The dilemma of Ultra Nationalist fanatics... and Donald Trump



Donald Trump will become an example for all the nationalists and Ultra Nationalist political fanatics across the world. Who thinks that a Nationalist leader can change the fate of a country and he will go against the deep state and establishment .But in reality he will be the victim of the deep state and establishment. 

In any country where such a person rises to power ,someone who believes that nation comes first, someone who sees himself as the one to reshape the country's destiny with his own hands , Someone who sees himself as a messiah, and whose supporters also see him as the savior and messiah of the nation, both the fanatic leaders and their supporters should mind it that the Ultra Nationalist leaders can't do anything for the nation moreover  he will create more chaos and destructions for the Nations. 

Donald Trump consistently said that he would not push the United States into any new war. In his earliest speeches, he made it clear that America should not attack Iran. He openly criticized previous leaders who had escalated conflict. So the question arises, even in a superpower like the USA, where the President seemingly holds ultimate power, what actually happened?

Could Donald Trump truly go against the so called deep state or military industrial establishment?
Was he really able to resist war initiatives, or did he end up serving the very agenda he once opposed?

গনতন্ত্রই ছাড়া কি মুক্তি নেই ?

আমাদের একটা ভুল কনসেপ্ট আছে যে গণতন্ত্র ছাড়া জনগণের প্রকৃত  ক্ষমতায়ন হবে না, বা জনগণ ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। মানে গণতন্ত্রই হচ্ছে একমাত্র ওয়ে যেখানে জনগণ ক্ষমতাকে নিজেদের মনে করবে।  আমাদের ভেতরে ঢুকায়া দেওয়া হয় যে গণতন্ত্রের হত্যা মানে জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল টুকু হারিয়ে যাওয়া এই চিন্তা আমাদেরকে ত্যাগ করতে হবে ও এই কনসেপ্টটা কে রেফিউট  করতে হবে আমাদের। দেখেন আমাদেরকে বুঝতে হবে গণতন্ত্র কোন চিরস্থায়ী ব্যবস্থা না, গণতন্ত্র যুগ যুগ ধরে মানুষ ,মানবতা, সমাজ ও সামাজিকতার কথা বলে এসেছে তা কিন্তু না। একমাত্র গণতন্ত্রই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে , প্রকৃত মুক্তির স্বাদ মানুষকে দিতে পারে, এই ধারণা আমাদেরকে ত্যাগ করতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে গণতন্ত্র, জাস্ট ওয়ে টু এলেক্ট অর সিলেক্টে এ রাজা অর প্রাইম মিনিস্টার অফ কান্ট্রি ওর স্টেট  আবার এটাও বলা যায়  টু ইলেক্ট এ পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। এর বাইরে গণতন্ত্রকে অপরিবর্তনীয় এবং গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের চলবেই না গণতন্ত্র না হলে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে না ,জনগণ গণতন্ত্র ছাড়া নিজেদেরকে প্রকৃত মালিক মনে করতে পারবে না, এই ধারণা রাখা আমাদের ত্যাগ করতে হবে। 

আমাদেরকে এটাও মাথায় রাখতে হবে, একটা চরম স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থায়ও জনগণ ক্ষমতার স্বাদ পেতে পারে, যদি সেই স্বৈরশাসক মানবিক ও দরদী হয়। একজন রাজা,  রাজতন্ত্রে তার জনগণকে প্রকৃত ক্ষমতার স্বাদ দিতে পারে, যদি তিনি মানবতাবাদী হন এবং পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা এই ধরনের প্রচুর উদাহরণ পেয়ে যাব। 

গণতন্ত্রের যাত্রা মূলত বিংশ শতাব্দীর পরেই।  যদিও আমাদেরকে শেখানো হয় গ্রীস রোমানদের যে সভ্যতা এবং সভ্যতার বিকাশ সেটা গণতন্ত্রের মাধ্যমে কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে গ্রীস এবং রোমান যে গণতন্ত্র সেটা মূলত কোন প্রকৃত গণতন্ত্র ছিল না, গণতন্ত্রের নামে সেখানে এলিটতন্ত্রের একটা প্রয়োগ ঘটেছিল, যেখানে এলিটেরা নিজেদের মধ্যে থেকেই তাদের শাসক নিয়োগ দি গণতন্ত্র ই গণতন্ত্র (
গণতন্ত্রের যে আধুনিক ধারণা সেটা মূলত বিংশ শতাব্দীর পর থেকে এসেছে । আমাদেরকে এবং নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে দ্বারা হচ্ছে, এবং এ বিষয়টাও আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে যেন গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই, গণতন্ত্রের শেষ মানে মানবতার মানুষের শেষ, এবং এই বিষয়গুলোকে আমাদের  ভেতরে এমন ভাবে সেটাপ করে দেয়া হচ্ছে যে গণতন্ত্র ছাড়া আর কোন ওয়ে নাই যেন গণতন্ত্র ছাড়া মানুষের মুক্তি নাই, গণতন্ত্র ছাড়া গরীব দুঃখী মানুষের কোন স্বাধীনতা নাই । কিন্তু আসলেই কি গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের কোন মুক্তি নাই?

চরম উগ্রতায় নাস্তিক ও আস্তিকতার মিল যেখানে

১.
একজন নাস্তিক তখনই প্রতিক্রিয়াশীল ও উগ্র হয়ে ওঠে, যখন সে চায়, তার নাস্তিকতা, তার ঈশ্বরে অবিশ্বাস, এটি সবাই জানুক এবং সবাই যেন ধর্মের অসারতা ও অপ্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে। অর্থাৎ, যখন একজন নাস্তিক নিজেকে নাস্তিকতার একপ্রকার প্রচারক (preacher) মনে করে এবং নাস্তিকতা প্রচারের জন্য আকুল হয়ে ওঠে, তখনই সে এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে, একজন ডানপন্থী, উগ্র ধার্মিক কিংবা অন্ধ বিশ্বাসীর মতোই প্রতিক্রিয়াশীল ও কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ করতে থাকে।

একজন ধার্মিক ও একজন নাস্তিকের মধ্যে পার্থক্য মূলত তাদের চিন্তাগত গঠনে। একজন ধার্মিক মনে করেন, তিনি অন্যদের তুলনায় একজন ভালো মানুষ ,শুদ্ধ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি এক 'গ্রেটার পাওয়ার' এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজেকে এক উচ্চতর নৈতিক অবস্থানে স্থাপন করেন। 

২.
অন্যদিকে একজন নাস্তিক মনে করেন, তিনি জ্ঞানী; তিনি নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঈশ্বর, প্রভু বা সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে অসার ও অপ্রয়োজনীয় হিসেবে আবিষ্কার করে ফেলেছেন। একজন নাস্তিক তার চিন্তাকে সুপিরিয়র মনে করে। 
এখানেই গড়ে ওঠে আত্মচেতনার এক ভিন্ন ধরণ। একজন নাস্তিক, প্রায়শই নিজেকে পৃথিবীর আর সব মানুষের চেয়ে ভিন্ন, অধিকতর চিন্তাশীল এবং যুক্তিবাদী মনে করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর চিন্তাই একমাত্র 'শুদ্ধচিন্তা', এবং সমাজের অন্যান্য মানুষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে নিকৃষ্ট। ফলে, তিনি অন্যদের চিন্তা-চেতনাকে নগণ্য বা দুর্বল বলে মনে করেন। 

