তরুণ রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি সচেতন বুদ্ধিজীবীরা যে বিরাজনীতিকরণের প্রসেস চলছে বা কোসেস জারি আছে বলে অভিযোগ করেন, তাদের কাছে জানতে ইচ্ছা করে—মানুষ কেন বিরাজনীতিকরণকে সমর্থন করবে না? আধুনিক প্রজন্ম কেন বিরাজনীতিকরণকে আরও বেশি করে চাইবে না?
এই রাজনীতি তো দেশকে থার্ড ওয়ার্ল্ডের গর্তে আটকে রেখেছে। রাজনীতি আজ দেশের আমলাতন্ত্র, গণতন্ত্র, এমনকি উন্নয়নকেও রাজনীতিবিদদের স্বার্থের হাতিয়ার বানিয়েছে। বাংলাদেশের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে রাজনীতি ঢুকে তা ধ্বংস করেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আইন-আদালত পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় রাজনীতি প্রবেশ করে দেশের সমস্ত সিস্টেমকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে কোন সরকারের আমলে দুর্নীতি ছিল না, প্রমাণ করে দেখাক সমস্ত দলের রাজনীতিবিদরা। তারা কেউই দুর্নীতিহীন বাংলাদেশ উপহার দিতে পারেনি দেশের জনগণকে।
মানুষ কখনোই রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে ভালো কিছু পায়নি, পাওয়ার আশাও রাখে না। অতীত অভিজ্ঞতায় রাজনীতিবিদদের নিয়ে মানুষের স্মৃতিচারণ সুখকর নয়। এ কারণেই মানুষ রাজনীতিকে ঘৃণা করে এবং যেকোনো বিরাজনীতিকরণের ধারণাকে নিজেদের মুক্তির পথ বলে মনে করে।
একটা জরিপে দেখা গেছে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালেই মানুষ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি সেবা পেয়েছে যেকোনো ধরনের হ্যাজল ছাড়াই। এবং এ কারণেই তারা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস পরিচালিত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
সুতরাং, বিরাজনীতিকরণের যে আশঙ্কা রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা করেন, তার সমাধান তাদের নিজেদের হাতেই। তাদের রাজনীতিকে গণমানুষের রাজনীতি এবং তাদের বুদ্ধিজীবিতাকে জনগণের বুদ্ধিজীবিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নইলে, মানুষ বিরাজনীতিকরণকেই মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নেবে। আর তাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে বিরাজনীতিকরনের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে সেনা শাসন বা সামরিক শাসন। যা কখনোই কাম্য নয়।
No comments:
Post a Comment