সমাজের স্বাধীন অথরিটি ও রাষ্ট্রের বৈধতার সীমানা

এই আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রসমূহের কারণে বর্তমানে সমাজের অথরিটি রাষ্ট্র স্বীকার করতে চায় না। এই কারণেই আপনি দেখবেন, সমাজে ও রাষ্ট্রে একটা chaos বিদ্যমান। সমাজের তার অস্তিত্বের হুমকি স্বরূপ সমাজবিরোধী যেকোনো প্রচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার বা প্রতিরোধ করার যে প্রয়াস, রাষ্ট্র তা বরাবরই অবৈধ বলে গণ্য করে এবং আইন-আদালতের মাধ্যমে বিষয়টিকে নিষিদ্ধ করে রাখে। এর ফলে যা ঘটে তা হলো, সমাজ তার স্বকীয়তা হারায়, সমাজের নিজস্বতা বিলুপ্ত হয়।

রাষ্ট্রের কাছে সমাজের অথরিটি বিলীন হওয়ার ফলে ব্যক্তিরাও সমাজকে হেয়  ও ডিমীন করতে থাকে। সমাজকে তারা নগণ্য ও অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করে, সমাজের value system বা  ইথিক্স ,মূল্যবোধ, ইতিহাস ,ঐতিহ্য থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও তার কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও অনুপযোগী বলে প্রতিভাত হয়। ব্যক্তি সমাজের কোনো authority-কে স্বীকার করতে চায় না। সমাজের স্বাধীন অথরিটি তার কাছে একরকম irrelevance বা সময়চ্যুততায় পরিণত হয়। 

যদিও ব্যক্তি সমাজের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে, তবুও সমাজের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে সে অপ্রয়োজনীয় ও অবৈধ মনে করে। কারণ ব্যক্তি চাই অশেষ স্বাধীনতা ও অফুরন্ত লিবার্টি এবং যেটার ঘোষণার মাধ্যমে একটা দেশ রাষ্ট্র হয়ে ওঠে এবং সোসাইটি ব্যক্তির অফুরন্ত লিবার্টিকে একটা সীমার মধ্যে রাখতে চাই যেখানেই ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ব্যক্তির লিবার্টিকে রাষ্ট্র মেনে নিলেও সমাজ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সহজে মানতে চায় না। এ কারণেই রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মিলে সমাজকে ও সমাজের স্বাধীন অথরিটিকে অস্বীকার করে।

দেখুন, সমাজ কেবলমাত্র বাস করার জায়গা নয়। কারণ, বর্তমানে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মিলে সমাজ এবং সমাজের ধারণাকে এমনভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, যেন সমাজ শুধু সবাই মিলে সহাবস্থানের একটি পরিসর, যেখানে সমাজ উদার চিত্তে প্রত্যেক মত, পথ ও ঘরানার সবাইকে একসাথে নিয়ে বাস করে। But আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজের কাজ কেবল ব্যক্তিকে জায়গা দেওয়া নয়, ব্যক্তির বাসস্থান তৈরি করা নয়। সমাজের পরিকাঠামো ও পরিসর আরও ব্যাপক, আরও গভীর। সমাজের একটি নিজস্বতা রয়েছে, এবং এই নিজস্বতা, স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্রতা ফুটে ওঠে তখনই, যখন সমাজ নিজে অথরিটি হয়ে ওঠে।

এই অথরিটি তখনই কার্যকর হয়, যখন সমাজ তার মূল্যবোধবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডকে কিংবা মূল্যবোধবিরোধী যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। আর এই নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য সমাজের একটি আলাদা পদ্ধতি থাকে, যার মাধ্যমে সে ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

আধুনিক সময়ে মূল সমস্যাটা এখানেই, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সমাজকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম কাঠামো হিসেবে দেখতে চায় না। বরং রাষ্ট্র বরাবরই চায় সমাজের কোনো সার্বভৌমত্ব না থাকুক। এ কারণেই আপনি দেখবেন, সমাজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক পদ্ধতিকে রাষ্ট্র সবসময় অবৈধ বলে ঘোষণা করে। আর এখানেই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল দ্বন্দ্ব নিহিত। আর এই দ্বন্দ্বের মূল কারিগর হচ্ছে ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিকতা ও ব্যক্তির মূল্যবোধ বিরোধী লিবার্টি ও তার প্রয়োগ।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...