'ঘোড়ারডিম বিশ্ববিদ্যালয়'









[এক]

এই দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই; কখনো ছিলও না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা এই প্রেক্ষাপটে আদৌ প্রতিষ্ঠা পায়নি এবং ভবিষ্যতেও হয়তো তা অসম্ভব। এখানে যা বিদ্যমান, সেগুলো মূলত স্কুল-কলেজের পরিধির সামান্য এক্সটেনশন ও  নামমাত্র প্রতিষ্ঠান। ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের পেছনে শুধু উন্নাসিকতাই আছে, যে নামের শেষাংশে "ইয়ান" যুক্ত করার মধ্যেই যেন শিক্ষাব্যবস্থার সারবত্তা পূর্ণ হয়ে যায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অর্থ, চেতনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। ফলে, এ দেশে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম নিয়ে টানাহেঁচরা অব্যাহত থাকাই স্বাভাবিক, এবং এই মনোভাব থেকেই নামের চেয়ে অর্থবহ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা একেবারে অনুপস্থিত।


[দুই]

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে যেসব ফ্যাকাল্টি সমাজ বা শিল্পক্ষেত্রে কার্যত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে না, সেসব ফ্যাকাল্টি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা কমবে । যারা প্রকৃত মেধাবী, তারাই শুধু কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সীমিত আসনের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবার যোগ্যতা অর্জন করবে, এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। অপরদিকে, যাদের অর্থ আছে ও পড়াশোনার গরজ আছে, তাদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। এতে মেধার সত্যিকারের চর্চা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার নামে এই অগভীর ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ সংস্কৃতি ও বিপথগামী ব্যবস্থার অবসান ঘটবে।

এই 'ঘোড়ারডিম বিশ্ববিদ্যালয়' বা 'ঘোবিয়ান'  ও অনর্থক বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি অবিলম্বে ভাঙতে হবে।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...