাথে থাকার শিক্ষা দেয়।

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ ও আসাদউদ্দিন ওয়াইসিদের মনোপলির রাজনীতি এবং ভারতীয় মুসলমানদের দুরবস্থা


আমার মনে হয়, ইন্ডিয়ান মুসলিমদের বর্তমান দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই অনেকাংশে দায়ী। দেখুন, গতকাল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে TMC এর বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির সাহেব বাবর নামে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণা দেওয়ার দিনটিও তিনি বেছে নিয়েছেন ঠিক সেই দিন, যেদিন ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। হয়তো সেই আবেগ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মসজিদটি তিনি নিজস্ব অর্থে বা জনগণের চাঁদায় তৈরি করবেন। কিন্তু তিনি জেনে বা না জেনে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে আরও মসৃণ করে দিলেন। আমার মনে হয়, এর ফলে মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব স্পষ্টভাবেই কমে যাবে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে। শুধু হুমায়ুন কবির সাহেব নন ,এর আগের নির্বাচনেও পীরজাদা সিদ্দিক সাহেব মুসলিম ভোট মনোপলি করার কারণে মমতা ব্যানার্জিকে ব্যাকফুটে যেতে হয়েছিল। আর এই নির্বাচনেও আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সাহেবের মতো মুসলিম মনোপলি রাজনৈতিক দলগুলো রাজ্যে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, এবং পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মুসলিমরা তাদের ভোট দেবে এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এর ফলে স্বার্থন্বেষী এসব পলিটিক্যাল লিডারদের ভোট পাওয়াই শেষমেশ বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব কিছুটা পড়বে এটা নিশ্চিত।

আমি খেয়াল করলাম, হুমায়ুন কবির সাহেবের এই মূর্খতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণ ভারতীয় মুসলিমদের কাছে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। তারা ভাবছেন তারা মহৎ কোনো কাজ করছেন, কিন্তু বুঝতে পারছেন না এটা তাদের নিজেদের ধ্বংসের পথকেই আরও ত্বরান্বিত করছে। বাবর নামের এই মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে, এবং সামনের নির্বাচনে বিজেপির প্রভাব অনেক বৃদ্ধি পাবে। দুঃখজনক হলো ,সাধারণ ভারতীয় মুসলিমরা যেন পাগলামি ও উন্মাদের মতো নিজ হাতে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা তুলে দিচ্ছেন, অথচ তারা বিষয়টি উপলব্ধিই করতে পারছেন না।

এই কারণেই শিক্ষার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, এবং ইন্ডিয়ান মুসলিমদের এখন আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তাদের বুঝতে হবে , তারা কোথায় দাঁড়িয়ে, কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন এবং কোন আবেগ কখন ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহারে পরিণত করা যায় ,এ নিয়েও ভাবতে হবে।

কিছুদিন আগে বিহার নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পার্টি ছয়টি সিট জিতেছে। অনেক ভারতীয় মুসলিম এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, এবং আমি লক্ষ্য করেছি অনেকেই সেটা সেলিব্রেটও করেছেন। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, আগের টার্মে যেখানে ২৪ বা ২৫ জন মুসলিম বিধায়ক ছিলেন, এইবার তা নেমে ১২ কিবা ১৪ তে এসেছে। অর্থাৎ ওয়াইসি সাহেবের মুসলিম ভোট মনোপলির কারণে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা কার্যত অর্ধেকে নেমে গেছে। তার পার্টির সিট বাড়লেও মোট মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে। সাধারণ মুসলিমদের এটা বোঝানো কঠিন। ফলে তারা এখনও বুঝে উঠতে চাইছেন না যে ওয়াইসি সাহেবের মতো নেতাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সন্দেহের চোখে দেখাটা জরুরি। মুসলিম ভোট যত বেশি মনোপলি হবে, বিজেপির জন্য তত ভালো এটাই বিজেপির মূল কৌশল। তাই আপনি দেখবেন ,ওয়াইসি সাহেবদের মতো নেতাদের বিজেপি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সাপোর্ট করে। বিজেপির মূল লক্ষ্য মুসলিমদের ভোট মুসলিমরাই পাক এবং হিন্দুদের ভোট বিজেপিতে পড়ুক। 

