১.
একজন নাস্তিক তখনই প্রতিক্রিয়াশীল ও উগ্র হয়ে ওঠে, যখন সে চায়, তার নাস্তিকতা, তার ঈশ্বরে অবিশ্বাস, এটি সবাই জানুক এবং সবাই যেন ধর্মের অসারতা ও অপ্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে। অর্থাৎ, যখন একজন নাস্তিক নিজেকে নাস্তিকতার একপ্রকার প্রচারক (preacher) মনে করে এবং নাস্তিকতা প্রচারের জন্য আকুল হয়ে ওঠে, তখনই সে এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে, একজন ডানপন্থী, উগ্র ধার্মিক কিংবা অন্ধ বিশ্বাসীর মতোই প্রতিক্রিয়াশীল ও কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ করতে থাকে।
একজন ধার্মিক ও একজন নাস্তিকের মধ্যে পার্থক্য মূলত তাদের চিন্তাগত গঠনে। একজন ধার্মিক মনে করেন, তিনি অন্যদের তুলনায় একজন ভালো মানুষ ,শুদ্ধ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি এক 'গ্রেটার পাওয়ার' এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজেকে এক উচ্চতর নৈতিক অবস্থানে স্থাপন করেন।
২.
অন্যদিকে একজন নাস্তিক মনে করেন, তিনি জ্ঞানী; তিনি নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঈশ্বর, প্রভু বা সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে অসার ও অপ্রয়োজনীয় হিসেবে আবিষ্কার করে ফেলেছেন। একজন নাস্তিক তার চিন্তাকে সুপিরিয়র মনে করে।
এখানেই গড়ে ওঠে আত্মচেতনার এক ভিন্ন ধরণ। একজন নাস্তিক, প্রায়শই নিজেকে পৃথিবীর আর সব মানুষের চেয়ে ভিন্ন, অধিকতর চিন্তাশীল এবং যুক্তিবাদী মনে করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর চিন্তাই একমাত্র 'শুদ্ধচিন্তা', এবং সমাজের অন্যান্য মানুষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে নিকৃষ্ট। ফলে, তিনি অন্যদের চিন্তা-চেতনাকে নগণ্য বা দুর্বল বলে মনে করেন।
৩.
আর এই ভিন্নধর্মী দুই মেরুর চিন্তাধারার কারণেই আপনি একজন নাস্তিক ও একজন উগ্র ডানপন্থী ধার্মিককে এক কাতারে প্রতিক্রিয়াশীল বলে অভিহিত করতে পারেন। তারা উভয়েই, যদিও বিপরীত মতাদর্শে দাঁড়িয়ে, একরকম উগ্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ ধারণ করে এবং সমাজে দ্বন্দ্ব, অসহিষ্ণুতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একজন প্রতিক্রিয়াশীল নাস্তিক ও একজন প্রতিক্রিয়াশীল ধার্মিক এই দুই চরম অবস্থান সমাজের জন্য সমানভাবে বিপজ্জনক। তারা একে অপরকে বাতিল করতে চায়, কিন্তু ফলাফল হয় একই, বৈচিত্র্যের প্রতি অবজ্ঞা, পারস্পরিক শ্রদ্ধার অবলুপ্তি, এবং সমাজে অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি। আজকের সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের মূল উৎপাদক অনেকাংশেই এই দুই ধরনের চরমপন্থী মানসিকতা।
No comments:
Post a Comment