একটা রাষ্ট্র কতটা অগোছালো, অনিয়ন্ত্রিত এবং দুর্নীতিপরায়ণ হলে মানুষের জীবনের মূল্যকে এতটা হেয় করতে পারে? দেখুন, সেখানে শুধু শত শত মানুষই মারা যায়নি, সেখানে প্রাণ হারিয়েছে শত শত শিশু। একটি প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু এবং একটি শিশুর মৃত্যু কখনোই এক নয়।
মাইলস্টোনের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের জাতিকে কতটা নাড়া দেবে, তা আমাদের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ঘটনার দায়ভার কার? কোন কর্তৃপক্ষ এই দায় নেবে? বিমান বাহিনী? সশস্ত্র বাহিনী? বাংলাদেশ সরকার? শিক্ষা মন্ত্রণালয়? নাকি মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ?
আবার প্রশ্ন আসে, দায় স্বীকার করলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? এই হারিয়ে যাওয়া অমূল্য প্রাণগুলোর ক্ষতিপূরণ কি আদৌ সম্ভব? আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী, যেখানে প্রতিটি ভুলের পরিণাম হয় বিপর্যয়কর?
তবে সবকিছু রাষ্ট্র, সমাজ বা সমাজপতিদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। আমাদের নিজেদেরও দায়িত্ব আছে। দেশে কোনো বড় ঘটনা ঘটলেই যেন গোটা জাতি ফেসবুকে ঝড় তোলে। এক ধরনের সাইবার মব তৈরি হয়, যেখানে প্রত্যেকে নিজের মত, অনুমান, এমনকি ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এতে কি আদৌ কোনো ভালো ফল আসে?
জরুরি পরিস্থিতিতে এমন আচরণ বরং আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাই আমাদের উচিত ধৈর্য ধরা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। সত্য উদঘাটন হোক, এটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব, যেন মিথ্যা খবর আর প্রোপাগান্ডার সয়লাব না হয়।
মাইলস্টোনের ঘটনার পরও আমরা দেখলাম, ফেসবুকে ছড়ানো অধিকাংশ প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বিশ্লেষণ মূলত শিক্ষিত শ্রেণীর হাতেই তৈরি হচ্ছে। যারা নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে, তারাই কোনো দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ আকারে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।
জাতি হিসেবে আমাদের একটি আত্মসমালোচনার দরকার। বুঝতে হবে, কখন, কোথায়, কীভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। তথ্য পেলেই সেটি যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া কোনো দায়িত্ব নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই একটি ন্যূনতম সামাজিক দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্ব পালন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

No comments:
Post a Comment