আপনি লক্ষ্য করবেন, ভারতের অধিকাংশ মুসলিম রাজনৈতিকভাবে খুব সীমিত ও পশ্চাদমুখী চিন্তাধারার মধ্যে আবদ্ধ। ঠিক আছে, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সাহেব সাহসী, বিদ্বান, তাত্ত্বিক এবং বিতর্কিত নেতা হিসেবে মুসলিমদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে দরকারীও। কিন্তু তিনি যেভাবে নতুন নতুন প্রদেশে গিয়ে মুসলিমদের কার্যকর অংশগ্রহণ কমিয়ে দিচ্ছেন, তা সন্দেহ তৈরি করে। আবার কংগ্রেসের মুসলিম নেতারাও তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেন না। তারা মুসলিমদের দুরবস্থা বোঝেন না, তবুও মুসলিম জনতা তাদেরকেই সমর্থন দিয়ে যান। আর কংগ্রেসি মুসলিম নেতাদের অকার্যকারিতায় হতাশ হয়েও মুসলিমরা ওয়াইসি সাহেবদের মতো মনোপলাইজড নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন।

এক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদেরও কিছু দায় আছে। তারা নিজেদের কণ্ঠ যথাযথভাবে তুলতে পারছেন না। আরও মজার ব্যাপার হলো, ভারতের টিভি টকশোগুলোতে যেসব আলেম-ওলামাদের আনা হয়, তাদের দেখে মনে হয় না তারা আলেম-ওলামা; বরং কোনো মাস্তানসুলভ চরিত্র। তাদের কথা অগোছালো, উদ্দেশ্যহীন, মনে হয় যেন বিতর্ক তৈরির জন্যই আনা হয়। প্রশ্ন আসে ভারতের ১৬ কোটি মুসলিমের মধ্যে কি এমন কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা নেতা নেই, যারা বিপদগ্রস্ত ভারতীয় মুসলিমদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন?

বাংলাদেশে পথ হারিয়েছে বামেরা ?

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের বামপন্থীদের রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাজনীতি মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা, গরিব, দুঃখীদের নিয়ে কথা বলা, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, অল্পের কথা বলা, সংখ্যালঘুদের কথা বলা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ করার মধ্যেই আবর্তিত।
কিন্তু বাঙ্গু বামেরা এখনো ৭১, স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী, রাজাকার, আলবদর, টিপ, ওড়না, হুজুর, ফতোয়া, মৌলবাদ এই সীমানার বাইরে যেতে পারেনি।
তাহলে এরা সাধারণ মানুষের কাছে যাবে কখন?

এ কারণেই এই বাঙ্গু বামরা কোনদিনই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সমর্থন পাবে না । দেখেন, বামদের প্রকৃত শক্তি তো সাধারণ খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষরা। অথচ বাংলাদেশে আমরা যেটা দেখি ,মেহনতি মানুষেরাই বামদের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করে। কি আইরনি !

পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বামদের political leadership বা political party গুলোকে দেখেছি, তাদের ভেতর একটা স্বাভাবিক charisma থাকে। তাদের নেতাদের আলাদা এক ধরনের সম্মোহনী গুণ থাকে যা সাধারণ মানুষ সহজেই এই বাম এবং তাদের politics এর সাথে নিজেদের relate করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বামদের মধ্যে, সত্যি বলতে এ রকম কিছুই নেই; কিঞ্চিৎ পরিমাণও না।

আমাদের বুঝতে হবে, বামদের politics মানেই real politics। এবং এটা মানতেই হবে যে real politics কিংবা বাস্তববাদী politics যদি কেউ করে থাকে, সেটা হচ্ছে বাম এবং বাম রাজনীতিবিদরা।
বামদের রাজনীতি বা পলিটিক্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানুষ ও তার অধিকার। তার রাজনীতির মূল কেন্দ্রই হল মানুষ। 

কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে, এই বাঙ্গু বামদের কাছে সাধারণ মানুষ কোনো গুরুত্বই পায় না; যেন সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন। এরা উদ্ভট চিন্তাচেতনা ও মতবাদের ভেতর পড়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বুঝবে কখন? আর সাধারণ মানুষ কিভাবে তাদের বুঝবে, এই পথ আবিষ্কার করবে কখন?
যেখানে বামদের সাথে রিলেট করতে পারার কথা সাধারণ খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কিন্তু বাংলাদেশের বামদেরকে সবচেয়ে বেশি relate করে এলিট শ্রেণী, ধনী শ্রেণী, ব্যবসায়ী শ্রেণী। যেখানে সাধারণ মেহনতি মানুষ, যারা প্রকৃত শক্তি, তারা বামদের সাথে মোটেই relate করতে পারে না। এটা কি বামরা বুঝতে পারছে? আদৌ কি তারা উপলব্ধি করছে? আমার মাথায় আসে না।