৩.
আর এই ভিন্নধর্মী দুই মেরুর চিন্তাধারার কারণেই আপনি একজন নাস্তিক ও একজন উগ্র ডানপন্থী ধার্মিককে এক কাতারে  প্রতিক্রিয়াশীল বলে অভিহিত করতে পারেন। তারা উভয়েই, যদিও বিপরীত মতাদর্শে দাঁড়িয়ে, একরকম উগ্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ ধারণ করে এবং সমাজে দ্বন্দ্ব, অসহিষ্ণুতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একজন প্রতিক্রিয়াশীল নাস্তিক ও একজন প্রতিক্রিয়াশীল ধার্মিক এই দুই চরম অবস্থান সমাজের জন্য সমানভাবে বিপজ্জনক। তারা একে অপরকে বাতিল করতে চায়, কিন্তু ফলাফল হয় একই, বৈচিত্র্যের প্রতি অবজ্ঞা, পারস্পরিক শ্রদ্ধার অবলুপ্তি, এবং সমাজে অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি। আজকের সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের মূল উৎপাদক অনেকাংশেই এই দুই ধরনের চরমপন্থী মানসিকতা।

সমাজের স্বাধীন অথরিটি ও রাষ্ট্রের বৈধতার সীমানা

এই আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রসমূহের কারণে বর্তমানে সমাজের অথরিটি রাষ্ট্র স্বীকার করতে চায় না। এই কারণেই আপনি দেখবেন, সমাজে ও রাষ্ট্রে একটা chaos বিদ্যমান। সমাজের তার অস্তিত্বের হুমকি স্বরূপ সমাজবিরোধী যেকোনো প্রচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার বা প্রতিরোধ করার যে প্রয়াস, রাষ্ট্র তা বরাবরই অবৈধ বলে গণ্য করে এবং আইন-আদালতের মাধ্যমে বিষয়টিকে নিষিদ্ধ করে রাখে। এর ফলে যা ঘটে তা হলো, সমাজ তার স্বকীয়তা হারায়, সমাজের নিজস্বতা বিলুপ্ত হয়।

রাষ্ট্রের কাছে সমাজের অথরিটি বিলীন হওয়ার ফলে ব্যক্তিরাও সমাজকে হেয়  ও ডিমীন করতে থাকে। সমাজকে তারা নগণ্য ও অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করে, সমাজের value system বা  ইথিক্স ,মূল্যবোধ, ইতিহাস ,ঐতিহ্য থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও তার কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও অনুপযোগী বলে প্রতিভাত হয়। ব্যক্তি সমাজের কোনো authority-কে স্বীকার করতে চায় না। সমাজের স্বাধীন অথরিটি তার কাছে একরকম irrelevance বা সময়চ্যুততায় পরিণত হয়। 

যদিও ব্যক্তি সমাজের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে, তবুও সমাজের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে সে অপ্রয়োজনীয় ও অবৈধ মনে করে। কারণ ব্যক্তি চাই অশেষ স্বাধীনতা ও অফুরন্ত লিবার্টি এবং যেটার ঘোষণার মাধ্যমে একটা দেশ রাষ্ট্র হয়ে ওঠে এবং সোসাইটি ব্যক্তির অফুরন্ত লিবার্টিকে একটা সীমার মধ্যে রাখতে চাই যেখানেই ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ব্যক্তির লিবার্টিকে রাষ্ট্র মেনে নিলেও সমাজ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সহজে মানতে চায় না। এ কারণেই রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মিলে সমাজকে ও সমাজের স্বাধীন অথরিটিকে অস্বীকার করে।

দেখুন, সমাজ কেবলমাত্র বাস করার জায়গা নয়। কারণ, বর্তমানে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মিলে সমাজ এবং সমাজের ধারণাকে এমনভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, যেন সমাজ শুধু সবাই মিলে সহাবস্থানের একটি পরিসর, যেখানে সমাজ উদার চিত্তে প্রত্যেক মত, পথ ও ঘরানার সবাইকে একসাথে নিয়ে বাস করে। But আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজের কাজ কেবল ব্যক্তিকে জায়গা দেওয়া নয়, ব্যক্তির বাসস্থান তৈরি করা নয়। সমাজের পরিকাঠামো ও পরিসর আরও ব্যাপক, আরও গভীর। সমাজের একটি নিজস্বতা রয়েছে, এবং এই নিজস্বতা, স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্রতা ফুটে ওঠে তখনই, যখন সমাজ নিজে অথরিটি হয়ে ওঠে।

এই অথরিটি তখনই কার্যকর হয়, যখন সমাজ তার মূল্যবোধবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডকে কিংবা মূল্যবোধবিরোধী যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। আর এই নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য সমাজের একটি আলাদা পদ্ধতি থাকে, যার মাধ্যমে সে ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

আধুনিক সময়ে মূল সমস্যাটা এখানেই, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সমাজকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম কাঠামো হিসেবে দেখতে চায় না। বরং রাষ্ট্র বরাবরই চায় সমাজের কোনো সার্বভৌমত্ব না থাকুক। এ কারণেই আপনি দেখবেন, সমাজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক পদ্ধতিকে রাষ্ট্র সবসময় অবৈধ বলে ঘোষণা করে। আর এখানেই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল দ্বন্দ্ব নিহিত। আর এই দ্বন্দ্বের মূল কারিগর হচ্ছে ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিকতা ও ব্যক্তির মূল্যবোধ বিরোধী লিবার্টি ও তার প্রয়োগ।

ইসলামে ইবাদতের ধারণা ও সামাজিকতা

ইসলামের মৌলিক যে কাঠামো বা পাঁচটি স্তম্ভ নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত , তার প্রতিটিই মৌলিকভাবে সামাজিকতার অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হোক বা হজ, কিংবা যাকাতের মতো আর্থিক দায়িত্ব , এসব প্রতিটি ইবাদতেই সমাজের অন্যদের সম্পৃক্ত করতে হয়। ইসলাম এভাবেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর অংশ করে তোলে, যেখানে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। ইসলাম ব্যক্তিগত এবাদতের মাধ্যমে সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে দেয়। 

ইসলাম আমাদের শেখায় হাউ টু বি এ ‘social being’ , হাউ টু বি  ‘socially attached’ ও ‘kind-hearted’ ব্যক্তি হিসেবে সমাজে বেঁচে থাকা যায়। আজকের এই individualism এর যুগে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর  global citizen ( যেখানে পৃথিবীর প্রত্যেক প্রান্তের মানুষ একে অপরের সম্পর্কে জানে ,বোঝে ও জ্ঞান  রাখে)  ধারণার মধ্যেও   ব্যক্তি ক্রমাগত তার নিজস্ব বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, সেখানে ইসলামের এই সামাজিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক ইবাদতসমূহ আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ হাজির করে। এই আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে , একটি সহানুভূতিশীল, সংবেদনশীল ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে। 

আপনার পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আপনার সমাজের প্রতিটি শিশুকে , সে পরিচিত হোক বা না হোক সালামি দিন। কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে হোন উদার। মনে রাখবেন, এগুলো হয়তো আপনার কাছে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ (এবাদত) মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এগুলোই সমাজে শান্তি, সহানুভূতি ও ঐক্য রক্ষার এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে। এইসব এবাদতই সমাজকে একটা সফল সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।

বাংলার মানুষ এর নিকট নির্বাচনের প্রতি এত বেশি অনীহা তৈরি হল কেন?












