উগ্র ডানপন্থী সরকার ও তার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শত্রুতা

যেকোনো দেশের উগ্র ডানপন্থী সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এক ধরনের শত্রুতার মনোভাব পোষণ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে, কারণ এসব জায়গা থেকে যুক্তিবাদ, সমালোচনামূলক চিন্তা, এবং স্বাধীন মত প্রকাশের চর্চা গড়ে ওঠে, যা উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহ্য করতে পারে না, কারণ উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারা মূলত স্বল্পশিক্ষিত, আবেগপ্রবণ জনগোষ্ঠীর উপর নির্ভরশীল। কারণ তাদের বিভ্রান্ত করা সহজ, এবং তারা প্রশ্ন কম তোলে, সহজে বিভ্রান্ত করতে পারে। সেটা মোদী , ট্রাম্প , এরদোয়ান,  বলসোনারো হোক কিবা হাভিয়ের মিলে, এই উগ্র ডানপন্থীরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে  গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়। এই প্যাটার্নটা আপনি স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন ভারতের JNU  বা জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কে যেভাবে বিজেপি আরএসএস দ্বারা  আক্রমণ করা হয় ।  এই একই কান্ড করেছে ট্রাম্প হার্ভাডের সাথে। 

আমাদের একটি বিষয় জেনে রাখতে হবে , হয়তো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কোনো দেশ বা  জাতি, ধর্ম,  সংস্কৃতির ধারক ও বাহক নয়, কিন্তু একটি দেশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মানবাধিকার রক্ষায় এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উগ্র ডানপন্থীরা বরাবরই মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার বিষয়ক ধারণাগুলোর প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। এই কারণেই দেখা যায়, উগ্র ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদরা প্রায়শই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিছক বিদ্রোহ বা  দেশদ্রোহী কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরে, যাতে জনগণের মধ্যে এদের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করা যায়।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...