(১)
আমরা এই সময় এসে প্রাইভেসি নামক নতুন শব্দ বা ধারণার কথা শুনি। যদিও প্রায়ভেসি শব্দটা নতুন কোন ধারনা নয়, এটা ইংরেজি শব্দ privacy /প্রাইভেসি থেকে এসেছে। এর মানে হলো গোপনীয়তা বা এমন কিছু যা অন্যের নজর থেকে সুরক্ষা দেওয়া, এইটা হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, চিন্তা ও জীবনযাপন । এবং এই বিষয়গুলোকে মনে করা হয় যে একজন ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার। এই প্রাইভেসি কে আমাদের বুঝতে হলে কিছু প্রচলিত শব্দ বা প্রশ্ন আমরা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারি যেমন আমরা প্রায় ইউজ করি যে, আমার প্রাইভেসি আমি খুবই গুরুত্ব সহকারে মেইনটেন করি বা আমাদের সুশীল সমাজের অংশীরা প্রাইভেসির লংঘন বলে যে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সেটা প্রাইই বলে। এইসব প্রশ্ন আমরা বা উদাহরণ আমরা প্রায়ই টানতে পারি, প্রাইভেসী ধারণা দিতে গিয়া। এখন আমার কাছে কোশ্চেন হচ্ছে কি এই প্রাইভেসি? প্রাইভেসি বলতে কি বুঝায়? আমরা সামস্টিকভাবে প্রাইভেসিকে কিভাবে ডিফাইন করবো? কোন যুক্তিতে একটা ঘটনা প্রাইভেসি লঙ্ঘন হইয়া উঠে? এবং এর গুরুত্ব কতটুকু? এইটা আমাদের কে নির্ধারণ করতে হবে। আর একজন ব্যক্তির প্রাইভেসির সীমা টা কতটুকু? এইটা আমাদের কে সামাজিক মাধ্যম ও আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহের মাধ্যমে ডিফাইন করতে হইতে পারে। তাহলেই আমরা প্রাইভেসির যে বিস্তারিত ধারণা ও সামাজিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ সেটা আমরা বুঝতে পারবো।
(২)
দেখেন প্রাইভেসির বিষয়টা এই মুহূর্তে খুবই স্পর্শকাতর একটা বিষয়। এইটা নিয়ে আমাদের আলোচনার দরকার আছে । কারণ প্রাইভেসিটা বর্তমানে গোপনীয়তা এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সরাসরি জড়িত। এই বিষয়টাকে বলা হয় মানুষের যতগুলা অধিকার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে ভাইটাল মৌলিক মানবাধিকার। এবং আমাদেরকে বিষয়টাকে আরো খোলাখুলি ভাবে প্রত্যেককে সচেতন করার ও জানানোর দরকার আছে । দেখেন আমরা এইখানে প্রায়ভেসির যে আলোচনা, এই আলোচনা প্রাইভেসির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে না, এইখানে আমরা প্রায়ভেসির বিষয়টা আলোচনা করব সামাজিক দৃষ্টিকোণ থাইকা।
কেন বর্তমানে প্রায়ভেসি মানুষকে আরো বেশি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে প্রতিনিয়ত। এই প্রাইভেসি যে মানুষকে সমাজের প্রতি একটা বিরূপ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গি রাখার দরজা দেখিয়ে দিচ্ছে তা আলোচনা করব, অর্থাৎ মানুষ প্রাইভেসিকে এত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যার ফলে মানুষ সমাজকে তার শত্রু জ্ঞান মনে করছে ।
এই যে সচেতন করা বা জানানোটা , এইটা হচ্ছে এইজন্যেই যে, কেন আমরা সামাজিক বিষয়কে নিম্নগামী করে ব্যক্তির বিষয়, ব্যক্তির চিন্তা ও চেতনাকে, ব্যক্তির প্রাসঙ্গিকতাকে প্রাইভেসির নাম দিয়া, ব্যক্তিকে আরো বেশি একাকী বা একাকিত্বের মধ্যে ছেড়ে দিচ্ছি। দেখেন আপনি যত বেশি প্রাইভেসির জন্য এডভোকেশি করবেন আপনাকে বুঝতে হবে মানুষের একাকিত্বের হার তত বেড়ে যাবে। কারণ প্রাইভেসিটা মূলত একাকিত্ব কে নির্দেশ করে। মানুষকে সামাজিক হতে বাধা প্রদান করে। কিভাবে এই প্রাইভেসি মানুষকে একাকিত্বের দিকে ছেড়ে দেয় এইটা নিয়েও আমাদের আলোচনার বিষয় আছে।
