রাষ্ট্র ধারণা মূলত কী?

রাষ্ট্র একটি ইনক্লুসিভ ধারণা; এখানে সব ধরনের, সব ঘরানার মানুষ একত্রিত হয়। তারা একটি চুক্তিতে আসে যে, "হ্যাঁ, আমরা মিশে থাকবো।" সুতরাং, এখানে যখনই বিভাজন ও পার্থক্যের রাজনীতি করবেন, একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে বেশি 'রাষ্ট্রবাদী' দাবি করবেন, তা ওই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।  একটি রাষ্ট্রের মূল বিষয় হচ্ছে তার বিরোধীদেরকেও সেই স্থান দেওয়া। একজন ব্যক্তি যতই রাষ্ট্রের বিরোধী হোক না কেন, সে রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে বিশ্বাস না-ও করতে পারে, তবুও সে সেই রাষ্ট্রে পূর্ণ সম্মান ও স্বাধীনতা নিয়ে বসবাস করবে। যখন কোনো রাষ্ট্র তার অস্তিত্বের বিরোধীদেরও সম্মানসহ বসবাসের অধিকার দিতে পারে, তখনই বোঝা যায় রাষ্ট্র একটি 'ওয়েলফেয়ার স্টেট' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে সবাইকে নিয়ে চলা, কাউকে ফেলে দেওয়া নয়, কাউকে অস্বীকার করা নয়।

এখন সমস্যা কোথায়? সমস্যা দেখা দেয় যখন রাষ্ট্রের ভেতরেই কেউ কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী বা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়, এবং এর মূল কারণ রাজনীতি। অর্থাৎ, ওই রাষ্ট্রের সরকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব নেওয়ার দ্বন্দ্ব, বিপরীতমুখী মতবাদ এবং ক্ষমতার লড়াই। এখানেই একজন আরেকজনকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। রাজনীতির এই কঠিন মারপ্যাচে ক্ষমতা বিশাল একটি ফ্যাক্টর। ক্ষমতার লোভে একদল আরেক দলকে অস্বীকার করে বসে। এটি রাষ্ট্রের জন্য প্রকৃতপক্ষে হুমকি স্বরূপ। একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে যতটা না সেই রাষ্ট্রের জন্য হুমকি, তার চেয়ে বেশি হুমকি তৈরি হয় যখন দুই দল একে অপরকে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা দেয়। এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনে।

রাষ্ট্র হচ্ছে পুনর্মিলনের জায়গা।
রাষ্ট্র একটি পরিবারের মতো। যেমন একটি পরিবারে বাবা-মা কোনো সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে না, যতই সেই সন্তান পরিবারের ক্ষতি করুক না কেন, তেমনই রাষ্ট্রও তার কোনো নাগরিককে ফেলে দেয় না বা অস্বীকার করে না। রাষ্ট্র তার সকল নাগরিককে নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রতিশ্রুতি দেয়।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...