বাংলার মানুষ নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার অথবা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এত বেশি ঘৃণা করে কেন, যেটা আমলা বা আমলাতান্ত্রিক, কিংবা সেনাবাহিনীর সামরিক সরকার, এদের দ্বারা পরিচালিত যে কোনো সরকারকে বাংলার মানুষ ঠিক ততটা ঘৃণা করে না? এর কোনো রিজন বা কারণ রাজনীতিবিদরা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? আমার তো মনে হয়, না। না হলে এখনো রাজনীতিবিদরা নির্লজ্জের মতো ভোট! ভোট!  করে যেতেন না।

দেখুন, এটা কিন্তু একটা চিন্তার বিষয়। কেননা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলার মানুষ দেখেনি। আবার স্বাধীনতার ৫০ বছরেও যত গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে-গেছে, বাংলার মানুষ সেইভাবে তাদের প্রকৃত স্বাধীনতা যে কী, তা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেনি। গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারেররা কখনোই বাংলার জনগণকে তাদের প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপলব্ধি করাতে পারেনি ,এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা, রাজনীতিবিদদের আর কি হতে পারে?

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি, দুঃশাসন,  অপশাসন ও জনগণকে দাস মনে করা। একের পর এক তাবর-তাবর রাজনীতিবিদ এসেছে, দেশ শাসন করেছে, তবুও দেশের মানুষের ভাগ্যের সেইরকম কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এবং ওই সব মহান রাজনীতিবিদদের কর্মীরা ও তাদের দলের রাজনৈতিক কর্মীরা বাংলাদেশের মানুষকে যেভাবে নির্যাতন করেছে, দাসসুলভ আচরণে মানুষকে হেয় করেছে, তাতে বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক কর্মীবাহিনীর প্রতি এক ধরনের চাপা দুঃখ ও ঘৃণা নিয়ে বড় হয়েছে। যে ঘৃণা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং ভবিষ্যতে বাড়বে বলে আমার মনে হয়। এই কারণেই দেখা যাচ্ছে, গত ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়া সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে নির্বাচনের প্রতি কোনো আগ্রহই নেই। তারা চায় সংস্কার, দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন। তারা জানে, নির্বাচিত কোনো সরকার আসা মানেই তাদের কর্মীবাহিনী দেশের মানুষকে মানুষ মনে করবে না। এটাই বারবার ঘটেছে। আর সেই পুনরাবৃত্তির কারণেই নির্বাচনের প্রতি মানুষের এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।

আমাদের নবাগত প্রজন্মের মধ্যেও রাজনীতিবিদদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ঘৃণা জন্ম নিয়েছে। তারা ইতিহাস ঘেটে দেখেছে ,এই রাজনীতিবিদরা দেশের কোন ধরনের পরিবর্তন করতে পারেনি ,এরা শুধু দুর্নীতির মধ্যেই ছিল, এরা অপসাশন , দুঃশাসন এবং জনগণকে যেভাবে পারা যায় শোষণ করে গেছে।  তাদের ঘৃণাও রাজনীতিবিদদের ব্যাপকভাবে ভোগাবে বলে আমার মনে হয় । সুতরাং নতুন প্রজন্ম চাই দেশে পরিবর্তন আসুক, কাঠামোগত একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ,  নতুন দেশ হিসেবে পরিগণিত হোক।  তারা চায় , দেশে একটা ভালো ধরনের পরিবর্তন হোক এবং এ পরিবর্তন সেটা সামরিক সরকারই হোক না কেন কিবা অনির্বাচিত যে কোন সরকারই হোক না কেন ইতিবাচক পরিবর্তন হলেই হবে। এটার জন্য তারা সেটা গণতান্ত্রিক সরকার কি বা অবনতান্ত্রিক সরকার তাদের নিকট এটার কোন গুরুত্ব রাখে না। 


সুতরাং, এই অনীহা কাটানোর জন্য , আমাদের রাজনীতিবিদদের এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এই অনীহা শুধু আজকের বিষয় নয় , গত ৫০ বছর এবং  ৪৭ পরবর্তী পাকিস্তান আমলেও নির্বাচিত সরকার ও  রাজনৈতিক দল , কখনোই বাংলা বা পাকিস্তানের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাস্তবে কিছু করতে পারেনি। এদের নিকট ক্ষমতা ও ক্ষমতার রাজনীতি ছাড়া কোন কিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। তারা বাংলার জনগণ ও নাগরিক সমাজকে শুধু ক্ষমতার জন্যই ব্যবহার করে গেছে।

জনগণ দেখেছে, নির্বাচিত সরকারও দেশের কোনো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বা সংস্কার করতে পারে না। তারা  জানে, নির্বাচিত সরকার মানেই তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে শুধু নির্বাচন দিয়েই যদি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে আবার ‘মূলা ধরিয়ে দেওয়া’র মতো নাটক করা হয়, তাহলে বাংলার মানুষ আর সেই মুলা নিতে চায় না। তারা একটা স্থায়ী পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক আমুল পরিবর্তন দেখতে চায়।  এই পরিবর্তনের জন্য গণতান্ত্রিক সরকার এই যে গুরুত্বপূর্ণ এটা তারা ভাবতেও চায়না। সুতরাং তাদের নিকট ভোট ও ভোটের রাজনীতি কোন গুরুত্বই রাখে না। 

নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিকে তারা ঘৃণা করে। তারা চায় মানুষের জন্য , নাগরিক রাজনীতি, নাগরিক সুবিধা আদায়ের রাজনীতি, যাতে বাংলাদেশে আবার ফিরে আসে নতুন আশার রাজনীতি। সুতরাং, আমাদের বড় বড় রাজনৈতিক দলসমূহের উচিত , মানুষের চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণাকে আমলে নিয়ে নিজেদের সংস্কার করা এবং দেশের মানুষের নাগরিক রাজনীতির প্রতি যাতে আগ্রহ বাড়ে , সে লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া।

হোমলেসনেস, সামাজিকতা গ্রাম ও শহরে

১।
দেখেন সামাজিক ব্রেক ডাউন যখন হবে, মানে আপনার ওই সমাজে হোমলেসনেস এর সংখ্যা বেড়ে যাবে। দেখেন পৃথিবীর তাবক যত শহর আছে বড় বড় শহর প্রত্যেকটা শহরের সোশ্যাল রুলস রেগুলেশনস , ইন্সট্রাকশনস ভ্যালুস কাস্টমস কাজ করে না । ফলে আপনি বলতে পারেন ওই সব দেশ ও শহরে সামাজিকতা কোন ইফেকটিভ কিছু নয়। সেইসব বড় বড় শহরের সামাজিকতা মূলত একটা জাস্ট ফেইস এর আলাদা কোন গুরুত্ব নাই। এর ফলে দেখবেন ওই সব সোসাইটিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গৃহহীন ঘরহীন দারিদ্র মানুষের প্রচুর আনাগোনা।  এবং তুলনামূলক যেসব জায়গাতে সামাজিক ও সামাজিকতার প্রভাবটা প্রচুর ওইসব সমাজে আপনি দেখবেন দারিদ্রতা রয়েছে বাট গৃহীন এর সংখ্যা খুবই কম নেই বললেই চলে। অর্থাৎ সামাজিক মূল্যবোধ ও সামাজিকতার গুরুত্ব যে সোসাইটিতে বেশি সোসাইটিতে দারিদ্র থাকলেও গ্রহীন এবং ঘরহীনদের সংখ্যা খুবই নগণ্য নেই বললেই চলে। 

