মডার্ন দুনিয়ায় আদর্শিক রাষ্ট্র বলে আসলে কিছু নেই, ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আদর্শিক রাষ্ট্র সব সময় মাল্টি-কালচারাল ও মাল্টি-রিলিজিয়াস বিশ্বাসে আস্থাশীল। সুতরাং বর্তমানে রাজনীতিবিদরা কিংবা যারা নিজেদের আদর্শিক বলে মনে করেন, তারা যদি নিজেদের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শকে ভালোভাবে যাচাই করেন, তাহলে দেখবেন তারা সত্যিই মাল্টি-কালচারালিজম, মাল্টি-ন্যাশনালিজম কিংবা মাল্টি-রিলিজিয়নকে তাদের আদর্শিক রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে স্থান দিতে ইচ্ছুক কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর পেলেই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর এ মডার্ন দুনিয়ায় আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে না এ কারণেই যে এর রাজনীতিবিদরা যেমন দুর্নীতিবাজ এবং ধান্দাবাজ বিপরীত পক্ষে তার জনগণও প্রচন্ডরকম অসৎ এবং দুর্নীতিপরায়ণ, অসততা, দায়িত্বহীনতা , কাণ্ডজ্ঞানহীনতার মত অনেক ব্যাড কোয়ালিটি তাদের মধ্যে বিরাজমান । এর ফলেই আধুনিক সময়ে আদর্শিক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ক্রমহ্রাসমান খেয়াল করবেন। এবং অধিকাংশ জনগণ হচ্ছে মাল্টি কালচার মাল্টিন্যাশনালিজম মাল্টি রিলিজিয়নকে অস্বীকার করে।
একটা আদর্শিক রাষ্ট্রের বিষয়টা আসলে খুবই মজাদার। মজাদার এই কারণে যে, কোনো রাষ্ট্র শুধু রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনেতার কারণে আদর্শিক, মডার্ন, আধুনিক কিংবা দুর্নীতিহীন ও শৃঙ্খল রাষ্ট্রে পরিণত হয় না। মূল বিষয়টা যায় বটম-টু-আপ প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ অধিকাংশ জনগণ যদি সৎ হয়, অধিকাংশ জনগণের মধ্যে যদি সিভিক সেন্স থাকে, যদি শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা শক্তভাবে কাজ করে, তাহলেই সেই রাষ্ট্র আদর্শিক হওয়ার পথে এগিয়ে যায়। জনগণের ভালো হওয়াটাই মূল চালিকাশক্তি; সেই কারণেই একটি রাষ্ট্র আদর্শিক রূপ নিতে তুলনামূলকভাবে অগ্রগামী হয়ে ওঠে। ফলে একটা আদর্শিক রাষ্ট্রে যতটা রাষ্ট্রনায়কের বেশি প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতন সদযোগ্য নাগরিকের অর্থাৎ আদর্শিক রাষ্ট্রের পূর্ব শর্ত হচ্ছে জনগণের আদর্শ জনগণ যেন সৎযোগ্য দক্ষ বিবেকবান হয়।
আর এই আধুনিক সময়ে, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের যুগে, এমনকি ব্যক্তি-স্বৈরাচারিতার যুগে, মানুষকে সম্পূর্ণ সভ্য, দক্ষ ও শৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখানে মানুষ রাষ্ট্রকে ভয় পায়, কিন্তু রাষ্ট্রের আইনকে সম্মান করতে শেখে না। ফলে মানুষ ভয়ের কারণে আইন মানে, নৈতিকতা বা দায়িত্ববোধের কারণে নয়। রাষ্ট্র এখানে শ্রদ্ধার জায়গা হারিয়ে কেবল ক্ষমতার প্রতীকে পরিণত হয়, আর সেখানেই মূল সমস্যাটা।
এই আধুনিক সময়ে মানুষের যে গভীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, সেই বিচ্ছিন্নতার ফলেই দুর্নীতি, অসততা, অদক্ষতা ও অবহেলার মতো নেগেটিভ গুণগুলো বেড়ে উঠছে। এর ফলে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে নাগরিকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে মজার ও বিপজ্জনক বিষয় হলো, সোসাইটি ও রাষ্ট্রের মধ্যকার পার্থক্য, আর ব্যক্তি ও নাগরিকের মধ্যকার পার্থক্য, এই দুটোই এখন এক ধরনের গ্যাপে পড়ে গেছে।
আসলে ব্যক্তি থেকেই সোসাইটি তৈরি হয়, আর সোসাইটি থেকেই রাষ্ট্র। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের কার্যক্রমে সোসাইটির মূল্য ও উপস্থিতি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্র কেবল ব্যক্তির ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, বা নাগরিককে শুধু প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে দেখছে—যার কারণে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
এই কারণেই আধুনিক সময়ে আদর্শিক রাষ্ট্রের নানা সমস্যা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বাস্তবে আদর্শিক রাষ্ট্র কখনোই গড়ে ওঠে না। যদি কোনো রাষ্ট্র তার সোসাইটিকে টিকিয়ে রাখতে পারে, যদি রাষ্ট্র সোসাইটির ভ্যালু ও ভূমিকার শতভাগ স্বীকৃতি দিতে পারে, তখনই কেবল একটি রাষ্ট্র আদর্শিক রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারে। কারণ একটি সোসাইটিই পারে তার দেশের জনগণকে, নাগরিককে এবং সামাজিক মানুষকে সভ্য, যোগ্য, দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। একটি রাষ্ট্র একা কখনোই সেটা পুরোপুরি পারে না। একটা রাষ্ট্রের যখন তার নাগরিকের লার্নিং প্রসেস সোশ্যালাইজেশন শিখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে তখন সোসাইটির ভূমিকাটা কমে যায় ফলে ঝামেলাটা তৈরি হয় দেখেন সোশ্যালাইজেশন লার্নিং শিখুন সবকিছু ভূমিকাতে সোসাইটিকে অগ্রগামী রাখতে হবে কারণ রাষ্ট্র তার নাগরিককে শেখাবে হাউ টু বি এ কম্পিউটার সিটিজেন বাট একটা সোসাইটি তার ব্যক্তিবর্গ কে শেখায় হাউ টু বি এ গুড হিউম্যান বি ং দ্যাটস দ্যা ডিফারেন্স বিটুইন সোসাইটি অ্যান্ড স্টেট।
আর এই মডার্ন দুনিয়ায় সোসাইটির ভূমিকা কমে যাওয়ার কারণেই কিংবা সোসাইটির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হওয়ার কারণে আদর্শিক রাষ্ট্র কখনোই প্রতিষ্ঠিত লাভ করবে না করতেও পারবেন না।
No comments:
Post a Comment