(১)
বর্তমান রাষ্ট্রধারণাই একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে , আর এই পরিবর্তন যে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ধারনা কে আমুল পরিবর্তন করে দিবে তা সহজে বলা যায়। তবে যে পরিবর্তন আসছে তা যে নতুন কোন ধারনা তা কিন্তু না । ব্যক্তি স্বাধীনতা, ওপেন বিজনেস, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, ফ্রি মার্কেট, সোশ্যাল ভ্যালুজ, কাস্টমস, ট্র্যাডিশন-এর উপর গুরুত্বহীনতা এবং ফ্যামিলি ভ্যালুজ ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতি কম গুরুত্ব থাকা চোখে পড়ে লিবারালিজম বা নিও লিবারালিজম ধারনাতে । কিন্তু এই লিবারালিজম আর নিও-লিবারালিজম-এর একটা প্রেভেলেন্স ছিল গত শতাব্দীতে এবং একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে। আর এই দর্শন, চিন্তা-চেতনা , ধ্যান-ধারনা দিয়া পশ্চিমা বিশ্ব গত দেড় শতক ধরে গোটা বিশ্ব কে শাসন করে এসেছে ও তাদের আধিপত্য ধরে রেখেছে, তবে এই আধিপত্য বা হেজেমনি কিছুটা ক্ষয়িষ্ণু। তা কেন, কীভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে? যদিও আমাদের সোশ্যাল সায়েন্টিস্ট, ফিলোসোফার, একাডেমিক্স বা পলিটিশিয়ানরা মনে করেছিলেন এই ধ্যান-ধারণার আরও বিস্তৃতি ঘটবে, কিন্তু সেটা যে আর হচ্ছে না, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
(২)
তবে লিবারালিজম আর নিও-লিবারালিজম-এর জন্যই আমাদের সোশ্যাল ভ্যালুজগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল, আর ডেকলাইন হয়েছে অনেক খানি এটা প্রায় বলে দেয়া যায়। আমাদের সমাজে ভাঙন ধরেছে কঠিনভাবে, সমাজকে তার গুরুত্ব ফিরে পেতে, তার নিজস্বতাই নিয়ে যেতে, আর ঘুরে দাঁড়াতে অনেক দিন লাগবে। অথবা সমাজের গুরুত্ব আদৌ ফিরে আসবে কি না, তা বলা মুশকিল। কারণ, গত শতাব্দীর দুটি মহাযুদ্ধের পর, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন আর গ্লোবালাইজেশন-এর ফলে আমাদের সোশ্যাল ভ্যালুজ, ফ্যামিলি বন্ড, ফ্যামিলি ভ্যালুজ আর পারিবারিক রিলেশনশিপস গুলার যেভাবে ধ্বংস ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের সমাজকে দীর্ঘ সময় ধরে গভীর সংকটের ভার বহন করতে হবে বলে আমি মনে করি।
(৩)
তাই এই নতুন পলিটিক্যাল আইডিওলজি আর পলিটিক্যাল ফিলোসফি-র ফলে আমাদের সমাজে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে—তার পরিমাপ এবং ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, বা স্পেকুলেট করা সম্ভব নয় বললেই চলে। কারণ, আমাদের সমাজ আর বিশ্ব যেভাবে প্রতিনিয়ত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে এই ধরনের স্পেকুলেট করা কঠিন। তবু আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই চ্যালেঞ্জ হাতে নিতে হবে। আর যেভাবেই হোক, সমাজকে রক্ষা করতেই হবে, সমাজ কে তার স্বাভাবিক গতি ও অর্গানিক অবস্থাতে নিয়া যেতে হবে । তবে সেটা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হবে বলে আমি মনে করি। কেননা যদিও লিবারালিজম বা নিও লিবারালিজম সমাজের গুরত্ব কে এত নিচে নামিয়ে দিয়েছিল ব্যক্তি স্বাধীনতা আর ব্যাক্তির স্বাভাবিক বিকাশ কে গুরত্ব দিতে গিয়ে বাট তারাও সমাজের স্বাধীনতায় হা ত দেইনি। কিন্তু এই একবিংশ্ব শতাব্দীর পলিটিকাল টারমোইলে যেভাবে সব খ্যাপাটে পলিটিকাল লিডার,অপ্রত্যাশিত ও তীব্র ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতার আবির্ভাব, পলিটিকাল রাইট ওইঙ্গার আর পলিটিকাল দলের উদ্ভব ঘটছে তাতে সমাজ ও সামাজিকতা এক গভীর সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে বলে আমার ধারনা। কারন এই খ্যাপাটে লিডার আর তাদের ফিলসফি কে হাল্কা ভাবে নেয়ার সুজোগ নেই । যেমন ক্ষমতা নিয়া তাদের অবসেশন রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে সব কিছু কে একছত্র ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতাও সুতরাং সমাজ যে তাদের হাত থেকে মুক্তি পাবেনা এইটা নিশ্চিত।
No comments:
Post a Comment