২।
এটার কারণ কী?
এটার মূল কারণ হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ। সমাজ তো কানেকশনের একটি বিষয় ,এখানে ব্যক্তি ও ব্যক্তিরা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, এবং এই সংযোগ মূলত ভ্যালুজ ও মূল্যবোধ হিসেবেই পরিচিত। এই কারণেই ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ একে অপরকে চেনে এবং চিনে রাখে। এর ফলেই আপনি গ্রামে গৃহহীন ও ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা খুব একটা দেখতে পাবেন না, যেটা শহরে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। কারণ, শহরে মানুষে-মানুষে যে সংযোগ, তা অনেক বেশি লুজ বা দুর্বল। আর এই দুর্বল সংযোগের কারণেই শহরের সমাজে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট বা আবেগগত সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে না। এই ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্টের অভাব থেকেই শহরে মানুষে-মানুষের মধ্যে যে দয়া, মমতা ও ভালোবাসা থাকা উচিত, সেটা অনেক কম দেখা যায়। আর ঠিক এই কারণেই শহরে গৃহহীন ও ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা এত বেশি। কারণ গ্রামের সমস্ত গৃহীন ও ঘর ছাড়া মানুষ শহরে এসে বাস করে লোক লজ্জার ভয়ে যেটা গ্রামে সম্ভব না। হয়তো গ্রামে দয়া মমতা বেশি বাট দয়ামতাহীন শহরে লোক লজ্জার ভয়েই এই গৃহহীন রা এখানে আশ্রয় নেই।

বৈশ্বিক সভ্যতা ও সামাজিক অস্তিত্বহীনতা

A.
আচ্ছা, এই আধুনিক সময়ে সমাজের ভেতরের যে চিত্র, সেখানে একটা বড় গলদ দেখা যাচ্ছে ,আমাদের নবাগত ও অনাগত প্রজন্ম সমাজের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব ক্রমশ কম অনুভব করছে। তারা এক ধরনের মিশ্র ভাবনা নিয়ে বড় হচ্ছে, যেটাকে আমরা বলতে পারি ‘গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড’। এই গ্লোবাল ওয়ার্ল্ডের কালচার, সভ্যতা, ধারণা, ধ্যান সবকিছুর প্রভাবে তারা গঠিত হচ্ছে।
এবং এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো ,মানুষের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে মৌলিক বিষয়, অর্থাৎ সামাজিক অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা ,এটি ক্রমাগতভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে, গ্লোবাল কালচারের চাপে তা হ্রাস পাচ্ছে।
মিশ্র বৈশ্বিক সভ্যতার যে ব্যাপক অগ্রসর মানসিকতা, তার ভালো দিক থাকলেও এর ভয়াবহ কিছু দিকও রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সমাজের প্রতি মানুষের অকৃতজ্ঞতা, এবং সমাজের প্রতি মানুষের যে লয়ালটি ,তা ভেঙে পড়ছে।

B.
তবে এখনো কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা সমাজের প্রতি অনুগত; যারা সমাজের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য চিন্তাভাবনা করেন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য, কোটিতে হাতে গোনা। আর সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতিটা এখানেই।
অগ্রসরমান বৈশ্বিক সভ্যতাকে জায়গা দিতে গিয়ে আমাদের ক্ষুদ্র এন্টিটি, সোসাইটি ,তার নিজস্ব কালচার ও সভ্যতাকে বাইপাস করছে। এই প্রবণতা মানুষের জন্য কতটা কল্যাণ বয়ে আনবে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে এই ভবিষ্যৎ খুবই দুর্বল, নিকট ভবিষ্যতেই আমরা এর ফল অনুভব করব।

সমাজ আসলে কি ?

সমাজ আসলে কি ? এই কোশ্চেনটা যদি আমরা করি, যে উত্তরটা পায় ,তা কিন্তু খুবই স্বাভাবিক এবং খুবই সহজ। মানুষ সহজেই বুঝতে পারে, এমন একটা কোশ্চেন, আসলে সমাজ কি? 

সমাজ হচ্ছে মানুষের একাকিত্বকে ডিনাই করা, মানুষের একাকিত্বের বিপরীত অবস্থাকে আমরা সমাজ বলতে পারি। ফলে একজন ব্যক্তি যখন একাকীত্ব ফিল করে তখন বুঝতে হবে ব্যক্তির সমাজের সাথে নিজেকে এডপ্ট করতে পারছে না । একাকীত্বকে রুখে দিতেই মূলত সমাজের প্রয়োজন। মানুষ কখনোই একাকীত্বকে ভালবাসেনি একা ও থাকেনি সে সবার মাঝে নিজের পরিচয় আত্ম উপলব্ধির মাধ্যমে সে নিজেকে চিনেছে নিজেকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এবং এটার অধিকাংশ ক্রেডিট যাবে সমাজের প্রতি। যদিও সমাজ কোন সেলফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিষয় না, সমাজ হচ্ছে একটা বিষয় যে মানুষের উপরই নির্ভর করে সে আসলেই কেমন সমাজ চাই কিভাবে চাই কাদের সাথে চায়। সমাজের পরিচয় ফুটে ওঠে ব্যক্তি বর্গের উপর। সমাজের সব ব্যক্তিরা যখন তাদের ইন্ডিভিজুয়ালিটি কে বাই পাস করে সমগ্র হয়ে ওঠে তখনই একটা সমাজ সার্থকতা লাভ করে। সমাজের আরো অনেক বিষয় আছে যা ব্যক্তি থেকে সমাজে প্রবাহিত হয়। সমাজের কোন চাওয়া-পাওয়া নেই ,চাওয়া পাওয়া মূলত ব্যক্তির। সমাজের কোন চাহিদা নেই, চাহিদা মূলত ব্যক্তির। সমাজে এর আসলে কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই ,সমস্ত প্রয়োজন মূলত ব্যক্তির। সুতরাং ব্যক্তির কমফোর্ট কে পূরণ করতেই সমাজের আবির্ভাব ,সমাজের প্রয়োজন। সমাজ ব্যক্তিকে কমফোর্ট করবে, ব্যক্তি-সমগ্র কে কন্ট্রোল করবে এবং ব্যক্তি ও ব্যক্তির সমূহের সমস্ত কিছুকে ধারণ করে সমাজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। এর বাইরে মূলত সমাজের কোন কিছুই নাই। সমাজের অস্তিত্বও নেই সমাজের নিজ পরিচয় বলে কোন কিছুই নাই। আর সমাজ কি এর সহজ উত্তর হচ্ছে এটাই। 

সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ অর্থাৎ রাষ্ট্র হিসেবে আপনার দেশ ব্যর্থ হবেই হবে

পৃথিবীর যেসব দেশে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, সেই প্রতিটি দেশই নানা রকম সংকট ও জটিলতায় জর্জরিত এবং রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। আপনি যে দেশই দেখেন না কেন, পাকিস্তান, মিশর, ইরান, তুরস্ক কিংবা মিয়ানমার প্রত্যেকটি উদাহরণেই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যেখানে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, সেখানে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দমননীতি এবং অস্থিরতা জন্ম নিয়েছে।

সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের বাইরের যেকোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা তাদের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে, বরং তা তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সমস্যার মূল শিকড়টি নিহিত রয়েছে তৃতীয় বিশ্বের সেই সব দেশের মানসিকতায়, যেখানে সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য মনে করেন, দেশের প্রকৃত রক্ষক কেবল তারাই; দেশপ্রেম, সাহস, এবং নেতৃত্বের ‘ক্যালিবার’ শুধুমাত্র তাদের মধ্যেই আছে। তারা ধারণা করেন, রাজনীতিবিদ বা সাধারণ জনগণ দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন। এই আত্মঅহংকার থেকেই জন্ম নেয় সামরিক হস্তক্ষেপ, যা কখনোই কাম্য নয়।

সেনাবাহিনীকে বুঝতে হবে ,রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতি, প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা , এই তিনটি ক্ষেত্রের নিজস্ব গতি ও গণ্ডি আছে। দুর্নীতি যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকে, সেটা সামরিক বাহিনীর মধ্যেও থেকে যেতে পারে। একে দমন করতে হলে সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পথ খুঁজে নিতে হবে; সামরিক অভ্যুত্থান বা হস্তক্ষেপ নয়।

