আদর্শিক রাজনীতি: বিভাজন ও সংঘাতের জন্মদাতা ও সমাজে ঘৃণার চক্র

 


আদর্শিক রাজনীতি খুবই ভয়ানক। যারা আদর্শিক রাজনীতি করে তাদের মূল ঝামেলা হচ্ছে এরা সবসময় নিজেকে ঠিক মনে করে। সে যে ভুল করতেও পারে এটা তারা বিশ্বাসই করে না। তাদের আদর্শের সাথে তারা কোনরকম নিগোসেশনে যাইতে চায় না, আপোসও করেও না, আপোস মানেও না। আদর্শ যতই রেসিস্ট কিবা ঘৃণাত্মক হোক না কেন। আদর্শিক রাজনীতি সব সময় বাইনারি ওয়েতে চলে। হয় ঠিক অথবা ভুল অর্থাৎ তুমি হয় আমাকে সাপোর্ট করবা অথবা যদি সাপোর্ট না কর অথবা নিউট্রাল থাকো তাহলে তুমি আমার বিরোধী। এবং এই যে তুমি আমার বিরোধী এইটা থেকে তার প্রচুর হেট করে এবং এই হেট গুলো খুবই মারাত্মক ঘৃণাত্মক,  এই ঘৃণাত্মক কর্মকাণ্ডকেও তারা মনে করে আদর্শের জন্য লড়ে যায়ওা, আদর্শের জন্য যুদ্ধ করে যাওয়া। আদর্শিক রাজনৈতিক নিউট্রালিটিকে ঘৃণা করে। 

বাংলাদেশের মতো একটা জনবহুল দেশে আদর্শিক রাজনীতির কোন ভাত নাই। বাংলাদেশের মতো গরীব এই জনবল দেশগুলোতে দরকার মধ্যমপন্থী এবং যেসব দল অর্থনীতি বেইজড প্ল্যান পলিসিকে বেশি গুরুত্ব দেবে এমন রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে যতগুলো আদর্শিক রাজনৈতিক দল আছে তাদের অধিকাংশই মূলত জাস্ট রাজনীতির ব্যবসা করে, আর কিছু না। আদর্শিক রাজনৈতিক দলগুলোর আরো একটা ঝামেলা তাহলে তারা রাজনীতির ময়দানে প্রচুর কেওয়াস  তৈরি করে। এরা রাজনীতির মাঠ গরম রাখতে চাই এই কারণে প্রচুর কে আওয়াজ তৈরি করে, এবং নিজেদের আদর্শ দিয়া ফ্লেক্স মারে। 

সুতরাং একটা বড় কোশ্চেন হচ্ছে আদর্শিক রাজনীতি কি শুধুই ধর্মীয়? না আদর্শিক রাজনীতিতে বাম, সেক্যুলার, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, এবং যত তন্ত্র-মন্ত্র-বাদ রয়েছে সবগুলো আদর্শকে সামনে রেখে যারা রাজনীতি করে তারাই আদর্শিক রাজনৈতিক দল। এবং এইসব দলসমূহ মানুষকে বা মানুষের রাজনীতি বাদ দিয়ে শুধু এইসব পরিভাষার ইউজ ব্যাপকভাবে করে তখন বুঝবেন এরা হচ্ছে আদর্শিক রাজনৈতিক দল এবং এদের কাছ থেকে আপনাকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়  রাখতে হবে। কারণ হেট বা ঘৃণার উৎপাদক হচ্ছে আদর্শিক রাজনৈতিক দলসমূহ। 


No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...