আধুনিক মানুশেরা ধার্মিক না হইয়া ধর্ম পাগল হইলে কি হইবে ?

 


আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে আধুনিক মানুষের ধার্মিক না, তারা যতই নিজেদের ধার্মিক বলুক না কেন, তারা ধর্ম ও সামাজিক ঐতিহ্যের ব্যাপারে খুবই অনিহার মধ্যে আছে। তারা এগুলোকে ভালোবাসে, কিন্তু এগুলোকে তাদের জীবনে প্রবেশ করতে দেয় না অর্থাৎ, এগুলোর প্রতি একটা সংবেদনশীলতা আছে, কিন্তু এগুলোকে তারা তাদের জীবনের মূল অংশ হিসেবে গ্রহণ করে না।  এবং এইটার জন্যে যে পৃথিবীতে এক জটিল বিপদ ধেয়ে আসছে এইটার কারণ খুঁজে আমাদের বের করতে হবে, না হলে সামনে যে ধর্ম যুদ্ধ ও বিপদ আসছে, তা রুখা খুবই ব্যাপক আকারে মানুষকে ঝামেলার মধ্যে ফেলে দেবে এবং এই বিষয়টা বা এই বিপদ আমাদেরকে এখনই অ্যাড্রেস করতে হবে যতো দ্রুত সম্ভব, না হলে এক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মহামারি দেখা দেবে যা ধর্মের নামে হলেও তা কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও জাতিভিত্তিক ভাবেই যুদ্ধ লেগে যাবে গোটা পৃথিবী তে । 


এইযে  পৃথিবীর ইতিহাসে যদি কোনো জাতি বা দেশ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে উন্নতি ও উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছাতে পেরে থাকে , সেটা হচ্ছে ইউরোপ। কিন্তু আমরা ২০১৫ সালের আগেও কল্পনা করতে পারিনি যে এই ইউরোপ একদিন ধর্মীয় ব্যাপকতা বেড়ে যাবে, ইউরোপের মানুষরা ধর্ম নিয়ে এত বেশি কনসার্ন হয়ে যাবে। কিন্তু তা ২০২০ সালের পর থেকে যেন স্বাভাবিকভাবেই ঘটছে। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশেই এখন ধর্মীয় ব্যাপকতা আর ধর্মে নিয়ে পলিটিক্স ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মের আলাপ আসছে। যুবক থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ধর্মে নিয়ে ভাবছে এবং তা যেন ভাইরাসের মতো এই আল্ট্রা  ধর্ম বিদ্বেস  ছড়িয়ে পড়ছে। যারাই ধর্মের কথা বলছে, তাদেরকে যেন ত্রাতা হিসেবে দেখা হচ্ছে বাট তাদের কোন লক্ষ বা উদ্দেশ্য কে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না । দেখেন, এখানে ধর্মের কথা বলা আর ধার্মিক হওয়া দুটি আলাদা ব্যাপার, এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। এই  ফলেই ঝামেলা কোন ধর্মই যুদ্ধ চাই না শুধু প্রভাব রাখার জন্য । কিন্তু দেখেন ইউরপে কি হচ্ছে?  ইউরোপের তরুণরা এখন নিজেদের হিস্যা চাই, অংশ চায়, এই অংশ বা হিস্যা হবে  তাদের বাপ-দাদার ধর্মের ভিত্তিতে, সামাজিকতার ভিত্তিতে এবং এই জন্যেই  তারা যারাই  তাদের ধর্মের কথা বলছে বা বাপ-দাদার ধর্মের কথা বলছে বা ধর্মীয় সমাজের কথা বলছে, তাদেরকেই তারা ত্রাতা হিসেবে দেখছে। যেমন আমেরিকার কথাই ধরা যাক ! যে আমেরিকা ছিল লিবারেল ও আল্ট্রা লিবারেলদের ঘাঁটি, সেখানেই ট্রাম্পের মতো একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পুরো আমেরিকার সোশ্যাল ও পলিটিক্যাল সিচুয়েশন পরিবর্তন করে দিয়েছে।  এই পাগলাটে ট্রাম্প লিবারেলদের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবকে একদম আমেরিকার মানুষের কাছে ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঠিক একই ঘটনা ঘটছে অধিকাংশ ইউরোপের দেশে, এবং এইসব দেশের পলিটিক্যাল স্ফিয়ারে ধর্মভিত্তিক ও রাইট-উইংগার পলিটিক্যাল পার্টি ও তাদের পাগলাটে নেতারা খুব ভালোভাবেই জায়গা করে নিচ্ছে। আমরা এখন ইউরোপের মত দেশ গুলাতে ভিক্তর অর্বআন বা লা পেন , নাইজেল ফারাজের মত পাগলাটে নেতার আনাগোনা দেখছি যারা প্রতিনিয়ত ইউরোপ কে আরো অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।  লেফট বা যারা লিবারেল পলিটিক্স করত, তারা এখন কিছুটা ব্যাকফুটে আসছে। আমরা যদি ফ্রান্সের মতো নাস্তিক বা লেফট  প্রভাবিত দেশেও এইরকম রাইট-উইংগারদের উত্থান দেখি, তাহলে আর অন্য সব ইউরোপীয় দেশগুলো কী অবস্থা হতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারেন! এইটা হচ্ছে আত্মঘাতী ইউরোপের জন্য, ঠিক আবার মনে করুন এই ঝড় আসতে পারে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর দিকে।


আধুনিক মানুষরা ধর্ম নিয়ে ভাবে, তারা চায় ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হোক, কিন্তু ধর্ম তাদের লাইফস্টাইলে প্রবেশ করুক, তা তারা চায় না। এখানে সমস্যা হলো, ধর্ম নিয়ে গোটা বিশ্বের এই বিপজ্জনক উত্তেজনা একটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এবং এই ঝামেলা শুধু ইউরোপ বা আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা বিশ্বকেই এর প্রভাবে বিস্ফোরিত হতে হবে। আমরা জানি, গোটা পৃথিবী এখনও পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং তারাই আমাদের সবকিছুকে প্রভাবিত করে। কিন্তু এই আধিপত্যের প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মের ধার ধারে না, পুরোটাই মূলত অর্থনৈতিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।। কিন্তু আমেরিকা ও ইউরোপে যে ধর্মভিত্তিক ও রাইট-উইংগারদের উত্থান হচ্ছে, তারা যদি ক্ষমতা পায়, তবে এই ডমিনেশনে ধর্ম আসবে স্বাভাবিকভাবেই  এবং এটাই এক ধরনের হুমকি পৃথিবীর জন্য। এখন পর্যন্ত পূর্ব ও লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার মতো দেশগুলোর সমাজ রিলিজিয়াস ও উগ্র রিলিজিয়াস হলেও তাদের পলিটিক্যাল ও গভর্নমেন্টাল স্ফিয়ার এখন পর্যন্ত ইরিলিজিয়াস ও লিবারেলদের জয়জয় কার  এবং সামনের দিনগুলোতে এটা পরিবর্তন আসবে না, এমন কোনো ক্লু  আমরা দেখছি না। এমনকি এইসব দেশের নেতা, পলিটিক্যাল বা রিলিজিয়াস লিডার এমনকি তাদের নাগরিকরাই ধর্মের ব্যাপারে অনাগ্রহী। কিন্তু সবচেয়ে যে বিপজ্জনক হয়ে দেখা যাচ্ছে, তা হলো ,যদি ওয়েস্টার্ন দেশগুলোর পলিটিক্যাল বা সোশ্যাল পলিসিতে এই রাইট-উইংগার ও ধর্মীয় একটা জোয়ার পায়, তবে এই ওয়েস্টার্ন দেশগুলোর ডমিনেশনে একটা হুমকি আসবে এবং প্রাচ্যের দেশগুলো ওয়েস্টার্ন দেশগুলোর যে  ডোমিনেশন তা তারা মানবে না, এবং এ নিয়ে একটা ব্যাপক ক্রাইসিস হবে তা কিন্তু পৃথিবীর জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসবে না এইটাই স্বাভাবিক। 

আমাদেরকে এখনই এটা নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পৃথিবীর শান্তি কামী মানুষকে একটা ক্রাইসিস মোমেন্টের অভিজ্ঞতা নিতে হতে পারে এরও প্রস্তুতি আমাদের নিয়া রাখতে হইবে ।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...