রাজনীতিবিদ, আমলা এবং সেনাবাহিনীর প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা আছে। কেউ কারো বিকল্প নয়, কেউ কারো প্রতিপক্ষও নয়। এই সীমারেখা লঙ্ঘন করলেই রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে পড়ে, এবং রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হয়।

উগ্র ডানপন্থী সরকার ও তার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শত্রুতা

যেকোনো দেশের উগ্র ডানপন্থী সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এক ধরনের শত্রুতার মনোভাব পোষণ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে, কারণ এসব জায়গা থেকে যুক্তিবাদ, সমালোচনামূলক চিন্তা, এবং স্বাধীন মত প্রকাশের চর্চা গড়ে ওঠে, যা উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহ্য করতে পারে না, কারণ উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারা মূলত স্বল্পশিক্ষিত, আবেগপ্রবণ জনগোষ্ঠীর উপর নির্ভরশীল। কারণ তাদের বিভ্রান্ত করা সহজ, এবং তারা প্রশ্ন কম তোলে, সহজে বিভ্রান্ত করতে পারে। সেটা মোদী , ট্রাম্প , এরদোয়ান,  বলসোনারো হোক কিবা হাভিয়ের মিলে, এই উগ্র ডানপন্থীরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে  গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়। এই প্যাটার্নটা আপনি স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন ভারতের JNU  বা জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কে যেভাবে বিজেপি আরএসএস দ্বারা  আক্রমণ করা হয় ।  এই একই কান্ড করেছে ট্রাম্প হার্ভাডের সাথে। 

আমাদের একটি বিষয় জেনে রাখতে হবে , হয়তো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কোনো দেশ বা  জাতি, ধর্ম,  সংস্কৃতির ধারক ও বাহক নয়, কিন্তু একটি দেশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মানবাধিকার রক্ষায় এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উগ্র ডানপন্থীরা বরাবরই মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার বিষয়ক ধারণাগুলোর প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। এই কারণেই দেখা যায়, উগ্র ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদরা প্রায়শই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিছক বিদ্রোহ বা  দেশদ্রোহী কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরে, যাতে জনগণের মধ্যে এদের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করা যায়।

রাষ্ট্রের প্রয়োজন নাগরিক জ্ঞান, দেশপ্রেম নয়! রাষ্ট্রের উচিত তার নাগরিকদেরকে নাগরিক জ্ঞান দেওয়া, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা নয়!

একটি দেশের জনগণ শুধুমাত্র আদর্শবাদ, দেশপ্রেম বা চেতনা দিয়ে কখনোই একটি রাষ্ট্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন বা উন্নত করতে পারে না। এগুলো কোনোভাবেই রাষ্ট্রের উন্নতির প্রকৃত উপায় নয়। একটি রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিকদের মধ্যে সিভিক সচেতনতা  বা নাগরিক জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা। দেশপ্রেম, চেতনা বা দেশের প্রতি ভালোবাসা একটি রাষ্ট্রকে কখনোই উন্নতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। এ ধরনের আলোচনা রাজনীতিবিদদের কাজ হতে পারে, কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রকে গঠন ও উন্নত করতে চায়, তাদের জন্য এই ধরনের আদর্শবাদী ভাষা বা শূন্য বুলি যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশপ্রেম বা চেতনার বাইরে একটি সুনির্দিষ্ট নাগরিক জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ প্রয়োজন। সুতরাং প্রশ্ন হচ্ছে নাগরিক সেন্স বা সিভিক সেন্স কী? নাগরিক সেন্স বা সিভিক সেন্স হলো এমন একটি মানসিকতা ও আচরণবোধ, যা একটি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মধ্যে গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা স্বেচ্ছায় সভ্য, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে এবং সামাজিক নিয়মকানুন ও নৈতিকতা মেনে চলে।অর্থাৎ, নাগরিক সেন্স হলো এমন একটি জ্ঞান ও সচেতনতা, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক বুঝতে পারে কোন কাজটি শালীন, কোনটি অন্যের জন্য ক্ষতিকর, এবং কোনটি সমাজ বা পরিবেশের ক্ষতি করে। এই সচেতনতার ভিত্তিতে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করাই নাগরিক সেন্সের মূল উদ্দেশ্য। 
সিভিক সেন্স  ও দেশপ্রেমের মধ্যে  পার্থক্য রয়েছে! আপনার রাষ্ট্রকে আপনি কেমন দেখতে চান এবং সেটার বাস্তব প্রয়োগ,  কিন্তু দেশপ্রেম আপনাকে একটা ইউটুপিয়ান চিন্তা ধারণ করতে শেখায় এবং নিজের রাষ্ট্রের নাগরিককে শত্রু জ্ঞান করতে শেখায়, বিভাজন ও বিভক্তির পথে হাটে। 
অন্যদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা, সামান্য কথায় কাউকে দেশদ্রোহী বলে অভিযুক্ত করা, দেশ বা জাতির শত্রু মনে করা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা, বা কারো দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, এগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং বস্তিবাসীদের ঝগড়ার মতো আচরণ। আর মুখগুলাই হচ্ছে দেশপ্রেম ও চেতনার বাই প্রোডাক্ট। একটি দেশকে  ও তার নাগরিকদেরকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড, চিন্তা  থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের এ ব্যাপারে আরও বেশি সংযত হওয়া প্রয়োজন।

বিপরীত মতাদর্শের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে গালি নয়, যুক্তির ভাষা শেখা জরুরি !

