রাজনৈতিক অযোগ্যতার ফল: গরিব রাষ্ট্রের মূল সমস্যা রাজনীতিবিদদের অদক্ষতা


একটি গরিব রাষ্ট্রের মূল সমস্যা কোথায়? এর উত্তর হলো রাজনীতি। যখন কোনো রাষ্ট্র সমস্যায় জর্জরিত হয়, তখন রাজনীতিবিদরা সেই সমস্যার মূল দায়ভার নাগরিকদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তারা বলে, দেশের এই দুরবস্থার জন্য নাগরিকরাই দায়ী। কিন্তু আসল সত্য হলো, একটি দেশ তখনই দুর্নীতিগ্রস্ত, গরিব ও তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে পরিচিত হয়, যখন সেই দেশের রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ ও অসৎ হয়।  

একটি দেশের নাগরিক যতই ভালো হোক, যদি সেই দেশের নেতৃত্বে থাকা রাজনীতিবিদরা সৎ ও দক্ষ না হয়, তবে সেই দেশের উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের সুশীল সমাজ, শিক্ষিত ব্যক্তি বা নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই বলে থাকেন যে, একটি দেশের নাগরিকদের শিক্ষিত ও দক্ষ হওয়াই দেশের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। কিন্তু এই কথাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভুলে ভরা। একটি দেশ তখনই এগিয়ে যাবে, যখন সেই দেশের রাজনীতিবিদরা সৎ ও দক্ষ হবে।  

উদাহরণ হিসেবে আমেরিকার কথা ধরা যাক। আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও অসংখ্য অদক্ষ ও অসৎ নাগরিক রয়েছে। তবুও দেশটি উন্নতির শিখরে রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশেই অদক্ষ ও অশিক্ষিত নাগরিক পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হলো ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের সততা ও দক্ষতার অভাব।  

একটি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে বা তার আশেপাশে যারা অবস্থান করেন, তাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার দায়ভার পুরো দেশকে বহন করতে হয়। এই কারণেই আমি বলছি, রাজনীতিবিদদের সততা ও দক্ষতাই একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং উন্নতির পথে পরিচালিত করবে। নাগরিকদের সততা, শিক্ষা ও দক্ষতা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় না। বরং রাজনীতিবিদদের ভুল, দুর্নীতি ও অসততা দেশকে আরও বেশি সমস্যায় জড়িয়ে রাখে। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।  

সুতরাং, দেশের উন্নতির জন্য নাগরিকদের চেয়ে রাজনীতিবিদদের সততা ও দক্ষতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিবিদরা যদি সৎ ও দক্ষ হন, তবে দেশের উন্নতি অবশ্যম্ভাবী।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...