বাংলার নুনুতন্ত্রের দায় কি ধর্মের ওপরই বর্তায়?

অনেকের মতে বাংলাদেশে 'নুনুতন্ত্র' (পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত সমাজব্যবস্থা) বা প্যাট্রিআর্কি বিরাজ করছে ব্যাপকভাবে এবং এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ধর্ম ও হুজুর আর নারী বিদ্বেষী পুরুষ সমাজ। অনেকের মতে তাদের কারণে নারীদের প্রতি এত অসহিষ্ণুতা, অসহনশীলতা এবং ভায়োলেন্স। বাট রিয়ালিটি কি তাই? 

 আমাদের বুঝতে হবে পুরা পৃথিবীর সমাজ বা রাষ্ট্রই চলে পেট্রিয়ার্রকির উপর দিয়া সুতরাং আলাদাভাবে শুধু বাংলাদেশকেই দায়ী করা বা বাংলাদেশের পুরুষ সমাজ বা ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো টা আসলে সঠিক জ্ঞানের পরিচয় না বা হয়তো জানাশোনার অভাবেই এই দায় দেওয়া। আমি যদি ধরি যে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নয়ন হয়েছে এমন একটা দেশকে, তাহলে আমি দেখতে পাবো প্যাট্রিআর্কি কতটা গভীরভাবে প্রোথিত এসব দেশে ! আচ্ছা উদাহরণ হিসাবে জাপানের কথা ধরি, ভদ্রতায় সুশীলতায় কিবা সামাজিক প্রথার সর্বোচ্চ ইতিবাচক উদাহরণ যেখানে বিরাজমান সেই জাপানের সোসাইটি হচ্ছে ৯০% পেট্রিআর্কি এর উপর, যেখানে সমাজের এবং রাষ্ট্রের এমন কিছু নেই যা পুরুষ দ্বারা শাসিত না বা চালিত না এবং জাপানি সোসাইটি নারীর প্রতি যত কনজারভেটিভ ধারণা পোষণ করে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। নারীদের প্রতি জাপানিজ  পুরুষদের  যে দৃষ্টিভঙ্গি আপনার কাছে খুবই ব্যাকডেটেড মনে হবে। সুতরাং জাপানি সোসাইটির পুরুষেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বা ক্ষমতায়নে নারীর প্রতি  যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এর সাথে যদি বাংলাদেশী পুরুষদের যে দৃষ্টিভঙ্গি সেটা তুলনা করেন আপনি অবশ্যই বাংলাদেশের পুরুষদেরকে আগায় রাখতে বাধ্য হবেন। 

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে  বাংলাদেশে তাহলে এত বেশি নারীর প্রতি ভায়োলেন্স কেন? উত্তর হচ্ছে দারিদ্রতা।  বাংলাদেশে নারীর প্রতি যে ভায়োলেন্স তার একমাত্র কারণ হচ্ছে দরিদ্র, গরিবি এবং আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে এখনো নিজে থেকে সাবলম্বী হতে না পারা সুতরাং নারীর প্রতি যে ভায়োলেন্স, এই ভায়োলেন্সের জন্য ধর্মকে দায়ী করা কিংবা সমাজের সমস্ত পুরুষকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দেওয়া এটা আসলে পজেটিভ বার্তা পৌঁছে দেয় না। 

দেখেন বাংলাদেশের সোসাইটি অর্থনৈতিকভাবে প্রগ্রেসিভ না হলেও সোশ্যাল যে লার্নিং প্রসেস এই লার্নিং প্রসেসে আমাদের নারীরা এখন অনেক বেশি প্রগ্রেসিভ, এরা গোটা বিশ্ব এবং বিশ্বায়নের সমস্ত ধ্যান ধারণা তাদের মধ্যে আছে এবং তারা নিজেদের যে রোলস এবং রাইটস এটা নিয়ে তারা সচেতন এবং একই সাথে তাদের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে প্রচুর ভোকাল  ফলে তাদের যে সামাজিক মর্যাদাহীন অবস্থা  বাংলাদেশে নাই এইসব নিয়ে তারা কথা বলে। আমাদেরকে এটাও বুঝতে হবে নারীর প্রতি ভায়োলেন্স এইটার জন্য যতটা না আমাদের সোশ্যাল রিলিজিয়ন কিংবা সোশ্যাল পিপলসের দায়, তার চেয়ে দায়টা বেশি রাষ্ট্রের উপর যায়।  বাংলাদেশের রাষ্ট্রটা পুরোটাই হচ্ছে সেকুলার কিন্তু বাংলাদেশের সোসাইটি ও সোশ্যাল সিস্টেম সেকুলার না হলেও পুরোপুরি মিক্সড প্রথাভিত্তিক অর্থাৎ এখানে ধর্মই যে শুধু আমাদের সোসাইটির কালচার, সংস্কৃতি, প্রথা কিবা ধ্যান ধারণা তৈরি করে তা কিন্তু না ধর্ম জাস্ট একটা পার্ট, ছোট্ট পার্ট। বাংলাদেশের মানুষের যে চিন্তা প্রসেস, এখানে ধর্ম শিক্ষাব্যবস্থা, সাহিত্য,  নাটক, সিনেমা, গান এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপকভাবে বাংলার মানুষের থট প্রসেসকে ধারণ করে আছে। সুতরাং ধর্মকে দায় দিয়ে আপনি পার পেয়ে যাবেন না। এবং আধুনিক  সোশ্যাল মিডিয়া এটা এত বেশি মিসোজিনিস্ট আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। সুতরাং নারীর প্রতি ভায়োলেন্সের জন্য ধর্মকে এবং হুজুরদের তাই দেওয়া বন্ধ করেন। 

বাংলার মানুষের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা চেতনার পরিবর্তনে অবশ্যই এসব বিষয়ের খেয়াল রাখতে হবে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...