১.
গণতন্ত্র কি বলে? সব মত, পথ, চিন্তা-ধারার মানুষ রাজনীতি করতে পারবে, তাদের চিন্তাধারা প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রকাশ্যে তাদের কার্যকলাপ জারি রাখতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশে যে ঝামেলাটা তৈরি হয়েছে, যখন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ভাবে সচেতন জনগণ আপনার গণতন্ত্র মেনে নিয়েছে, তখন অবশ্যই তাদের প্রকাশ্য এবং পুরোপুরিভাবে তাদের চিন্তা-চেতনা ও মত-পথকে প্রকাশ করতে দেওয়া উচিত। সেকুলার হিসাবে যখন রাজনীতি করবেন, তখন আপনি আপনার সমস্ত চিন্তাধারার নিয়েই রাজনীতি করবেন, আপনি সেটা প্রচার এবং প্রসার করবেন, কিন্তু জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। জোর করে চাপিয়ে দেওয়াটাই ফ্যাসিবাদ বা ফ্যাসিজমের মধ্যে পড়ে। এই যে ভিন্ন সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশনের বিশ্বাসী যারা, তাদের রাইটে নিয়ে আপনার কনসার্ন থাকতে পারে, কিন্তু আপনি যদি গনের রাজনীতি করতে চান, আপনাকে গণ মানুষের চিন্তার দিকেই আপনার অবস্থানের জানান দিতে হবে। আপনি দেখছেন, গণমানুষ আপনার এই রাইট নিয়ে নেতিবাচকভাবে সোচ্চার সুতরাং, আপনার উচিত এ বিষয়টাকে চেপে দেওয়া এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার সাথে সাথ দেওয়া।
২.
আপনাকে এটাও বুঝতে হবে, বর্তমানের দুনিয়ায় রাজনীতি হচ্ছে পপুলিজমের রাজনীতি। এখন গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, কামনা, চাওয়া-পাওয়া, এগুলাকেই গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। এই গনের রাজনীতি বা পপুলিজমের রাজনীতি কিন্তু আমরা তৈরি করিনি, এইটা তৈরি হচ্ছে লিবারেল দেশগুলো থেকে, অর্থাৎ পশ্চিমা বিশ্ব থেকে। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের লিবারেলরা গত ৫০ থেকে ৬০ বছর পৃথিবীকে যেভাবে জোর করে বিভিন্ন মতবাদ, চিন্তা-চেতনা, হাবিজাবি রাইটের কথা বলেছে, তার আসলে কোন গ্রাউন্ডই নাই, এবং মানুষকে এইসব মানতে তারা বাধ্য করেছে যা আবার তাদের গণমানুশেরা কখনোই এইসব পছন্দ করেনি, তারা মনে করেছে এইসব বিষয় তাদের জোর করে চাপিয়ে দেয়া। এর ফলেই পশ্চিমা বিশ্বের মানুষেরা মুক্তির পথ হিসেবে পাগলা ধরনের হলেও পপুলিস্ট রাজনীতিবিদদের তাদের ত্রাতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। তারা নির্বাচিত হচ্ছে, হাবিজাবি চিন্তা ধারা, ও রাইটস গুলোকে বাতিল করে দিচ্ছে।
৩.
দেখেন, আপনার শক্তি-সামর্থ্য আছে তাহলে আপনি পপুলিস্ট হলেও রাজনীতিতে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারবেন। সুতরাং, আপনি আপনার শক্তি-সামর্থ্যে অটল থাকেন, কিন্তু গনের বিরোধী হন না, কারণ এরাই আপনার শক্তি। আপনি যে নয়া বন্দবোস্তের কথা বলছেন, এরাই সেটা আপনাকে হতে দেবে। আপনার নয়া বন্দবস্ত হবে গণমানুষের রাজনীতি আমাদেরকে এটাও বুঝতে হবে, গণমানুষ আসলে বিশাল বড় কিছু চায় না। গণমানুষ দেশকে উন্নতির চরম শিখরেও দেখতে চায় না। গণমানুষের চাওয়া মূলত তার চিন্তা-চেতনার, তাদের সামাজিক অনুশাসনের আর তার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ও বিশ্বাসের সংরক্ষণ। গণমানুষ চাই সমাজে শৃঙ্খলা আসুক, সামাজিক প্রথা, লোকায়ত বিশ্বাসের একটা সংরক্ষণ হোক, লোকাচার-লোকরীতিকে ক্ষমতাবানদের শ্রদ্ধা করুক। এর বাইরে গণমানুষের চাওয়া-পাওয়াটা খুবই কম। সুতরাং, আপনি রাজনীতি করবেন, গণমানুষের রাজনীতি করবেন এবং গণমানুষকে ভুলিয়ে রাখা সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা। এই বিষয়টা আপনি যত দ্রুত বুঝবেন, ততই ভালো।
৪.
সুতরাং, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণমানুষ কারা, আপনাকে বুঝতে হবে। তাদের বৈশিষ্ট্য, ফিচার আপনাকে বুঝতে হবে। তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রকৃতি আপনাকে বুঝতে হবে। বাংলার এই গণমানুষের যে চাওয়া-পাওয়া, এটা কি খুবই বিধ্বংসী, ধ্বংসযজ্ঞ কিংবা বিনাশকারী দেশের জন্য? যদি উত্তর না হয়, তবে অবশ্যই গণমানুষের চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে আপনাকে রাজনীতি করতে হবে এবং নিশ্চিত হয়ে আপনি তাদের সাথে রাজনীতি করতে পারেন। আর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে তাহলে অবশ্যই আপনাকে গণমানুষের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তনে কাজ করতে হবে ইতিবাচকভাবে।
সুতরাং, নতুন রাজনৈতিক দল কিংবা আরো যত রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান, গণমানুষের চিন্তা-চেতনা, চাওয়া-পাওয়া, আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলি ইতিবাচক হিসেবে নিন। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতিকে ইতিবাচক ভাবেই নিতে হবে এবং নেন। গণবিরোধী রাজনীতিতে জড়ায়েন না। আবার আপনার মাথায় এটাও ঢুকায় নিতে হবে, গণবিরোধী রাজনীতি মানে কোন বিদেশি শক্তির সাথে আপনাকে আতাঁত করতেই হবে! নতুবা কোন অগণতান্ত্রিক শক্তির সাথে আপনাকে নিগোসিয়েসনে যাইতে হবে এবং এগুলাই হচ্ছে বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতি এবং বাংলার মানুষের ও বাংলার রক্তের বিরোধী রাজনীতি। যা দেশদ্রোহীতার সামিল।

No comments:
Post a Comment