ধরা যাক, আপনার কাছে কোনো একটি মতবাদ বা আদর্শ খারাপ বলে মনে হচ্ছে, কিংবা সেটি সাধারণের দৃষ্টিতেও অনৈতিক বা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত, অথবা সেই মতবাদটি আপনার ব্যক্তিগত বা সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী অবস্থান করছে। তবুও, যদি কেউ সেই মতবাদ বা আদর্শ সম্পর্কে একটি প্রকাশ্য সোশাল মিডিয়া পোস্ট করে বা বিপরীত মতবাদের সমর্থন জানায় তাই বলে আমাদের উচিত নয় কেবল বিরোধিতা করার কারণে তাকে তার পোস্টে গিয়ে তাকে অন্ধভাবে আক্রমণ করা বা কমেন্টের মাধ্যমে গালিগালাজে মেতে ওঠা। আবার এমন মন্তব্য করাও সমীচীন নয় যেখানে কেউ না জেনে না বুঝে কেবল শুনা কথার ভিত্তিতে বলে দিচ্ছে যে মতবাদটি সমাজের বিরুদ্ধে।
ধরা যাক, কোনো একজন নারীবাদী ফেসবুকে পোস্ট করলেন যে, নারী উন্নয়ন কমিশনের কোনো কার্যক্রম ইসলামবিদ্বেষী কিনা, তিনি তা জানতে চাচ্ছেন বা কোন নাস্তিক জানতে চাচ্ছেন যে কেন ধর্মের বিরুদ্ধে সে কথা বলতে পারবে না ? সাধারণ মানুষের এখানে বোঝা উচিত, এমন পোস্ট দেখে অযথা বিক্ষিপ্ত ও খারাপ বা হুমকি মুলক কোন মন্তব্য করার দরকার নেই। মন্তব্যে বলা উচিত নয় যে “এইসব তো ইহুদী-খ্রিস্টানরা বানিয়েছে” কিংবা পশ্চিমারা নারীর স্বাধীনতার নামে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায় , শালা নাস্তিক, শাহাবাগি, বা এমন কোন গালি যা আসলে কোন ভাল কিছু বয়ে আনেনা । আবার, সেই ব্যক্তিকে তার পরিবার তুলেও গালিগালাজ করাও উচিত নয়। এতে লাভ তো হয়ই না, বরং ক্ষতি হয়। আপনি যে তাদের গালি গালাজ করে দেশ , জাতি ও আপনার ধর্ম কে উদ্ধার করে ফেলছেন তাও কিন্তু না ।
যেমন, আপনি ইচ্ছেমতো তসলিমা নাসরিনকে, আসাদ নুর কে গালি দিতে পারেন না, বা কোনো নাস্তিককে কেবল তার মতবাদে দ্বিমত থাকার কারণে গালি দেওয়ার অধিকারও আপনার নেই। অযথা তাদের প্রোফাইলে গিয়ে এমন মন্তব্য করা একপ্রকার নিজের বিশ্বাসের ক্ষতিসাধন করে। আবার আপনার সমমনা যারা জানে ও তাদের কে কাউন্তার দিতে সক্ষম তাদের কে আপনার দুর্বল করেন। আমরা আরও দেখি, কোনো নায়ক বা নায়িকার ফেসবুক পোস্টে গিয়ে অনেকেই অহেতুক গালিগালাজ করে। এ ধরনের আচরণ থেকেও আমাদের বিরত থাকা উচিত। বরং বোঝা উচিত, এই আচরণগুলো দিনের শেষে কাউকে উপকার করে না, বরং সমাজের মানসিকতা ও পরিবেশকে আরও কলুষিত করে তোলে।
তাই আমাদের সমাজের নেতৃত্বদানকারী ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উচিত এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নেতিবাচক কার্যকলাপ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা। আমাদের সবাইকে বোঝাতে হবে যে, কোনো ব্যক্তির প্রোফাইলে গিয়ে মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে , আমি কি এই বিষয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা রাখি? যেটি নিয়ে পোস্ট করা হয়েছে, সেটি কি আমার বোধগম্য? যদি হয়ও, তাহলেও মন্তব্য এমনভাবে করতে হবে যাতে তা নেতিবাচক, অপমানজনক বা আক্রমণাত্মক না হয়। কেবল এই ভেবে যে আমি একটি মন্তব্য করে সমাজ, জাতি, ধর্ম বা দেশকে রক্ষা করে ফেলেছি, এই রকম আত্মতুষ্টিমূলক ধারণা থেকে মন্তব্য করা উচিত নয়।

সমাজে জাজমেন্টাল মানসিকতার বাড়তে থাকা প্রবণতা এবং এর রূপান্তর

[1]
জাজমেন্টাল মানসিকতা , আগে যা সীমাবদ্ধ ছিল ব্যক্তি ও নিকট-সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া নামক অনির্দিষ্ট, অপরিচিত ও অজানা ক্ষেত্রের মধ্যে। একটি পরিবর্তন আমরা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারছি , যে পরিবর্তন আমাদেরকে চিন্তার এক নতুন বাস্তবতায় ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমরা যে একটি বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করেছি, সেটি হলো, সমাজে ‘জাজমেন্টাল মেন্টালিটি’ দিন দিন কমার বদলে বরং বাড়ছে। অথচ, মানুষ যেখানে সমাজের প্রতি দিন দিন আরও বেশি বিমুখ হয়ে পড়ছে, সেখানে এই বিচারপ্রবণ মানসিকতার কোনো হ্রাস লক্ষ করা যাচ্ছে না। মানুষ আজ যতটা না সামাজিক বন্ধনের মধ্যে আছে, তার চেয়ে বেশি আছে বিচ্ছিন্নতায়; তবুও, আশ্চর্যজনকভাবে এই বিচ্ছিন্ন মানুষগুলো দিন দিন আরও বেশি ‘জাজমেন্টাল’ হয়ে উঠছে, এমনকি অপরিচিতদের ক্ষেত্রেও।
[2]
সমাজে এই জাজমেন্টাল মানসিকতার যে প্রভাব আমরা আগে দেখতাম, এখন তা অনেক বিস্তৃত এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আগে মানুষ সাধারণত বিচার করত নিজেদের পরিচিতদের, নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী বা সামাজিকভাবে ঘনিষ্ঠদের। কিন্তু বর্তমানে যে সংকটটি তৈরি হয়েছে তা হলো: সমাজে সরাসরি এই বিচার প্রবণতা কিছুটা কমলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষ এখন অপরিচিত কাউকেও তার ছবি বা একটি ছোট ভিডিও দেখে সহজেই বিচার করে ফেলে। তার চরিত্র বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না রেখেও মন্তব্য করে বসে। অধিকাংশ মন্তব্যই হয়ে থাকে একপাক্ষিক, অবিবেচক ও নেতিবাচক। কেউ হয়তো নিজের মত প্রকাশ করছে, কিন্তু মুহূর্তেই সেই পোস্টের নিচে উপহাস, হেয় করা মন্তব্য, ‘হা হা’ রিয়্যাকশন বা ব্যঙ্গাত্মক স্টিকার এসে জমা হচ্ছে। এটি নিছক মত প্রকাশ নয়, এটি এখন এক ধরনের মানসিক অসুস্থতায় রূপ নিয়েছে। আর সাথে আছে আবার মিম কালচার , যেকোনো কিছু হলেই মানুষেরা শুরু করছে মিম বানানো আর এসব মিম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এত নেতিবাচক যা কল্পনাও আনাও যায় না। সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো একটা কমেন্ট, হাহা রি আকশ্যান যতটা না ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে আমার মনে হয় মিম তার চেয়ে বেশি মানুষ কে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
[3]
আবার এই জাজমেন্টাল প্রবণতার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন সেলিব্রেটি, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, টিকটকার, ইউটিউবাররা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা জাছে কোন ভাবে ভাইরাল হইয়া জাওয়া কোন সাধারন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি করে ঘটছে আর সাধারন ব্যক্তি সমাজ এটা সেলিব্রেটি দের মত এগুলাকে হ্যান্ডলও করতে পারেনা ফলে তারা প্রতিনিয়ত এমন মন্তব্যের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা একটি সাধারণ মানুষের মানসিক স্থিতি ভেঙে দিতে পারে। এই সমালোচনা বা বিচার অনেক সময় এতটাই কটূ, এতটাই নির্মম যে তা সহ্য করা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, আমি মনে করি, মানুষের জাজমেন্টাল মানসিকতা কমেনি, বরং রূপান্তরিত হয়েছে এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তা আরও ব্যাপক ও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

দ্যা বুলশিট পলিটিক্স!

