মানসিক নৈরাজ্য এবং বিদ্বোহের মধ্যেই আছে মানসিক দাসত্বের মুক্তি!

মাঝেমধ্যে আপনাকে আপনার নিজের জীবনের জন্য একধরনের নৈরাজ্যবাদী হতে হবে। এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যেখানে আপনাকে ভেঙে ফেলতে হবে সেইসব ব্যক্তি, পছন্দ, দল বা বিষয়কে, যারা আপনার মনের গভীরে এমনভাবে গেঁথে আছে যেন তারা এক একটি এস্টাব্লিশমেন্ট কন্ট্রোলার। তারা আপনার চিন্তা, চেতনা সবকিছুকে নির্ধারণ করে দেয়। এই কারণেই আপনাকে লড়তে হবে এই স্বৈরাচারী মানসিক কাঠামোর বিরুদ্ধে যারা আপনাকে সামনে এগোতে দেয় না, আপনার মাঝে এক ধরণের অদৃশ্য বাধা তৈরি করে রেখেছে।এটাও একধরনের মানসিক দাসত্ব (মেন্টাল স্লেভারি) বলে আমি মনে করি।

আর এই মানসিক দাসত্ব তৈরি হয় ভালোবাসা (লাভ), ঘৃণা (হেট্রেড), পছন্দ (প্রেফারেন্স/লাইকিং), অপছন্দ (ডিসলাইক), সহানুভূতি (সিম্প্যাথি), চিন্তা (থট) এবং আবেগগত (ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট)-র মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে, যারা প্রতিনিয়ত আপনার মনে আসে, এবং যারা আপনাকে বানিয়ে ফেলে অতীতের দাস। এই অতীতের দাস হয়ে যাব না... হতে হবে বর্তমানের, নিজের জন্য। আর আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার দাসত্ব আপনার সৃষ্টিকর্তার জন্য, যিনি ডিজার্ভ করেন আপনার সমস্ত অ্যাটেনশন, আপনার স্ট্রাগল, ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট, থট, এবং আপনার সবকিছু আর তিনিই এগুলোর প্রকৃত দাবিদার।

আর এটা তখনই সম্ভব, যখন আপনি আপনার প্রেজেন্ট-কে নিজের জন্য উপযোগী করে তুলবেন। আপনাকে এটা-ও মনে রাখতে হবে লাভ, হেট্রেড, ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত ভাবনা, ভালো লাগা বা অপছন্দ এসবই একধরনের ওয়েপন অব মেন্টাল স্লেভারি। এগুলো যখন আপনি অতিরিক্ত বা এক্সেসিভ করবেন, তখনই হবে দাসত্ব

আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার মনের যদি একজনমাত্র প্রকৃত অধিকারী থাকে, তবে তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া আর কেউ, বা কোনো কিছু, আপনার মনের ভিতরে জায়গা পাওয়ার যোগ্য নয়। তাই যারা বা যেসব বিষয় আপনার মনকে দাস বানিয়ে রেখেছে, সেগুলোকে চূর্ণ করতে হবে আপনাকে মুক্ত হতে হবে সব ধরনের দাসত্ব থেকে। আর সেই দাসত্ব ভালবাসা, ঘৃণা বা এমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট যাই হোক না কেন !


No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...