সরকার, জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী, সংগঠন বা সুশীল সমাজ কি সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হতে পারে?

সরকার কিংবা আমাদের জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী, দল অথবা সুশীল শ্রেণির বিভিন্ন সংগঠন যেভাবে সংস্কৃতির রক্ষা ও তাকে তার আদিমতম (রুটে ফিরিয়ে) পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে ,এই চাওয়া কি সত্যিই সাধারণ মানুষের চাওয়া ও আকাঙ্ক্ষা?

না, সাধারণ মানুষ মূলত তার শিকড়ে ফিরে যেতে চায়, সে চায় তার প্রাচীন সংস্কৃতিকে দেখতে, জানতে ও সেই সংস্কৃতি কে নিজেদের মধ্যে আবার ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো , তারা নিজেরাই সেই সংস্কৃতি চর্চা করে না। অর্থাৎ, তারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। বরং তারা নিজেরাই নির্লজ্জভাবে নতুন বিশ্বব্যবস্থার অধীনে গড়ে ওঠা আধিপত্যবাদী সংস্কৃতিগুলোকেই গ্রহণ করে ও লালন-পালন করে।

এই কারণেই গড়ে ওঠে এক ধরনের নতুন 'মিশ্র সংস্কৃতি', যার বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না, কখনো পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই তাকান না কেন একই চিত্র দেখবেন । একই কালচার ,আর একই ধ্যান ধারণা মানুষ লালন করছে । তাদের চিন্তা এক, পোশাক এক, খাবারের ধরণ এক, বিয়ে শাদির প্র্চলন এক , তাদের মানসিক বিকাশ ও একধরণের , সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে কালচার যেন ইউনিফর্মিটির এক অনন্য উধারন হইয়া গেছে তাইতো আপনি কোন প্রান্তেই ভিন্নতা দেখবেন না । তবে মজার বিষয় হচ্ছে এইটা যে কেউ মানুষ কে জোর করে ধরাইয়া দিচ্ছে বা চাপাইয়া দিচ্ছে তা কিন্তু না , এইটা মানুষ তাদের নিজ ইচ্ছাতেই ধারন করছে । সো এই কালচারাইজেশন টা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এতে কারও কোনো কিছু করার নাই !

সুতরাং যারা বলে, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, আমাদের পুরাতন ও মূল শিকড়ে ফিরতে হবে, তারাই আসলে সমাজের স্বাভাবিক ও প্রকৃতিক গতি-প্রকৃতি আটকে দিতে চায়। তারাই মূলত আধিপত্যবাদী শক্তি, সে শক্তি রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী অথবা সুশীল সংগঠন, যাই হোক না কেন।

সুতরাং বিশ্বব্যাপি কালচারাল ইউনিফর্মিটির বিরুদ্ধে আমরা কি করতে পারি ? হইতে কিছু করা যাইতে না পারে তবে আমাদের এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কিছু তে করতে হইবে আর সেইটা হচ্ছে সাংস্কৃতিক প্রতিবিপ্লব তাছাড়া আর কোন উপায় না । হ্যা আর একটা উপায় হচ্ছে নিজ দেশ কে পুরা বিশ্ব থেকে বিচ্ছন্ন করে ফেলা অথবা নিজের প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো কারণ এই ইউনিফর্ম কালচারের প্রচার প্রশার ক্ষেত্র হচ্ছে এই সামাজিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাবহার।

সুতরাং, বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক একরূপতার (কালচারাল ইউনিফর্মিটি) বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় কী?
হয়তো আমরা এই প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি থামাতে পারব না, তবে এর বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই কিছু করতে হবে। এর একমাত্র কার্যকর উপায় হতে পারে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিবিপ্লব — আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে সচেতনভাবে চর্চা, প্রচার ও সংরক্ষণ করা।

হ্যা, আর একটা উপায় হচ্ছে নিজ দেশ কে পুরা বিশ্ব থেকে বিচ্ছন্ন করে ফেলা অথবা নিজের প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো ,কারণ এই ইউনিফর্ম কালচারের প্রচার প্রশার ক্ষেত্র হচ্ছে এই সামাজিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাবহার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট প্রভাব) মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঐ একরূপ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে পারি। এই সামাজিক প্রযুক্তিই আজকে ইউনিফর্ম কালচারের বিস্তারের প্রধান বাহক হয়ে উঠেছে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...