আপনি যদি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাকে জিজ্ঞেস করেন, রাজনীতি কী? কিংবা তাদের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক দর্শনের মানে কী? তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, অন্তত ৯০ শতাংশ  রাজনীতিবিদই  উত্তর দেবেন: রাজনীতি মানে মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন আর অবরোধ। তাদের মধ্যে বড়জোর এক-দুজন বলবেন, রাজনীতি মানে সকল মানুষের জন্য কাজ করা।
এই একই চিত্র আপনি বাংলাদেশেও দেখবেন। বাস্তবে, এখানে ৯০ শতাংশ রাজনৈতিক কর্মীই অশিক্ষিত কিংবা রাজনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তারা জানে না রাজনীতি কী, কীভাবে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা যায়, কীভাবে ন্যায় ও উন্নয়নের পক্ষ নেওয়া যায়। তারা শুধু জানে কীভাবে রাস্তা বন্ধ করতে হয়, কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে বাধা দিতে হয়, কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করে তাদের কষ্ট দিতে হয়।

তাদের কাছ থেকে আপনি কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশা করতে পারেন না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝেও রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা মতবিরোধ প্রকাশের কোনো সুশৃঙ্খল ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির চর্চা নেই। দুদিন পরপর আপনি দেখবেন, রাজধানী ঢাকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর অচল হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক দলের তথাকথিত কর্মসূচির কারণে, যার একমাত্র ফল মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা। অথচ, আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা গর্বভরে বলবে, তারা দেশের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে! তারা রাস্তা বন্ধ করে মনে করে দেশের মানুষের জন্য তারা কিনা করে ফেলেছে ! হোয়াট এ বুলশিট ! 
এটাই বাস্তবতা এবং এটি একেবারেই অর্থহীন। রাজনীতি নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনাই একটি ‘বুলশিট’, অর্থহীন, অপদার্থ ও আত্মসন্তুষ্টিতে ভরা।

যতদিন পর্যন্ত এই ধরণের মানসিকতা ( রাস্তাঘাট , কলকারখানা , সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষালয় বন্ধ করে মানুষ কে কষ্ট দেয়া) রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সমাজে বিদ্যমান থাকবে, ততদিন আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন ,এই দেশ একচুলও এগোবে না। দেশ পড়ে থাকবে তার পুরনো তৃতীয় বিশ্বের পরিচয় নিয়ে। দুঃস্থতা, বিশৃঙ্খলা ও অযোগ্য নেতৃত্বের এক বৃত্তে।

বাংলাদেশে কারা থাকবে?

বাংলাদেশপন্থিরা থাকবে, ভারতপন্থিরাও থাকবে, পাকিস্তানপন্থিরাও থাকবে, ইসলামপন্থিরাও থাকবে, হিন্দুত্ববাদপন্থিরাও থাকবে... যে যার মতবাদ নিয়ে সবাই থাকবে এই দেশে। শাপলাও থাকবে, শাহবাগও থাকবে। এটা কারো বাপের দেশ না যে অন্য কাউকে বের করে দেবে।
একটা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মানে হলো, তার দেশবিরোধীদেরও সে আত্মীকরণ করবে এবং আপন করে নেবে।

রাষ্ট্র ধারণা মূলত কী?

রাষ্ট্র একটি ইনক্লুসিভ ধারণা; এখানে সব ধরনের, সব ঘরানার মানুষ একত্রিত হয়। তারা একটি চুক্তিতে আসে যে, "হ্যাঁ, আমরা মিশে থাকবো।" সুতরাং, এখানে যখনই বিভাজন ও পার্থক্যের রাজনীতি করবেন, একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে বেশি 'রাষ্ট্রবাদী' দাবি করবেন, তা ওই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।  একটি রাষ্ট্রের মূল বিষয় হচ্ছে তার বিরোধীদেরকেও সেই স্থান দেওয়া। একজন ব্যক্তি যতই রাষ্ট্রের বিরোধী হোক না কেন, সে রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে বিশ্বাস না-ও করতে পারে, তবুও সে সেই রাষ্ট্রে পূর্ণ সম্মান ও স্বাধীনতা নিয়ে বসবাস করবে। যখন কোনো রাষ্ট্র তার অস্তিত্বের বিরোধীদেরও সম্মানসহ বসবাসের অধিকার দিতে পারে, তখনই বোঝা যায় রাষ্ট্র একটি 'ওয়েলফেয়ার স্টেট' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে সবাইকে নিয়ে চলা, কাউকে ফেলে দেওয়া নয়, কাউকে অস্বীকার করা নয়।

এখন সমস্যা কোথায়? সমস্যা দেখা দেয় যখন রাষ্ট্রের ভেতরেই কেউ কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী বা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়, এবং এর মূল কারণ রাজনীতি। অর্থাৎ, ওই রাষ্ট্রের সরকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব নেওয়ার দ্বন্দ্ব, বিপরীতমুখী মতবাদ এবং ক্ষমতার লড়াই। এখানেই একজন আরেকজনকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। রাজনীতির এই কঠিন মারপ্যাচে ক্ষমতা বিশাল একটি ফ্যাক্টর। ক্ষমতার লোভে একদল আরেক দলকে অস্বীকার করে বসে। এটি রাষ্ট্রের জন্য প্রকৃতপক্ষে হুমকি স্বরূপ। একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে যতটা না সেই রাষ্ট্রের জন্য হুমকি, তার চেয়ে বেশি হুমকি তৈরি হয় যখন দুই দল একে অপরকে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা দেয়। এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনে।

রাষ্ট্র হচ্ছে পুনর্মিলনের জায়গা।
রাষ্ট্র একটি পরিবারের মতো। যেমন একটি পরিবারে বাবা-মা কোনো সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে না, যতই সেই সন্তান পরিবারের ক্ষতি করুক না কেন, তেমনই রাষ্ট্রও তার কোনো নাগরিককে ফেলে দেয় না বা অস্বীকার করে না। রাষ্ট্র তার সকল নাগরিককে নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রতিশ্রুতি দেয়।

রাজনীতি আসলে করবে কারা?


দেখেন আগের যত দার্শনিক,  ফিলোসফার,  সমাজবিদ ছিল, তাদের যেকোনো লেখায় আপনি একটা বিষয় খেয়াল করবেন?  সেটা হচ্ছে রাজ্য চালনা বা রাষ্ট্রপরিচালনা কিবা জাতির নেতৃত্ব দেওয়াটা মূলত আভিজাত,  উচ্চমানের নৈতিক আদর্শসম্পন্ন ব্যক্তি এবং উঁচু দরের জ্ঞানী লোকদরেরই মানায়। ফকিন্নি, গরিব, নিচু মানসিকতাদেরন জন্য রাজনীতি নয় , রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব তো নই মোটেই। কারণ এই ফকিন্নি গরিব ও নিচু মানসিকতার লোকেরা যখনই জাতির নেতৃত্বের পর্যায়ে যাবে তখনই তারা হয় দুর্নীতি করবে অথবা বিভাজন বিভক্তি এবং  স্বৈরাতান্ত্রিকতা পরিচালিত করে দেশে অশান্তি বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। এবং ইতিহাসে এর উদাহরণ আপনি ভুরিভুরি দেখবেন। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে মূলত অভিজাতদেরকেই মানায়।  এই অভিজাত হবে  কারা এবং অভিজাতের সংগায়য়নটা কি হবে?  এই অভিজাত হবে উচু বংশীয়, সুশিক্ষিত,  উঁচ্চ নৈতিক আদর্শ, আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন   এবং  ধনীরা।  আর এদের বাদে সব জনসাধারণই হবে মধ্যবর্তী।  আর  এদের নিচু পর্যায়ের লোকগুলোই হচ্ছে ফকিন্নি গরিব এবং নিচু মানসিকতার।  মাঝে মাঝে জনসাধারণের মধ্য থেকেও জাতীয় নেতৃত্ব বের হয়ে আসতে পারে এবং সে সুযোগটা রাখা উচিত। তবে কখনোই নিচু মানসিকতার লোকদেরকে জাতীয় নেতৃত্ব যেন না যাইতে পারে সেটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। 

এই যে দেখেন আফ্রিকান কিবা এশিয়ান ও ল্যাটিন আমেরিকার  প্রায় সব দেশই গরিব, দুর্নীতিগ্রস্ত  এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায়  কেন  জর্জরিত? তার অন্যতম কারণ হচ্ছে এসব দেশের নেতৃত্ব বা নেতারা সমস্তই হচ্ছে ফকিন্নি গরিব ও নিচু মানসিকতার। পৃথিবীর যতগুলো গরীব রাষ্ট্র আছে এবং থার্ড ওয়ার্লড  কান্ট্রি রয়েছে, প্রত্যেকটার নেতা বা জাতীয় নেতৃত্ব হচ্ছে ফকিন্নি গরিব আর নিচু মানসিকতার তবে ব্যতিক্রমও হতে পারে।  

