জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার ধারা ও শাস্তি বহাল রাখা যাবে না।

 জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার ধারা ও শাস্তি বহাল রাখার যে উদ্যোগ ইন্টারিম গভর্নমেন্ট নিতে চাচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

একটা রাষ্ট্র তখনই রাষ্ট্র হইয়া উঠবে, যখন আপনি রাষ্ট্রের কোনো বিষয়কেই সেক্রেড বা পবিত্রকরণ করবেন না। একটা আধুনিক, মানবতাবাদী রাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় নেতা  ও জাতীয় সংগীতসহ অন্যান্য জাতীয় বিষয়ের অবমাননার জন্য শাস্তি প্রদান করা জঘন্য রকমের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের লক্ষণ এবং অমানবিক।

কিছুদিন আগেই পুরোহিত চীন্ময় সাহেবকে জাতীয় পতাকা অবমাননার মতো হাস্যকর ও ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি শুধু অবমানবিকই নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার  অপব্যবহারও। যদি চীন্ময় সাহেব সত্যিই রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে সঠিক ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু জাতীয় পতাকা অবমাননার মতো তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন অজুহাতে একজনকে গ্রেফতার করে জেলে বন্দী রাখা নিতান্তই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার প্রদর্শন এবং নাগরিক স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।

জাতীয়  সংগীত, পতাকা, চিহ্ন, নেতা বা প্রতীকের মতো বিষয় অবমাননার জন্য কোনো শাস্তি থাকা উচিত নয়, এবং এ ধরনের শাস্তি আরোপকারী কোনো আইনও প্রণয়ন করা যাবে না। এসব আইন শুধু ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন, যা নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করে। একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা, পবিত্রতার নামে রাষ্ট্রীয় প্রতীকগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে মানুষের কণ্ঠরোধ করা নয়।

No comments:

Post a Comment

গণতন্ত্র কেন মতাদর্শকে হার মানায়

পৃথিবীতে আসলে political correctness বলে কোনো চূড়ান্ত বিষয় নেই। অর্থাৎ, ডেমোক্রেসিতে কোনো রাজনৈতিক ideology ই শতভাগ সঠিক নয়।  যদি কেউ দাব...