ইসলামে ইবাদতের ধারণা ও সামাজিকতা

ইসলামের মৌলিক যে কাঠামো বা পাঁচটি স্তম্ভ নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত , তার প্রতিটিই মৌলিকভাবে সামাজিকতার অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হোক বা হজ, কিংবা যাকাতের মতো আর্থিক দায়িত্ব , এসব প্রতিটি ইবাদতেই সমাজের অন্যদের সম্পৃক্ত করতে হয়। ইসলাম এভাবেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর অংশ করে তোলে, যেখানে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। ইসলাম ব্যক্তিগত এবাদতের মাধ্যমে সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে দেয়। 

ইসলাম আমাদের শেখায় হাউ টু বি এ ‘social being’ , হাউ টু বি  ‘socially attached’ ও ‘kind-hearted’ ব্যক্তি হিসেবে সমাজে বেঁচে থাকা যায়। আজকের এই individualism এর যুগে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর  global citizen ( যেখানে পৃথিবীর প্রত্যেক প্রান্তের মানুষ একে অপরের সম্পর্কে জানে ,বোঝে ও জ্ঞান  রাখে)  ধারণার মধ্যেও   ব্যক্তি ক্রমাগত তার নিজস্ব বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, সেখানে ইসলামের এই সামাজিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক ইবাদতসমূহ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ হাজির করে। এই আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে , একটি সহানুভূতিশীল, সংবেদনশীল ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে। 

আপনার পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আপনার সমাজের প্রতিটি শিশুকে , সে পরিচিত হোক বা না হোক সালামি দিন। কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে হোন উদার। মনে রাখবেন, এগুলো হয়তো আপনার কাছে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ (এবাদত) মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এগুলোই সমাজে শান্তি, সহানুভূতি ও ঐক্য রক্ষার এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে। এইসব এবাদতই সমাজকে একটা সফল সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...