সমাজ, সংহতি ও ব্যক্তির অবস্থান










১.
মানুষ সমাজে শান্তিতে বাস করতে চায়, ঝামেলামুক্ত জীবনযাপনের জন্য তাকে সমাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। সমাজ মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে শান্তি দিতে চায়, এবং এজন্যই সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে পূর্ণ আনুগত্য ও শৃঙ্খলা প্রত্যাশা করে। সমাজ তখনই তার পরিপূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত হয়, যখন এটি সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তির সামষ্টিক চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা ও কামনা-বাসনাকে মেনে নেয়। একজন ব্যক্তির কাছে সমাজের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়; মূলত সমাজ চায় যে ব্যক্তি আনুগত্য প্রদর্শন করবে, আইন মেনে চলবে এবং সমাজের নিয়ম-কানুন, প্রথা ও লোকাচারকে সম্মান করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। এর বাইরে সমাজের ব্যক্তির কাছে আর কোনো চাহিদা নেই। ব্যক্তি যদি সমাজকে এই সবকিছু প্রদান করে, তাহলে সমাজও তাকে শান্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেয়।

২.

ব্যক্তি ও সমষ্টির চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ে সমাজ পরিচালিত হয়। তবে আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে ব্যক্তি ও সমষ্টির চাহিদা আলাদা আলাদাভাবে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু এই ভিন্ন চাহিদার মধ্যে একটি সংহতি থাকা আবশ্যক। সামাজিক সংহতি না থাকলে সমাজ সবার সমষ্টিগত আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে পারে না, এবং এর ফলে সমাজ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। মানুষ এমন এক জীব, যার চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার তালিকা অনেক বড়। সমাজ এই বড় তালিকার চাহিদাকে তার ছোট পরিসরে পূরণ করতে চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়। আবার সমাজ সবসময় সমষ্টিকে প্রাধান্য দেয়, ফলে সমাজের কাছে ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ব্যক্তি মূল্যহীন না হলেও সমাজের কাছ থেকে সে পূর্ণ মূল্যায়ন পায় না। তবে এটাই স্বাভাবিক; না হলে সমাজ তার গতিশীলতা হারাবে এবং অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। কিন্তু সমষ্টি সমাজের কাছে সবসময়ই প্রিয়, এবং সমষ্টিও সমাজের উদ্দেশ্যকে প্রতিনিয়ত সেবা করে যায়।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...