সমালোচনাতেই শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হইয়া উঠবেন

শেখ মুজিবুর রহমানকে এতদিন আওয়ামী লীগ ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে উঠতে দেয়নি। বর্তমান সময়ে থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবেন এবং অলরেডি উঠতে শুরু করেছেন। দেখুন, একটা দেশের জাতীয় বীরকে বা জাতীয় নায়ককে মানুষ তখনই আইডেন্টিফাই বা রিকগনাইজ করতে পারবে, যখন দেশের আপামর জনতা তাকে সমালোচনা করতে পারবে, তার কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারবে। এতদিন আওয়ামী লীগ বাংলার জনগনকে যেটা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা ও তার কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে দেয়নি।

শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের এলিট শ্রেণিরা বাংলাদেশের জনগণের নিকট এতদিন প্রফেট ও সেক্রেড করে রেখেছিল। যেটা সাধারণ জনগণ মেনে নেয়নি। এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান তাদের আমলে রিয়েল বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠতে পারেননি । আপনি দেখবেন পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান আবার তার সমহিমায় বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবেন এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ জনতা তাকে বঙ্গবন্ধু হিসেবেই জানবেন এবং চিনবেন , এতে কোন সন্দেহ নেই। 

আপনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকান, মহাত্মা গান্ধী এ কারণেই “মহাত্মা” কারণ তার দেশের সাধারণ জনগণ সকাল-বিকেল তার সমালোচনা করতে পারে, তার প্রত্যেকটা কর্মের কাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে এবং তার অতীত কর্মকাণ্ডকে মানুষ সঠিক ও বেঠিক মানদন্ডের ভিত্তিতে বিচার করতে পারে । ইভেন আপনি অবাক হবেন ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে ভারতীয়রা গালি দেয়, তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে , তাতে কি তার সম্মান বা মাহাত্ম কমে গেছে? কমেনি, বরং বেড়েছে এবং বাড়ছেই। আবার আপনি পাকিস্তান রাষ্ট্রের দিকে তাকান ওইখানে জিন্না সাহেবকে ঠিক আপনার শেখ মুজিবের মতই সেক্রেট এবং প্রফেট করে রাখার ফলে তার মাহাত্ম্য মহাত্মা গান্ধীর মত এত ব্যাপক হতে পারেনি , কারণ পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ জিন্নাহ সাহেবের কর্মকাণ্ডকে ঠিক বেঠিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করতে পারেনা । সুতরাং বাংলাদেশেরও উচিত আমাদের রাষ্ট্রীয় নায়ক ও রাষ্ট্রের মাহাত্মাদের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, তাদের সমালোচনা করা এবং জনগণকে তাদের সমালোচনা করার সুযোগ দেওয়া।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় নায়কেরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক , তারা দল মত নির্বিশেষে সকলের হইয়া উঠুক , এই কামনা করি। বাংলাদেশের জাতীয় নায়কদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হোক, সাধারণ জনগণ যেন জাতীয় নায়ক ও বীরদের প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারে এবং নেগেটিভ কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা যোগ্য হিসেবেই সমালোচনা করতে পারে, এই সুযোগ রাষ্ট্র জনগণকে করে দিক এই আহ্বান রাখি । আবার প্রত্যেকটা জাতীয় বীর ও নায়ক তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক এবং রাষ্ট্রীয় মহত্ব মর্যাদার সাথে তাদের স্মরণ করা হোক । কেউ বিস্মৃত না হয়ে থাকুক এই আহ্বান রাখি।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...