আদর্শহীন পৃথিবীর আহ্বান !

পৃথিবীতে যদি সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন এবং ধ্বংসাত্মক সংঘাত থেকে থাকে, তবে তা হলো মতাদর্শিক (ideological) সংঘাত। এটি অনেকটা বস্তির মারামারির মতো, যেখানে সবাই নিজেদের সঠিকই ভাবে, কিন্তু কেউই প্রকৃত অর্থে সঠিক নয়, আবার পুরোপুরি সৎও নই। এই মতাদর্শিক সংঘাত আর ঝগড়া মানবসভ্যতার জন্য লজ্জাজনক এবং এটি গোটা পৃথিবীকে বিশৃঙ্খলা আর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। এই মতাদর্শিক যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হয়েছে মূলত বিংশ শতাব্দীর পর থেকে, যখন মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র, জাতি চিন্তার উদ্ভব ঘটেছে আর মানুষ নতুন করে মানবাতার ধারণা পেতে শুরু করেছিল এবং উপনিবেশবাদ (colonialism)-এর পরিসমাপ্তির পর থেকেই এই ইডিওলজিকাল মতপার্থক্যের দিকে এগুতে থাকে। ঠিক তখন থেকেই মানুষ নতুন করে পারস্পারিক বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং মতভেদের এক ভয়াবহ মহামারি নিয়ে এসেছে, যার ভিত্তি মূলত এই ইডিওলজিকাল বা মতাদর্শ এবং দর্শন আর ফিলসোফিকাল দ্বন্দ্ব।

যদিও উত্তরাধুনিক সময়কালে এই ইডিওলজিকাল দ্বন্দ্ব কমে আসছে তার জায়গা নিচ্ছে ব্যাবসা, অর্থ আর টেকনলজি/প্রযুক্তি ও ভোগবাদ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উন্নত দেশ এই ইডিওলজিকাল মতদ্বন্দ্ব থেকে বের হয়ে আসলেও অনুন্নত আর পিছিয়ে পড়া, পশ্চাৎপদ দেশগুলো এখনো এই আদর্শিক/ইডিওলজিকাল আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাদের রাজনৈতিক পরিসর, শিক্ষাব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজ ( সুশীল সমাজ ) এখনো এক ধরণের অচল ও পুরাতন ভাবনার মধ্যে বন্দী, যেখানে মনে করা হয় যে একটি নির্দিষ্ট মতবাদই জাতির মুক্তি এনে দিতে পারে। অথচ এই ধারণার সময়কাল ইতোমধ্যেই ইতিহাসের গহ্বরে ( গত শতাব্দীর শেষেই ) বিলীন হয়ে গেছে।

আর এই মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব এতটাই বিপজ্জনক ও বিষাক্ত যে, দুজন মানুষ খুব কাছাকাছি অবস্থান করেও , শুধুমাত্র মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তারা একে অপরের থেকে বহুদূরে অবস্থান করে । আর সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক দূরত্ব সৃষ্টি করে। আদর্শ , দর্শন ও মতাদর্শ ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, যা সমাজে ও রাজনিতিতে এক গভীর সংকটের জন্ম দেয়।

মানুষের মনে রাখতে হবে আদর্শ বলতে আসলে কোন কিছু নাই। সব ভাউতা আর ভণ্ডামি মুলত ক্ষমতার লোভ আর লালসা।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...