সামাজিক বিভাজন ও বিতর্কিত ইস্যু: আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎ কী?

 



১.

স ম কা মি তা ইস্যু পশ্চিমা বিশ্বেও আজও বিতর্কিত এবং সে দেশেরই  অনেক অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এটিকে তাদের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন না। তারা স ম কা মি তার প্রসঙ্গকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান না এবং এই বিষয়ে ঐসব দেশে প্রচুর আন্দোলন ও প্রতিবাদ হচ্ছে, যা আমরা সংবাদ মাধ্যম ও খবরে প্রায়ই দেখি।

তাহলে, আমাদের মতো একটি রক্ষণশীল এবং ইসলামপ্রধান দেশে এই ধরনের একটি বিতর্কিত বিষয় আনার সাহস এবং স্পর্ধা যারা দেখাচ্ছে, তাদের সমালোচনা করাই স্বাভাবিক। যারা এই ইস্যুর ভিত্তিতে ইসলামিস্ট বা সাধারণ সচেতন নাগরিকদের ‘গোঁড়া’, ‘মৌলবাদী’ বা ‘ধর্মান্ধ’ বলে আখ্যায়িত করে, তাদের এই প্রবণতা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। আমাদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।

চীনের মতো গোঁড়া, বামপন্থী এবং সেক্যুলার রাষ্ট্রেও L G B T Q + ইস্যুগুলি সরকারি নীতিতে  স্থানই পায় না। তাহলে আমাদের দেশের বামপন্থী ও সেক্যুলার নীতিনির্ধারকেরা কেন একটি বিতর্কিত বিষয়কে সামনে এনে সমাজকে অস্থিতিশীল ও অশান্ত করতে চাইছে এবং তারা কেন এই ধর্মপ্রাণ শান্ত নাগরিকদের কে অশান্ত করতে চাইছে ও রাগাতে চাইছে এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভের  সৃষ্টি করছে  তা আমাদের জানা প্রয়োজন। তাদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয়, তারা দেশের মঙ্গল চায় না এবং সমাজকে শান্তিতে রাখতে আগ্রহী নয়।


২.

নিউলিবারেল সাম্রাজ্যবাদী সেক্যুলাররা আসলে কী চাইছে? দেশে অপরাধ বেড়েছে, মব তৈরি হচ্ছে, অথচ সমস্ত দায়  ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি,  সাম্রাজ্যবাদী নিউ লিবারেলদের হিপোক্রেসি এবং হঠকারিতার ফলে সমাজে বিভাজন ও মেরুকরণ (polarization) ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। তারা নিজেদেরকে উদারনৈতিক ও মানবাধিকারবাদের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও, বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সমাজকে আরও বিভক্ত করে ফেলেছে। তারা এমন একটি সমাজ কাঠামো তৈরি করছে, যেখানে মতবিরোধকে সম্মান না করে, তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই ধরনের হঠকারিতা একটি জাতিকে পোলারাইজ করে ফেলেছে, যা সামাজিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের এখন চিন্তা করতে হবে, এই পোলারাইজেশনের শেষ কোথায়? যদি এই বিভাজন এবং বিদ্বেষের রাজনীতি চলতে থাকে, তবে সমাজের স্থিতিশীলতা কতটা বজায় থাকবে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। এই প্রক্রিয়ার শেষ কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, এবং কীভাবে আমরা এই বিভেদমুক্ত একটি সমাজে ফিরে আসতে পারি, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন?

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...