সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ অর্থাৎ রাষ্ট্র হিসেবে আপনার দেশ ব্যর্থ হবেই হবে

পৃথিবীর যেসব দেশে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, সেই প্রতিটি দেশই নানা রকম সংকট ও জটিলতায় জর্জরিত এবং রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। আপনি যে দেশই দেখেন না কেন, পাকিস্তান, মিশর, ইরান, তুরস্ক কিংবা মিয়ানমার প্রত্যেকটি উদাহরণেই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যেখানে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, সেখানে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দমননীতি এবং অস্থিরতা জন্ম নিয়েছে।

সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের বাইরের যেকোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা তাদের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে, বরং তা তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সমস্যার মূল শিকড়টি নিহিত রয়েছে তৃতীয় বিশ্বের সেই সব দেশের মানসিকতায়, যেখানে সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য মনে করেন, দেশের প্রকৃত রক্ষক কেবল তারাই; দেশপ্রেম, সাহস, এবং নেতৃত্বের ‘ক্যালিবার’ শুধুমাত্র তাদের মধ্যেই আছে। তারা ধারণা করেন, রাজনীতিবিদ বা সাধারণ জনগণ দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন। এই আত্মঅহংকার থেকেই জন্ম নেয় সামরিক হস্তক্ষেপ, যা কখনোই কাম্য নয়।

সেনাবাহিনীকে বুঝতে হবে ,রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতি, প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা , এই তিনটি ক্ষেত্রের নিজস্ব গতি ও গণ্ডি আছে। দুর্নীতি যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকে, সেটা সামরিক বাহিনীর মধ্যেও থেকে যেতে পারে। একে দমন করতে হলে সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পথ খুঁজে নিতে হবে; সামরিক অভ্যুত্থান বা হস্তক্ষেপ নয়।

রাজনীতিবিদ, আমলা এবং সেনাবাহিনীর প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা আছে। কেউ কারো বিকল্প নয়, কেউ কারো প্রতিপক্ষও নয়। এই সীমারেখা লঙ্ঘন করলেই রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে পড়ে, এবং রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হয়।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...