বাংলাদেশের বামেরা তাদের প্রকৃত politics সাধারণ মানুষ ও জনগণের রাজনীতিতে ফিরুক। সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলুক। এবং বামরা যে real politics করে, এটা যেন বাংলার সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে এবং বামদের উত্থান ঘটুক , এই আশাবাদ রাখি।

সমালোচনাতেই শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হইয়া উঠবেন

শেখ মুজিবুর রহমানকে এতদিন আওয়ামী লীগ ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে উঠতে দেয়নি। বর্তমান সময়ে থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবেন এবং অলরেডি উঠতে শুরু করেছেন। দেখুন, একটা দেশের জাতীয় বীরকে বা জাতীয় নায়ককে মানুষ তখনই আইডেন্টিফাই বা রিকগনাইজ করতে পারবে, যখন দেশের আপামর জনতা তাকে সমালোচনা করতে পারবে, তার কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারবে। এতদিন আওয়ামী লীগ বাংলার জনগনকে যেটা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা ও তার কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে দেয়নি।

শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের এলিট শ্রেণিরা বাংলাদেশের জনগণের নিকট এতদিন প্রফেট ও সেক্রেড করে রেখেছিল। যেটা সাধারণ জনগণ মেনে নেয়নি। এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান তাদের আমলে রিয়েল বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠতে পারেননি । আপনি দেখবেন পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান আবার তার সমহিমায় বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবেন এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ জনতা তাকে বঙ্গবন্ধু হিসেবেই জানবেন এবং চিনবেন , এতে কোন সন্দেহ নেই। 

আপনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকান, মহাত্মা গান্ধী এ কারণেই “মহাত্মা” কারণ তার দেশের সাধারণ জনগণ সকাল-বিকেল তার সমালোচনা করতে পারে, তার প্রত্যেকটা কর্মের কাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে এবং তার অতীত কর্মকাণ্ডকে মানুষ সঠিক ও বেঠিক মানদন্ডের ভিত্তিতে বিচার করতে পারে । ইভেন আপনি অবাক হবেন ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে ভারতীয়রা গালি দেয়, তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে , তাতে কি তার সম্মান বা মাহাত্ম কমে গেছে? কমেনি, বরং বেড়েছে এবং বাড়ছেই। আবার আপনি পাকিস্তান রাষ্ট্রের দিকে তাকান ওইখানে জিন্না সাহেবকে ঠিক আপনার শেখ মুজিবের মতই সেক্রেট এবং প্রফেট করে রাখার ফলে তার মাহাত্ম্য মহাত্মা গান্ধীর মত এত ব্যাপক হতে পারেনি , কারণ পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ জিন্নাহ সাহেবের কর্মকাণ্ডকে ঠিক বেঠিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করতে পারেনা । সুতরাং বাংলাদেশেরও উচিত আমাদের রাষ্ট্রীয় নায়ক ও রাষ্ট্রের মাহাত্মাদের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, তাদের সমালোচনা করা এবং জনগণকে তাদের সমালোচনা করার সুযোগ দেওয়া।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় নায়কেরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক , তারা দল মত নির্বিশেষে সকলের হইয়া উঠুক , এই কামনা করি। বাংলাদেশের জাতীয় নায়কদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হোক, সাধারণ জনগণ যেন জাতীয় নায়ক ও বীরদের প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারে এবং নেগেটিভ কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা যোগ্য হিসেবেই সমালোচনা করতে পারে, এই সুযোগ রাষ্ট্র জনগণকে করে দিক এই আহ্বান রাখি । আবার প্রত্যেকটা জাতীয় বীর ও নায়ক তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক এবং রাষ্ট্রীয় মহত্ব মর্যাদার সাথে তাদের স্মরণ করা হোক । কেউ বিস্মৃত না হয়ে থাকুক এই আহ্বান রাখি।

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...