চাই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি!

মরা যে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখে এসেছি, সেখানে রাজনীতি মানেই একে অপরকে খোঁচা দেওয়া, বক্রভাষায় কথা বলা, উস্কানি দেওয়া, আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা এবং গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধানো, এগুলোই যেন রাজনীতি। এক দল আরেক দলকে গুঁতা না দিলে যেন তাদের রাজনীতি হয় না।

এই পুরনো ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিসরকে নষ্ট করে ফেলেছে, এ কথা আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি। এইসব রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে কোনো সৌজন্যবোধ, শালীনতা, ন্যূনতম শিষ্টাচার নেই। কোনো সততা বা উদারতা নেই। তাদের ভাষায় আপনি শালীনতার লেশমাত্রও দেখবেন না। মনে হবে যেন বস্তির অশিক্ষিত, অসভ্য মানুষ রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভয়ংকর ব্যাপার হলো, দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষাও জঘন্য এবং অযোগ্যতার পরিচায়ক।

আপনি তাদের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতি বা জনগণের মঙ্গল নিয়ে কোনো আলোচনা শুনবেন না। এমনকি যদি সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের আলোচনা শোনেন, আপনার বমি পাবে, এ যেন অশিক্ষিত, মূর্খ, অসভ্যদের মতো গায়ে পড়ে ঝগড়াঝাঁটি করা। এটাই আমাদের রাজনৈতিক দলের মুখের ভাষা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া।

আর একটি বড় সমস্যা হলো, যেসব বুদ্ধিজীবী এই রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন করেন, তাদের দর্শন দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, নীতি-নির্ধারণে সহযোগিতা করেন, তারাও সেই একই জঘন্য ভাষায়, অশ্লীলতায় লিপ্ত হন। তারা পুরনো রাজনৈতিক হিরোদের গুণগান করেন, কী কী অর্জন করেছেন, কত মহান ছিলেন, এই সব বস্তাপচা কথাবার্তা দিয়ে তারা সুবিধাবাদী হয়ে ওঠেন, ক্ষমতার ভাগীদার হতে চান। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও শিখতে দেন না, তারা বন্য জন্তু জানোয়ারদের মতো ক্ষমতা দখল করতে ও প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এর বাইরে আপনি তাদের কাছ থেকে আর কিছুই দেখতে পাবেন না।

তাই আমার NCP-সহ সব নতুন দলের প্রতি অনুরোধনতুন দল হিসেবে আপনারা গায়ে পড়ে ঝগড়া করবেন না, উস্কানিমূলক কথা বলে রাজনৈতিক পরিসরকে উত্তপ্ত করবেন না। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিশুদ্ধ করুন এবং নতুন বাংলাদেশের নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখুন। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে NCP একটি নতুন দল। নতুন দল হিসেবে আমরা আশা করি তারা আমাদের জন্য নতুন কিছু উপহার বয়ে আনবে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...