সমাজে জাজমেন্টাল মানসিকতার বাড়তে থাকা প্রবণতা এবং এর রূপান্তর

[1]
জাজমেন্টাল মানসিকতা , আগে যা সীমাবদ্ধ ছিল ব্যক্তি ও নিকট-সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া নামক অনির্দিষ্ট, অপরিচিত ও অজানা ক্ষেত্রের মধ্যে। একটি পরিবর্তন আমরা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারছি , যে পরিবর্তন আমাদেরকে চিন্তার এক নতুন বাস্তবতায় ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমরা যে একটি বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করেছি, সেটি হলো, সমাজে ‘জাজমেন্টাল মেন্টালিটি’ দিন দিন কমার বদলে বরং বাড়ছে। অথচ, মানুষ যেখানে সমাজের প্রতি দিন দিন আরও বেশি বিমুখ হয়ে পড়ছে, সেখানে এই বিচারপ্রবণ মানসিকতার কোনো হ্রাস লক্ষ করা যাচ্ছে না। মানুষ আজ যতটা না সামাজিক বন্ধনের মধ্যে আছে, তার চেয়ে বেশি আছে বিচ্ছিন্নতায়; তবুও, আশ্চর্যজনকভাবে এই বিচ্ছিন্ন মানুষগুলো দিন দিন আরও বেশি ‘জাজমেন্টাল’ হয়ে উঠছে, এমনকি অপরিচিতদের ক্ষেত্রেও।
[2]
সমাজে এই জাজমেন্টাল মানসিকতার যে প্রভাব আমরা আগে দেখতাম, এখন তা অনেক বিস্তৃত এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আগে মানুষ সাধারণত বিচার করত নিজেদের পরিচিতদের, নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী বা সামাজিকভাবে ঘনিষ্ঠদের। কিন্তু বর্তমানে যে সংকটটি তৈরি হয়েছে তা হলো: সমাজে সরাসরি এই বিচার প্রবণতা কিছুটা কমলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষ এখন অপরিচিত কাউকেও তার ছবি বা একটি ছোট ভিডিও দেখে সহজেই বিচার করে ফেলে। তার চরিত্র বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না রেখেও মন্তব্য করে বসে। অধিকাংশ মন্তব্যই হয়ে থাকে একপাক্ষিক, অবিবেচক ও নেতিবাচক। কেউ হয়তো নিজের মত প্রকাশ করছে, কিন্তু মুহূর্তেই সেই পোস্টের নিচে উপহাস, হেয় করা মন্তব্য, ‘হা হা’ রিয়্যাকশন বা ব্যঙ্গাত্মক স্টিকার এসে জমা হচ্ছে। এটি নিছক মত প্রকাশ নয়, এটি এখন এক ধরনের মানসিক অসুস্থতায় রূপ নিয়েছে। আর সাথে আছে আবার মিম কালচার , যেকোনো কিছু হলেই মানুষেরা শুরু করছে মিম বানানো আর এসব মিম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এত নেতিবাচক যা কল্পনাও আনাও যায় না। সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো একটা কমেন্ট, হাহা রি আকশ্যান যতটা না ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে আমার মনে হয় মিম তার চেয়ে বেশি মানুষ কে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
[3]
আবার এই জাজমেন্টাল প্রবণতার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন সেলিব্রেটি, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, টিকটকার, ইউটিউবাররা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা জাছে কোন ভাবে ভাইরাল হইয়া জাওয়া কোন সাধারন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি করে ঘটছে আর সাধারন ব্যক্তি সমাজ এটা সেলিব্রেটি দের মত এগুলাকে হ্যান্ডলও করতে পারেনা ফলে তারা প্রতিনিয়ত এমন মন্তব্যের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা একটি সাধারণ মানুষের মানসিক স্থিতি ভেঙে দিতে পারে। এই সমালোচনা বা বিচার অনেক সময় এতটাই কটূ, এতটাই নির্মম যে তা সহ্য করা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, আমি মনে করি, মানুষের জাজমেন্টাল মানসিকতা কমেনি, বরং রূপান্তরিত হয়েছে এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তা আরও ব্যাপক ও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...