ডেইলি ব্লগ -০১
২৩/১২/২৫
আজ সকালে দেরিতে ঘুম ভেঙেছে, কারণ গত রাতে অনেক দেরি পর্যন্ত জেগে ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়টা কোনো প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যবহার হয়নি, বেশিরভাগই কেটেছে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইমে, যা এখন স্পষ্টভাবে আমার কাছে অনুশোচনার বিষয়। এর ফল হিসেবে সকালে দেরিতে ওঠায় দিনের প্রোডাক্টিভ সময় ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি, আর নিয়মিত হাঁটার যে অভ্যাসটা শুরু করেছিলাম সেটাতেও আজ বিরতি পড়ে গেছে। প্রায় দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হই। এরপর ইসমাইল ভাইয়ের দোকানে গিয়ে চা খাই। সেখানে পাঁচটা বাচ্চার সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটে, যা এক অর্থে ভালোই “কোয়ালিটি টাইম” ছিল।
এই সময়টায় একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করলাম। আধুনিক সময়ের যে নতুন আলফা জেনারেশন আসছে, তাদের ভবিষ্যৎ আমি এই চার–পাঁচজন বাচ্চাকে দেখেই পুরোপুরি বিচার করছি না, কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তারা অনেক বেশি ফ্রি, ভয়হীন, লাজুক নয়, লজ্জাবোধ বা বিব্রত হওয়ার প্রবণতা কম। আলফা জেনারেশনের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক মানসিকতা, সেটা তাদের মধ্যে স্পষ্ট ছিল।
আমাদের সমাজে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, জেন জি বা বর্তমান প্রজন্মের একটা অংশ যেভাবে আলট্রা-ন্যাশনালিস্টিক, কড়া কালচারাল ফ্রেম তৈরি করতে চাচ্ছে, আমার মনে হয় এই আলফা জেনারেশন সেই মানসিকতাকে অনেকটাই ভেঙে দেবে। তবে এখানে একটা কনট্রাডিকশনও আছে।
ওই বাচ্চাগুলো না হিন্দি গান জানে, না বাংলা গান। তারা শুধু ভোজপুরি গানই জানে। ইদানীং আমাদের সমাজে এই প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অর্থাৎ আমরা শুধু আধুনিক বা উচ্চমানের কালচারের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি না, বরং নিম্নমানের বা তথাকথিত “বেড কালচার”-এর মাধ্যমেও আমাদের কালচার গড়ে উঠছে। এটা একটা বাস্তব উদাহরণ। এরপর বাসায় ফিরে বেশিরভাগ সময় রুমেই ছিলাম। আজকে আমার দ্বারা একটা খারাপ কাজও হয়ে গেছে। আমার এক খালাতো ভাই ফিজিতে থাকে। সে হোল্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছিল, আর আমি সেই টাকা উত্তোলন করেছি। বিষয়টা করতে গিয়ে ভীষণ বিব্রত বোধ করেছি, কিন্তু না করতেও পারিনি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে হেফাজত করেন।
সবশেষে, এশার পর সজীব দেশের সঙ্গে কথা হলো। কিছু সময় ভালোভাবেই কাটালাম। দীর্ঘ একটা হাঁটা হয়েছে এশারের পর বাসির, আমি আর নাইম
এই ছিল আজকের দিন।
আজকের পুরো দিনের ব্যস্ততার ভেতরেও বাস্তবে কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ হয়নি। নামাজের সময়গুলোও বেশিরভাগ রুমের মধ্যেই কেটে গেছে। সাহেদ আমাকে একটা জানাজায় যাওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি সেই জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি।
তবে আজকের দিন থেকে কিছু বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি, এগুলো থেকে আমাকে সচেতনভাবে বেঁচে থাকতে হবে। যেমন, অপ্রয়োজনে বেশি হাসা, জোরে শব্দ করে হাসা, এই আচরণগুলো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি আজকে কিছু গালিগালাজও হয়ে গেছে, যা একেবারেই অনুচিত। আরও খারাপ লাগার বিষয় হলো, মাঝে মাঝে গিবত করে ফেলেছি অজান্তিকভাবেই। শুধু তাই না, গিবত শুনেছিও। এই বিষয়গুলোকে আমাকে খুব টেকনিক্যাল ও সচেতনভাবে ট্যাকল করতে হবে। কথাবার্তায় স্ল্যাং ব্যবহার করা যাবে না, এই সিদ্ধান্তটা আরও শক্তভাবে নিতে হবে।
আজকে আরেকটা গুরুতর ভুল হয়েছে। আম্মার পার্শ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ফেলেছি, যেটা আসলে চুরি হিসেবেই গণ্য হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে রক্ষা করুন।
খরচের দিক থেকেও আজকের দিনটা ভালো ছিল না। মোটামুটি চারশো থেকে সাড়ে চারশো টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে, আর এর বেশিরভাগ খরচই অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। তবে ইসমাইল ভাই আমার কাছে একশো টাকা পাওনা আছে, এটা আলাদা করে মনে রাখতে হবে।


No comments:
Post a Comment