ধর্ম, ইউনিটারি গ্লোবাল কালচার ও জাতীয়তাবাদ

আগামির বিশ্বে ‘ন্যাশনাল কালচার’ বলে আলাদা করে কিছু টিকে থাকবে না। যে বিশ্ব এখন রয়েছে কিংবা সামনে যা আসছে, সেখানে মূলত দুইটি প্রধান কালচারের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব দেখা দেবে, একটি হলো ধর্মীয় কালচার, অন্যটি বৈশ্বিক ইউনিটারি কালচার। তবে, সকল ধর্মীয় কালচার যে এই ইউনিটারি কালচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, তা নয়। শুধুমাত্র সেই ধর্মীয় কালচারগুলোই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, যেগুলোর ভিতর শক্ত সাংস্কৃতিক ভিত্তি রয়েছে। এমন তিন থেকে চারটি ধর্ম এই কালচার হতে পারে; এর মধ্যে ইসলামিক কালচার, বৌদ্ধ এবং জিউইশ কালচার উল্লেখযোগ্য। 

তবে বৌদ্ধ ও জিউইশ কালচার অনেকটাই সিক্রেট এবং তাদের অভ্যন্তরে ইনক্লুসিভনেস ও সেক্রেসি বজায় থাকে , বলে তারা বৈশ্বিক কালচারে পরিণত হতে পারবে না। এর বিপরীতে, ইসলামিক কালচারের মধ্যে রয়েছে একটি বৈশ্বিক রূপ নেওয়ার সামর্থ্য। এন্ড ওয়েস্টার্ন কালচারের সাথে হোয়াইট দেওয়ার মত রসদ ইসলামিক কালচারের মধ্যে রয়েছে এবং যেটা অলরেডি দিচ্ছে। 

অন্যদিকে, ইউনিটারি বা বৈশ্বিক কালচারের প্রধান বাহক হয়ে উঠবে সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, হিপ-হপ, পপ কালচার ইত্যাদি। এই ইউনিটারি কালচারে আমেরিকা, কোরিয়া এবং বলিউডের মতো কিছু টিভি ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রভাব প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হবে। যদিও এই গ্লোবাল কালচারে ক্রিশ্চিয়ান ভাবধারার কিছু অংশ, বিশেষ করে টিভি, সিনেমা, বলিউড, হলিউড কিংবা K-pop ইন্ডাস্ট্রির নির্দিষ্ট কিছু উপাদান বজায় থাকবে, তবু এর মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে এক ধরনের সেকুলার ও কনজিউমারিস্ট মূল্যবোধ, যার প্রভাব হবে সুগভীর ও বিস্তৃত।

তবে এই কালচারাল দ্বন্দ্ব একপাক্ষিক হবে না; বরং একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যেমন, ইউনিটারি কালচারের সঙ্গে ইসলামিক রিলিজিয়াস কালচারের এক ধরনের এসিমিলেশন ঘটতে পারে, যার ফলে এক নতুন ধাঁচের কালচারের জন্ম হতে পারে। আবার তা এক ধরনের কেয়োটিক ও ডিরেকশনলেস কালচারে (directionless culture) রূপ নিতে পারে। ধরে নেওয়া যায়, এই কালচারাল দ্বন্দ্ব দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এবং শেষ পর্যন্ত গ্লোবাল কালচারই ‘আপার হ্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, একটি প্রভাবশালী ও নিয়ামক সংস্কৃতি হিসেবে। তবে, এর মানে এই নয় যে অন্যান্য কালচার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে; বরং তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মহিমা কোনো না কোনোভাবে টিকে রাখবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যতই আমরা প্রতিটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করি না কেন, বাস্তবে প্রত্যেক জাতি ও ধর্মের নতুন প্রজন্ম বা ইয়াং জেনারেশন তাদের নিজস্ব কালচারের প্রতি এক ধরনের হিমশীতল মনোভাব পোষণ করে, তারা অনেক সময় এক ধরনের হিউমিলিয়েশনে (humiliation) থাকে। ফলে, ‘ন্যাশনাল প্রাইড’ বা জাতীয় গৌরবের সংস্কৃতি তারা আর বাস্তব জীবনে প্র্যাকটিস করে না, বরং ধীরে ধীরে তা থেকে সরে আসে। এখানেই জাতীয়তাবাদ বা ন্যাশনালিজমের একটি গভীর ব্যাকফায়ার দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...