গণতন্ত্রকে বলা যায় সবচেয়ে সেলিব্রেটেড ফ্যাসিজম, কারণ এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা দেখাতে গণমানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি করে, কিন্তু আসলে ক্ষমতা সীমিত একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এই ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক কাঠামোর আড়ালে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, যা কার্যত ফ্যাসিবাদী শাসনের বৈশিষ্ট্য বহন করে। গণতন্ত্রকে খুব সূক্ষ্মভাবে নরমালাইজ করা হয়েছে আমাদের সমাজ ও চিন্তাবিদদের দ্বারা। পৃথিবীতে যখন থেকে গণতন্ত্র, মানবতাবাদ ও লিবারালরা এই গণতন্ত্রের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, সেই দিন থেকে ভিন্নমত ও ভিন্ন মতাবলম্বী যত তন্ত্র, মন্ত্র, মতবাদ রয়েছে, প্রত্যেকটির টুটি চেপে ধরেছে এই গণতন্ত্র।
তাহলে আপনি কিভাবে বলবেন না যে, এই গণতন্ত্রই আসল ফ্যাসিবাদ না ? যখন একটি দেশ গণতন্ত্রকে এমব্রেস করে, তখন থেকে ওই দেশে শাসন ক্ষমতায় যাবার জন্য বা শাসনব্যবস্থায় অন্য কোনো সিস্টেমকে সে অনুমোদন করে না। সুতরাং, যে ব্যবস্থায় বা গণতন্ত্রে একটি রিজিড ব্যবস্থা থাকে, যেখানে অন্য কোনো ব্যবস্থাকে অনুমোদন করা হয় না, ভিন্নমতকে স্থান দেওয়া হয় না এবং ভিন্ন মতের কথাকে সে আত্মীকরণ করে না, সেইটা কখনো উদারতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না।
গণতন্ত্রে আপনি হাজারটা উপকারিতা দেখাতে পারবেন, ঠিক বিপরীতভাবে আপনি লক্ষ কোটি দোষ বের করে ফেলতে পারবেন। এই যে বামপন্থীরা যারা রাজনীতি করে বা সমাজতান্ত্রিক সাম্যবাদী যারা রাজনীতি করতে চান, এদের একটি আলাদা শাসন ব্যবস্থার দর্শন আছে। ঠিক তেমনি, খেলাফত যারা চাই বা ধর্মতান্ত্রিক একটি দেশ বিনির্মাণ করতে চান, তাদেরও শাসন ব্যবস্থায় একটি দর্শন রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র উভয়কেই বাতিল করে দেয়।
আপনি দেখবেন, খুব গণতান্ত্রিক দেশে বামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলেও তাদেরকে তাদের দর্শন ও চিন্তাধারা বিকাশ বা প্রয়োগ করতে দেওয়া হয় না এবং করলেও দ্রুতই ক্ষমতাহীন হয়ে যায়। ঠিক তেমনি, ইসলামী বিশ্বে যতগুলো দেশ রয়েছে, প্রত্যেকটি দেশে ইসলামী খেলাফত বা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চাই যে ইসলামী দলগুলো আছে, তারা কখনোই ক্ষমতায় যেতে পারেনি এবং গেলেও খুব দ্রুত ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এটি একমাত্র গণতন্ত্রের ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে।
সুতরাং, গণতন্ত্র ভিন্ন কোনো শাসন ব্যবস্থা বা শাসন ব্যবস্থার দর্শনকে কখনোই সহ্য করে না। অতএব, গণতন্ত্র ভিন্ন মতকে কখনোই মেনে নিবে না। যদিও গণতন্ত্র নিজেকে উদার মানবতাবাদী হিসেবে উপস্থাপন করে, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ফ্যাসিবাদ, যা সমাজের বিভিন্ন অংশকে নিপীড়ন করে এবং রাষ্ট্রকে আদর্শিক কণ্ট্রোলের মধ্যে রাখে। এর ফলে, গণতন্ত্রের নামে এক ধরনের রাজনৈতিক রিজিম তৈরি হচ্ছে, যা আসলে বহুমুখী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment