মানুষের কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তার স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির ভিত্তি। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণেই মানুষ গোত্রবাদ, সামন্তবাদ, রাজতন্ত্র এবং পূর্বপুরুষ পূজার মতো ঐতিহ্যগত ব্যবস্থাগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এগুলোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র এবং আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোকে বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখে এবং বারবার ফিরিয়ে আনে। মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর কারণেই সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্রের মতো আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলো প্রায়ই ব্যর্থ হয় বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্ট যত মতবাদ ও দর্শন রয়েছে, তার অনেকগুলোই মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তির কারণে সময়ের পরিক্রমায় বাতিল হয়ে গেছে। মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তি ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রশমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন একটি আধ্যাত্মিক ও অতিমানবীয় দর্শনের। এই আধ্যাত্মিক ও অতিমানবীয় চেতনাকে অতিক্রম করার জন্য এমন একটি দর্শনের প্রয়োজন, যা মানুষের মৌলিক প্রকৃতিকে বুঝতে এবং তাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
এই দর্শন কোথায় পাওয়া যাবে? এটি খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদেরকে মানবিক চেতনা, আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং নৈতিকতার গভীরে প্রবেশ করতে হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মতবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন সত্যের সন্ধান, যা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে অতিক্রম করে তাকে উচ্চতর চেতনার দিকে নিয়ে যায়।
No comments:
Post a Comment