একটি রাজনৈতিক দলের আত্মিক বা রুহানিয়াতের মৃত্যু তখনই ঘটে, যখন সমাজ বা দেশের সাধারণ জনগণ ওই দলের নেতা-কর্মীদের ভয় পেতে শুরু করে।
যখন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা দেশে ও সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়, কিংবা এমন আচরণ ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় যা সাধারণ মানুষের কাছে ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তখন সেটি স্পষ্টভাবে ওই রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে মৌলিক আদর্শ ও ঘোষিত ম্যানিফেস্টোর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানকে নির্দেশ করে। সুতরাং সেই রাজনৈতিক দলকে ভয় পাওয়ার পেছনে সাধারণ জনগণের যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়। এই ভয় থেকেই একসময় জনগণ ওই দলটিকে আর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই বোঝা উচিত, দলের সুপ্রিম নেতা কিংবা উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব যতই জ্ঞানী, দক্ষ বা আদর্শবান হোক না কেন যদি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ নেতাকর্মী দ্বারা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, তবে সেই রাজনৈতিক দল একটি দেশ পরিচালনার নৈতিক বৈধতা হারিয়ে ফেলে। ভয়ের কারণ যাই হোক না কেন, এই ভয়ই হলো পতনের প্রথম ও সবচেয়ে নিশ্চিত লক্ষণ। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা হারানোর আগেই পতনের শিকার হতে পারে যখন সাধারণ জনগণ তাকে ভয় পায়, তার দ্বারা আতঙ্ক তৈরি হয় এবং জনগণ আর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কিত করতে পারে না। এই অবস্থায় জনগণ ওই রাজনৈতিক দলকে এড়িয়ে চলে, এমনকি ঘৃণার চোখে দেখতে শুরু করে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এর চেয়ে বড় পতন আর কী হতে পারে?
যখন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা এমন আচরণ বা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যার ফলে সমাজের সাধারণ মানুষ তাদের ভয় পেতে শুরু করে, তখন বুঝে নিতে হবে ওই রাজনৈতিক দলটি রুহানিয়াতি বা আত্মিকভাবে মৃত্যুর পথে অগ্রসর হচ্ছে।
এই বাস্তবতা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গভীরভাবে অনুধাবন করা জরুরি।
আবার দেখেন, কোনো দলের সুপ্রিম লিডার বা উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব যতই ভালো হোক না কেন, তাদের পরিকল্পনা ও নীতিমালা যতই উৎকৃষ্ট হোক না কেন যদি দলের কর্মীদের আচরণ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে এবং সমাজে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই দল আর টেকসই থাকে না। তখন সেই দল আর জনগণের দল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার অবস্থানেও থাকে না। যখন জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কর্মকাণ্ডের কারণে ভয় পেতে শুরু করে, তখন স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে ওই রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সুতরাং প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই এই বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক।
No comments:
Post a Comment