(৩)
দেখেন বর্তমানে মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে খুবই সচেতন, সেটা গ্রাম থেকে শহর, যেখানেই হোক না কেন। মানুষ নিজেকে চেনুক আর না চেনুক। সে মনে করে সে নিজেকে ভালোভাবেই চেনে। সে যেটা না সেইটাকে প্রকাশ করার একটা তীব্র আখাংকা মানুশের মধ্যে দেখা যায় এবং এইটা তে সে অতিরঞ্জিত করে।
মানুষের মধ্যে একটা স্বাভাবিক প্রশংসা পাওয়ার একটা আগ্রহ থাকে। সে যেইটা না ওইটা তো প্রশংসা পেতে চাই। সে চায় মানুষ তার প্রশংসা করুক, মানুষ তাকে বড় ভাবুক এবং তার বড়ত্বকে মানুষ অন্যের নিকট প্রকাশ করুক। এর ফলেই মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বকে খুবই স্ট্রং ও প্রশংসাযোগ্য মনে করে। এইটা মানুষের বেসিক সাইকোলজি। দেখেন এইটা কে বলা যেতে পারে নিড ফর ভ্যালিডেশন বা স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা। এইটা যখন অতিরিক্ত হইয়া যায় তখন এইটাকে বলে নারসিজম বা narcissism। ব্যক্তির স্বীকৃতি পাবার যে আকাঙ্ক্ষা এবং এই স্বীকৃতির পেছনে নিজেকে প্রশংসাযোগ্য করে তোলার সতীব্র ইচ্ছাকে সে যখন নিজের মধ্যেই ধারণ করে ফেলে তখন সেটাই হইয়া যায় নার্সিজম।
দেখেন মানুষ তখনই সামাজিক হইয়া উঠে যখন সে নিজেকে ভুলে থাকে। নিজেকে ভুলে থাকা মানে অন্যকে গুরুত্ব দেওয়া, নিজের গুরুত্বের জায়গা কে সংকুচিত করে দেওয়া। আর এর বিপরীত যখনই ঘটবে তখনই আপনি নার্সিজমের ঘটনা দেখতে পাবেন। প্রশ্নটা যদি আমি লিটারেল মিনিং এ নিই, যে নরসিজম মানে কি?
তাহলে নার্সিজম বলতে আমরা বুঝি এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, নিজের প্রতি অতিরিক্ত মুগ্ধতা পোষণ করেন এবং অতিরিক্ত প্রশংসার প্রয়োজন বোধ করেন।দেখেন এগুলো বা এইসব চিন্তা মানুশের ভেতরে কখন আসে? তখনই আসে যখন মানুষ নিজেকে সেন্টার ভাবে বা কেন্দ্রীয় চরিত্রভাবে এবং নিজেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেউ কেওটা মনে করে। এই যে নিজেকে গুরুত্ব ভাবা নিজেকে সেন্টারে নিয়ে আসা এই চিন্তাটাই মূলত তো মানুশকে একাকী করে রাখে, একাকীত্ব করে।
অন্যের চেয়ে আলাদা ভাবার যে মানসিকতা, নার্সিজম শিক্ষা দেয়। এইটাই মানুষকে আরও বেশি একাকিত্বের পথ ধরিয়ে দেয়। ফলে মানুষ আরো ব্যক্তিগত হইয়া ওঠে। তখনই মানুষের চিন্তায় আসে তার আলাদা সত্তা বা এক আলাদা ব্যক্তিত্বের, যেইখানে সে তার নিজের একটা সীমানা বিল্ড করে এবং এইটাকে রক্ষার অনুভব হয় বা নিজের গুরুত্বকে প্রটেক্ট করতে গিয়া নিজের ব্যক্তিত্বের চারপাশে একটা বাউন্ডারি তৈরি করার যে মানসিকতা, এইটাকে আমরা বলতে পারি প্রাইভেসির থট বা চিন্তার উদ্ভব।
(৪)
আমরা যে বিষয়টা দেখলাম, মানুষ সোসাইটিতে যখন বাস করতে যায়, তখন মানুষ আত্ম-অনুসন্ধানের ফলে নিজেকে খুঁজে এবং সে তার নিজের কর্মকাণ্ডের একটা সোশ্যাল ভালিডেশন(social validation) বা সমাজিক স্বীকৃতি চাই। এবং সামাজিক স্বীকৃতির অতিরিক্ত আশাটাকে অতিরিক্ত প্রশংসার যোগ্য মনে করিয়া তোলে এবং এই থেকে মানুষের ভেতরে একটা নার্সিজম বা নার্সিস্টিক চিন্তা ঢুকে যায়। এইটা থেকে আসে মানুষের আলাদা ব্যক্তি সত্তা বা ব্যক্তিত্ব, যেখানে মানুষ এইটাকে প্রটেক্ট করতেই নিজের প্রাইভেসির ধারণা সে তৈরি করে।
