সমাজ ও রাষ্ট্রের পার্থক্য!

 



সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য তাদের ইতিহাস, চেতনা, এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে নিহিত। একটি সমাজের ইতিহাস সাধারণত ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সমাজ অতীতের খলনায়ক(সামাজিক ভিলেন) ও  নেতিবাচক ঘটনাগুলোকে দীর্ঘসময় ধরে মনে রাখে না। এর ফলে সমাজে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকে। সমাজ অতীতের মতপার্থক্য বা বিরোধ মুছে দিয়ে বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার প্রচেষ্টা চালায়। এ কারণেই সমাজ সংহতিতে বেশি গুরুত্ব দেয়। 


অন্যদিকে, রাষ্ট্র অতীতের ইতিহাস ও চেতনার ওপর বেশি নির্ভরশীল। রাষ্ট্র অতীতের ঘটনাগুলোকে বর্তমান সময়েও আলোচনায় ধরে রাখতে চায়। রাষ্ট্র চেতনা বা অতীতের "সোনালী যুগ" পুনরুদ্ধারের ওপর কেন্দ্রীভূত। রাষ্ট্র বারবার তার জনগণকে অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে চায়, যাতে জনগণ অতীতের আদর্শ ও চেতনার মধ্যে বেঁচে থাকে। রাষ্ট্র তার অতীত ও ঘটনাবলীর মাধ্যমে জোরপূর্বক একটি ইতিহাস ও চেতনা চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে সেবাদাসে পরিণত করে। অতীতের খলনায়কদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করলেও নেতিবাচক ঘটনাগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। এ কারণেই রাষ্ট্রে সংহতি ও সম্প্রীতির বড়ই অভাব। 


এখানেই সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি মৌলিক পার্থক্য প্রতিভাত হয়। সমাজের অতীত ও ভবিষ্যৎ তুলনামূলকভাবে সীমিত বা সীমাবদ্ধ হলেও রাষ্ট্রের অতীত ব্যাপক এবং বিস্তৃত। রাষ্ট্র বর্তমানকে খুব কম গুরুত্ব দিয়ে অতীতকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চায়। 


এই কারণেই বলা যায়, রাষ্ট্র ও সমাজ কখনোই এক নয়। তাদের পথ ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাষ্ট্র অতীতমুখী, যেখানে সমাজ বর্তমান ও ভবিষ্যৎমুখী।

No comments:

Post a Comment

গণতন্ত্র কেন মতাদর্শকে হার মানায়

পৃথিবীতে আসলে political correctness বলে কোনো চূড়ান্ত বিষয় নেই। অর্থাৎ, ডেমোক্রেসিতে কোনো রাজনৈতিক ideology ই শতভাগ সঠিক নয়।  যদি কেউ দাব...