রাত্রির নীরবতা ও আমার চিন্তার জগৎ











কুকুরের আওয়াজে ঘুম আসে না। মাঝে মাঝে ডেকে উঠে আবার হঠাৎ থেমে যায়। তারপর আসে একটা নীরবতা, প্রচণ্ড নীরবতা। এই নীরবতার মাঝেও হঠাৎ করে কিছু চিন্তা উদয় হয়, তবে ঠিক কী নিয়ে চিন্তা আসে, তা নিয়ে কখনো ভাবিনি, ডিফাইন করিনি। মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। তবে আমি খেয়াল করেছি, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকও সময় সময়ে দল বেঁধে শোনা যায়। এতগুলো আওয়াজ একসঙ্গে কানে এসে বাজে। রাত যখন গভীর হয়, তখন মশার উপদ্রবও খুবই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। প্রতিটি মশা যেন একেকটি ছোট্ট পীড়া, কামড়ায় আর শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা চুলকানোকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। কখনো কখনো এতটাই খারাপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়ে চুলকাতে শুরু হয় যে চামড়া উঠে যায়। পরে অবশ্য আবার স্বাভাবিক হয়।

রাত্রির গভীরতা এত শান্ত, এত সমাহিত কেন? দূর থেকে নদীতে শ্যালো মেশিনের আওয়াজ শোনা যায়। আমাদের বাসা থেকে হয়তো ১০০ গজ দূরে সেই নদী। আর নদীর মধ্যে হয়তো দশটা বাড়ি।

এখন এগুলো বলতে বলতেই একটা মেয়ের কথা মনে পড়ল। হয়তো তার সঙ্গে আর কোনো দেখাও হবে না, কিন্তু তবুও একটা টান অনুভব করি। মেয়েটার কথা চিন্তা করতে করতেই রাজনৈতিক বিষয়টি আমার চিন্তার জগতকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। রাজনীতি খুবই মজাদার বিষয়, এ রাজনীতি করতে ভালো না লাগলেও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে ভালো লাগে। আজ ফেসবুকে দুই-তিনটা রাজনৈতিক পোস্ট করেছি, যদিও পোস্টগুলো প্রথাগতভাবে রাজনৈতিক না হলেও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট দার্শনিকদের নিয়ে যারা বর্তমানে ধর্ম নিয়ে খুবই আউল ফাউল কথা বলে। পোস্টগুলো ছিল প্রথাগত প্রভাবশালী দার্শনিক এবং সমাজের গভীর চিন্তাবিদদের নিয়ে, যারা সমাজে চিন্তার গভীরতা ছড়িয়ে দিতে পারদর্শী। তাদের মধ্যে কিছুজন ইসলামের ব্যাখ্যা তাদের নিজের মতো করে সরলরৈখিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তারা মনে করেন, তাদের বোঝা ইসলামই প্রকৃত ইসলাম, যদিও একজন আলেমকে তারা সেই আলেমের সারা জীবনের জ্ঞানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অবজ্ঞা করেন এবং বলেন সেই আলেম ইসলাম বোঝেন না।

তখন মনে হলো, এ নিয়ে মন্তব্য করা উচিত ছিল না। বিষয়টা খুবই জটিল এবং সংকটজনক। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে খুবই সংকটময় সময় বয়ে যাচ্ছে। দুই মাস আগেই প্রচণ্ড ঝড় বয়ে গেছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটা গেঁড়ে বসা সরকার বদল হয়েছে। তাই বললাম, এ সময়ে ধর্মযুদ্ধের প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো। ধর্মযুদ্ধটা ছিল মূলত দার্শনিক ধার্মিক ও প্রথাগত আলেমদের মধ্যে।

ঘুম আসছে প্রচণ্ড, কিন্তু ঘুমাতে যেতে ইচ্ছা করছে না। কী করা যায়? মাঝে মাঝে ভাবি। কিন্তু তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস এখনো তৈরি হয়নি। কী করলে হবে, বুঝতে পারছি না। চিন্তা, দুশ্চিন্তা—সব মাথায় এসে জমা হয়। কিছু চিন্তা আলাদা করি, কিছু আবার ডিফাইনও করি। চিন্তাগুলো এমন কেন হয়, ভেবে পাই না।

No comments:

Post a Comment

গণতন্ত্র কেন মতাদর্শকে হার মানায়

পৃথিবীতে আসলে political correctness বলে কোনো চূড়ান্ত বিষয় নেই। অর্থাৎ, ডেমোক্রেসিতে কোনো রাজনৈতিক ideology ই শতভাগ সঠিক নয়।  যদি কেউ দাব...