দেখেন সমাজের যে সোশ্যাল ভ্যালিডেশন বা সামাজিক স্বীকৃতি এইটা মানুষকে আরো বেশি আত্মপরিচয় গঠনে, তাকে যোগ্যতার ও অধিকারের প্রতি মনোযোগী করে তোলে, তার চেতনার উন্নয়ন ঘটায় এবং সমাজের প্রতি তার যে জীবনবোধ এবং তার নিজের প্রতি যে তার জীবনবোধ ও আত্ম বাস্তবায়ন, এইটাতে সে একটা নিজস্ব পরিচয় খুঁজে পাই তাকে আমরা বলতে পারি নিজস্বতা বা স্বতন্ত্রতা (individualism)। এবং এই পরিচয় খুঁজে পাওয়া (স্বতন্ত্রতা বা নিজস্বতা )কে সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করে এবং এইটাকে প্রটেক্ট করতে চাই। এই যে প্রোটেক্ট করা আর তার প্রচেষ্টা, এর ফলে সে নিজের সমস্ত চেতনায় চারপাশে সে একটা সীমানা ও বাউন্ডারি তৈরি করে। এইটাকে আমরা বলতে পারি প্রাইভেসি।
এই যে প্রাইভেসি এখন এই প্রাইভেসিকে আমরা কিভাবে ডিফাইন করবো? এর সীমা কতটুকু , এইটা আমাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে এবং এইটা যদি আমরা সঠিক ভাবে নির্ধারণ করতে পারি তাহলে আমরা এর ব্যাড প্র্যাক্টিস ও গুড প্র্যাকটিস সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করতে পারবো।
(৫)
সো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হোয়াট ইজ প্রাইভেসি?
এখন আমি যদি বলি প্রাইভেসি বলতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ভাবনা ও কাজের উপর তার নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে বোঝায়।
এই যে সরলীকরন সংজ্ঞায়নে, আমরা প্রাইভেসির ব্যাখ্যা করলাম, যেখানে ব্যাক্তিগত বিষয়গুলোকে প্রটেক্ট করার একটা আকাঙ্ক্ষা কে উল্লেখ করলাম। শুধু এটাই কি প্রাইভেসি। আধুনিক এই সমাজে ব্যক্তি ও ব্যক্তির বিষয়াবলি কে সম্পদ বলে মনে করা হয়, এই কারণে ব্যক্তি হইয়া ওঠে একটা স্বৈরাচারী একক উপাদান এবং এই উপাদানকে রক্ষা করার যে মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা এই চিন্তাকে আপনি প্রাইভেসি রক্ষার নাম দিতে পারেন। কিন্তু এইটাকে আপনি ব্যাক্তিত্ব রক্ষার নাম দিয়া প্রাইভেসি বলে চালায়া দিতে পারেন না।
প্রাইভেসি খুবই সরল ও সোজা একটা ধারণা মনে হলেও এর ব্যাপকতা খুবই জটিল । কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রাইভেসি একটা চেইন ও কন্ট্রোলড গণ্ডির মধ্যে নিয়ে আসে। যেখানে ব্যক্তিকে মিস্টিরিয়াস করে তোলা হয়, যেখানে ব্যক্তির মধ্যে একটা ব্যাপার থাকে এবং এই ব্যাপারটা অন্যের জন্য আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাইভেসি যেমন মানুষকে মিস্টিরিয়াস বানাই ঠিক তেমনি প্রাইভেসির জন্য একটা মানুষ অন্য মানুষের নিকট অ্যাডভেঞ্চারাস হইয়া ওঠে। আমরা যদি প্রাইভেসিয়ার উপাদান গুলো আলোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো যে: ব্যক্তির তথ্য গোপনীয়তা, যোগাযোগ গোপনীয়তা, শারীরিক গোপনীয়তা, আচরণিক গোপনীয়তা, মনোভাব ও অনুভূতির গোপনীয়তা।
আবার প্রাইভেসির যদি একটি সরল সংজ্ঞায়ন আমরা করি তাহলে বলতে পারব, প্রাইভেসি হল এমন একটি অবস্থা বা অধিকার এখানে একজন ব্যক্তি নিজের তথ্য, ভবনা, অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে এবং অন্যদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বা নজরদারি থেকে মুক্ত থাকে।
এই সংজ্ঞায়ন থেকে প্রাইভেসির একটা সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক পরিচয় পাচ্ছি, যেইখানে ব্যক্তিত্বকে সমাজের অন্য মানুষের আলোচনার বিষয় হতে রক্ষা করার জন্যই এই প্রাইভেসি।
(৬)
এইযে একজন ব্যক্তির এই বিষয়গুলোর গোপনীয়তা এবং এই গোপনীয়তার চাদরের কারণে ব্যক্তি আরও দুর্বোধ্য হইয়া ওঠে। ব্যক্তির মধ্যে একটা স্বৈরাচারী ভাব ফুটে ওঠে, ব্যক্তি নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে।
ব্যক্তি নিজেকে এই গোপনীয়তা ও প্রাইভেসির নামে নিজেকে করে তোলে একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত। সমাজে সে সামষ্টিকভাবে বাস করলেও সে হইয়া উঠে একটা আলাদা এন্টিটি। এইটার নাম দেয় সে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হইয়া ওঠা এবং এই এন্টিটি বা ব্যক্তিত্ব তার কাছে তখন একটা প্রপার্টি বা সম্পদ বলে মনে হয় এবং এইটা রক্ষার তার প্রয়োজন অনুভূত হয়।
ফলে, সে এই প্রপার্টির চারপাশে একটা সীমানা নির্ধারণ করে, এইটার সে নাম দিয়েছে প্রাইভেসি । এর ফলে সমাজের সাথে সে একটা আলাদা সীমানা প্রাচীর তৈরি করে । এর ফলে সমাজ যেমন তাকে ওন করে না, তেমনি সে নিজেও সমাজকে ওন করে না এবং সমাজ থেকে সে নিজেকে থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে।
দেখেন ব্যক্তির মধ্যে এ যে তথ্য, যোগাযোগ শারীরিক, মানসিক, অনুভূতিগত ও আচরনিক গোপনীয়তা মানসিকতা সেইটার ফলে সে আরো বেশি বিচ্ছিন্ন ও একাকীত্ব হইয়া পড়ে। এবং মানুষ নিজেকে সমাজের সবার থেকে নিজেকে রক্ষা করার মানসিকতা তৈরি হয়।
আবার এই প্রাইভেসির নাম দিয়ে যে দুর্বোধ্য মানসিকতা, তার মধ্যে তৈরি হয়, এইখানে সে সমাজকে এনিমি বা শত্রু ভাবা শুরু করে। সমাজ হইয়া উঠে তার প্রতিপক্ষ। সমাজকে সে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবতে থাকে। মনে করে সমাজই তার শত্রু এবং তার বিকাশে ও প্রকাশে সমাজ তাকে বাধা দেয়।
এই যে প্রাইভেসির নামে সমাজের প্রতি বিরূপ মনোভাব, সমাজকে শত্রু ভাবা, প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা এইটার ফলে সমাজের সাথে তার একটা সীমারেখা টানা হইয়া যায়। ফলে সমাজকে সে কখনো আর আপন ভাবতে পারেনা। এবং সমাজে প্রত্যেকটা ছোট ছোট ইউনিট অফ ইনস্টিটিউশন কে সে প্রতিদ্বন্ধী বা শত্রুই ভাবে। এইখানে সমাজের ইউনিট অফ ইনস্টিটিউশন(unit of Institutions) গুলো পরিবার হতে পারে, ব্যক্তি সমষ্টি হতে পারে, তার পিয়ার গ্রুপ হতে পারে অথবা সমাজের প্রত্যেকটা বিষয়-ব্যক্তি হতে পারে।
আর এই প্রত্যেকটি unit of Institution কে সে তার শত্রুর কাতারে ফেলে দেয়। প্রাইভেসীর নামে ব্যক্তির সীমানা, তার সাথে সমাজের যে একটা এক রৈখিক দ্বন্দ্ব, সেটা তৈরি করেছে ব্যক্তি নিজেই।
এখানে সমাজের আসলে কিছু করার নাই। এই প্রাইভেসিটা ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে, এটাকে প্রটেক্ট করে ব্যক্তি নিজেই। কারণ সমাজকেই সে শত্রুভাবে এবং সমাজের কাছ থেকেই সে বাঁচতে চায়, এর কারণেই তো এ প্রাইভেসি।
প্রাইভেসির নামে যত ব্যাড প্র্যাকটিস বা প্রত্যেকটা ব্যাড প্রাকটিসের দায় ব্যক্তির নিজের, সমাজের এখানে কিছু করার থাকে না।
আমরা তাহলে প্রাইভেসির যে ব্যাড প্র্যাক্টিস বা প্রাইভেসির যে চর্চা। ব্যক্তি জীবনে, সেইটাকে কিভাবে আরো রিফর্ম করে ব্যক্তিকে আরও বেশি সামাজিক ও সামষ্টিক করে তোলা যায় সেইটা আমাদের ভাবতে হবে। তবে এই আধুনিক জীবনের চেতনায় সামষ্টিকতার যে নতুন ভাবনা এইখানে প্রাইভেসির নামে ব্যাক্তিকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করার মানসিকতা তৈরি হবে এবং উত্তরোত্তর এটা বাড়বে। এর বিপরীতে সামষ্টিক ও সামাজিক ভাবনার অনুভূতি কমতে থাকবে।