আপনি যদি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাকে জিজ্ঞেস করেন, রাজনীতি কী? কিংবা তাদের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক দর্শনের মানে কী? তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, অন্তত ৯০ শতাংশ রাজনীতিবিদই উত্তর দেবেন: রাজনীতি মানে মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন আর অবরোধ। তাদের মধ্যে বড়জোর এক-দুজন বলবেন, রাজনীতি মানে সকল মানুষের জন্য কাজ করা।
এই একই চিত্র আপনি বাংলাদেশেও দেখবেন। বাস্তবে, এখানে ৯০ শতাংশ রাজনৈতিক কর্মীই অশিক্ষিত কিংবা রাজনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তারা জানে না রাজনীতি কী, কীভাবে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা যায়, কীভাবে ন্যায় ও উন্নয়নের পক্ষ নেওয়া যায়। তারা শুধু জানে কীভাবে রাস্তা বন্ধ করতে হয়, কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে বাধা দিতে হয়, কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করে তাদের কষ্ট দিতে হয়।
তাদের কাছ থেকে আপনি কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশা করতে পারেন না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝেও রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা মতবিরোধ প্রকাশের কোনো সুশৃঙ্খল ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির চর্চা নেই। দুদিন পরপর আপনি দেখবেন, রাজধানী ঢাকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর অচল হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক দলের তথাকথিত কর্মসূচির কারণে, যার একমাত্র ফল মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা। অথচ, আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা গর্বভরে বলবে, তারা দেশের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে! তারা রাস্তা বন্ধ করে মনে করে দেশের মানুষের জন্য তারা কিনা করে ফেলেছে ! হোয়াট এ বুলশিট !
এটাই বাস্তবতা এবং এটি একেবারেই অর্থহীন। রাজনীতি নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনাই একটি ‘বুলশিট’, অর্থহীন, অপদার্থ ও আত্মসন্তুষ্টিতে ভরা।
যতদিন পর্যন্ত এই ধরণের মানসিকতা ( রাস্তাঘাট , কলকারখানা , সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষালয় বন্ধ করে মানুষ কে কষ্ট দেয়া) রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সমাজে বিদ্যমান থাকবে, ততদিন আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন ,এই দেশ একচুলও এগোবে না। দেশ পড়ে থাকবে তার পুরনো তৃতীয় বিশ্বের পরিচয় নিয়ে। দুঃস্থতা, বিশৃঙ্খলা ও অযোগ্য নেতৃত্বের এক বৃত্তে।
No comments:
Post a Comment