রাষ্ট্রই ধর্ম: শোষণযন্ত্রের নতুন মুখোশ

 









আমাদের বুঝতে হবে যে,লক্ষ্য বা নিয়ত ভালো হলেই ফলাফল ভালো হয় না। 

রাষ্ট্রের মুখে ‘সমগ্রের কল্যাণ’ শব্দটি উচ্চারিত হলেও, বাস্তবে এটি একটি সুসংগঠিত শোষণযন্ত্র। রাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য হলো ব্যক্তি ও সমাজের ওপর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, আর সেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আধিপত্য বিস্তার করা তার মূলমন্ত্র। রাষ্ট্র চায় প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, কাজ এমনকি অনুভূতিরও উপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। রাষ্ট্র দাবি করে সে ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মহীন , তবে সত্যটা হলো—দিনশেষে রাষ্ট্র নিজেই এক নতুন ধর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়।

এই রাষ্ট্রধর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় সংগীত, পতাকা, প্রতীক, ফুল ও পাখির মতো ‘আচার-অনুষ্ঠান’, যা ঠিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মতোই নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা রাষ্ট্রের প্রতি ধর্মীয় আনুগত্যের মতোই অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করে। নাগরিকদের শিখিয়ে দেওয়া হয় রাষ্ট্রকে পূজা করতে, যেমন ধর্ম তার উপাসকদের শেখায় ঈশ্বরের উপাসনা করতে।

যেমন ধর্মে পুরোহিত থাকে, রাষ্ট্রেরও তেমনি পুরোহিত রয়েছে—আমলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিটি স্তরের শাসনযন্ত্রের কর্মীরা। তারা সবাই রাষ্ট্র নামক এই দানবকে টিকিয়ে রাখতে নিজেদের নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দেখাতে বাধ্য হয়। নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য তারা দিনদিন আরও নিষ্ঠুর, আরও অমানবিক হয়ে ওঠে। তারা নিজেরাও একেকটি ক্ষুধার্ত দানবে পরিণত হয়, যারা শুধুমাত্র রাষ্ট্রের স্বার্থেই কাজ করে, জনগণের নয়।

রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য কোনো সমাজ গড়ে তোলা নয়, বরং মানুষকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেন তারা দিনশেষে রাষ্ট্রের জন্যই বেঁচে থাকে, ভাবতে শেখে রাষ্ট্রের নিয়মমাফিক, আর কর্মেও পরিণত হয় শাসকগোষ্ঠীর হাতিয়ারে। রাষ্ট্র সবার চোখের সামনে ধর্মের স্থান দখল করে নিচ্ছে, আর এর ধারক ও বাহকরা জনগণের রক্ত শোষণ করে দিনদিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই শোষণযন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস থাকা দরকার, কারণ রাষ্ট্রের এই আধিপত্য কেবল শোষণই বৃদ্ধি করবে, মুক্তি নয়।

No comments:

Post a Comment

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...