উগ্র জাতীয়তাবাদী

উগ্র জাতীয়তাবাদীদের উত্থান আজ বিশ্বের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত তারই প্রমাণ। এই যুদ্ধটি আসলে তাদের রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ বা সেনাবাহিনীর সুপরিকল্পিত কোন সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি মূলত উগ্র জাতীয়তাবাদীদের অন্ধ উন্মাদনার প্রতিফলন। জনসমর্থন আদায় এবং উগ্র জাতীয়তাবাদীদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্যই মোদি সরকার পাকিস্তানের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এটি মূলত এক ধরনের "পাবলিক ডিমান্ড" পূরণের নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি যদি মনে করেন পেহেলগ্রামের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা হয়েছে, তাহলে তা নিতান্তই অজুহাত। প্রতিশোধের মানসিকতা থাকলে ভারত বহু আগেই প্রতিক্রিয়া দেখাত। বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদীদের খুশি করার একটি রাজনৈতিক খেলা।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো সংঘাত বা যুদ্ধ হলে আপনাকে বুঝতে হবে, এটি মূলত উগ্র জাতীয়তাবাদীদের উস্কানির ফল। এই জাতীয়তাবাদীরা এতটাই সংকীর্ণমনা এবং ঘৃণায় পূর্ণ যে, এদের চিন্তা-চেতনা  খুবই ভেনমাস। এদের মনুষ্যত্ব নেই,  আছে শুধু অন্ধ ঘৃণা আর যুদ্ধের পিপাসা। আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য এরা এক মূর্তিমান বিপদ। পৃথিবীর শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে, এই উগ্র জাতীয়তাবাদী এবং জিঙ্গোইস্টদের রুখে দিতে হবে, কোনোভাবেই এদের বিষাক্ত চিন্তা ছড়াতে দেওয়া যাবে না। 
এই উগ্র জাতীয়তাবাদীরা সবসময় দেশপ্রেমের ভণ্ডামি দেখিয়ে আপনাকে বুঝাতে চায় যে তাদের দেশপ্রেমের উন্মাদনা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অতি দেশপ্রেম আসলে একটি মানসিক বিকৃতি। একটি দেশের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং উন্নতির জন্য কোনো উগ্র দেশপ্রেমের প্রয়োজন নেই। দেশপ্রেম আসলে একটি অযথা এবং অতিরিক্ত আবেগ, যা সমাজে বিভাজন, বিভক্তি, এবং বিদ্বেষ ছড়ায়।
দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সুনাগরিক গড়ে তোলা, অন্ধ দেশপ্রেমিক নয়। যারা নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে, বাস্তবে তারাই সমাজে বিভেদ ও ঘৃণার বীজ বপন করে। এই ভণ্ড দেশপ্রেমিকদের আসলে দরকার নেই। আমাদের দরকার নাগরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করা, একটি সচেতন, দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা। আমাদের নতুন প্রজন্ম এবং শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে কীভাবে একজন ভালো নাগরিক হওয়া যায়, কীভাবে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়। "দেশপ্রেম" নামের অপ্রয়োজনীয় নাটক শেখানোর চেয়ে তাদের শেখানো উচিত নাগরিক অধিকার, মানবতাবোধ, এবং সামাজিক দায়িত্ব এবং  নাগরিক দায়িত্ববোধ ।  এই ভ্রান্ত দেশপ্রেমের আবেগকে একদম ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে, এটা শুধু সমাজে বিষ ছড়ায়, উন্নতি নয়।

আদর্শহীন পৃথিবীর আহ্বান !

পৃথিবীতে যদি সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন এবং ধ্বংসাত্মক সংঘাত থেকে থাকে, তবে তা হলো মতাদর্শিক (ideological) সংঘাত। এটি অনেকটা বস্তির মারামারির মতো, যেখানে সবাই নিজেদের সঠিকই ভাবে, কিন্তু কেউই প্রকৃত অর্থে সঠিক নয়, আবার পুরোপুরি সৎও নই। এই মতাদর্শিক সংঘাত আর ঝগড়া মানবসভ্যতার জন্য লজ্জাজনক এবং এটি গোটা পৃথিবীকে বিশৃঙ্খলা আর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। এই মতাদর্শিক যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হয়েছে মূলত বিংশ শতাব্দীর পর থেকে, যখন মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র, জাতি চিন্তার উদ্ভব ঘটেছে আর মানুষ নতুন করে মানবাতার ধারণা পেতে শুরু করেছিল এবং উপনিবেশবাদ (colonialism)-এর পরিসমাপ্তির পর থেকেই এই ইডিওলজিকাল মতপার্থক্যের দিকে এগুতে থাকে। ঠিক তখন থেকেই মানুষ নতুন করে পারস্পারিক বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং মতভেদের এক ভয়াবহ মহামারি নিয়ে এসেছে, যার ভিত্তি মূলত এই ইডিওলজিকাল বা মতাদর্শ এবং দর্শন আর ফিলসোফিকাল দ্বন্দ্ব।

যদিও উত্তরাধুনিক সময়কালে এই ইডিওলজিকাল দ্বন্দ্ব কমে আসছে তার জায়গা নিচ্ছে ব্যাবসা, অর্থ আর টেকনলজি/প্রযুক্তি ও ভোগবাদ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উন্নত দেশ এই ইডিওলজিকাল মতদ্বন্দ্ব থেকে বের হয়ে আসলেও অনুন্নত আর পিছিয়ে পড়া, পশ্চাৎপদ দেশগুলো এখনো এই আদর্শিক/ইডিওলজিকাল আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাদের রাজনৈতিক পরিসর, শিক্ষাব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজ ( সুশীল সমাজ ) এখনো এক ধরণের অচল ও পুরাতন ভাবনার মধ্যে বন্দী, যেখানে মনে করা হয় যে একটি নির্দিষ্ট মতবাদই জাতির মুক্তি এনে দিতে পারে। অথচ এই ধারণার সময়কাল ইতোমধ্যেই ইতিহাসের গহ্বরে ( গত শতাব্দীর শেষেই ) বিলীন হয়ে গেছে।

আর এই মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব এতটাই বিপজ্জনক ও বিষাক্ত যে, দুজন মানুষ খুব কাছাকাছি অবস্থান করেও , শুধুমাত্র মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তারা একে অপরের থেকে বহুদূরে অবস্থান করে । আর সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক দূরত্ব সৃষ্টি করে। আদর্শ , দর্শন ও মতাদর্শ ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, যা সমাজে ও রাজনিতিতে এক গভীর সংকটের জন্ম দেয়।

মানুষের মনে রাখতে হবে আদর্শ বলতে আসলে কোন কিছু নাই। সব ভাউতা আর ভণ্ডামি মুলত ক্ষমতার লোভ আর লালসা।

দেশপ্রেমের অতিরঞ্জন আর মানবিকতার বিপদ !

পৃথিবীতে যদি কোনও সর্বজনীন গভীরতর ধ্বংসাত্মক  অনুভবহীন  ইমোশনাল ওয়েপেন থেকে থাকে, তবে তা হলো দেশপ্রেমের অতিরঞ্জন দেশ প্রেমের  অতিরঞ্জতা এই  ধারণা যে, দেশ ছাড়া সব কিছু গৌণ, দেশই প্রথম এবং দেশই শেষ, এই মনোভঙ্গি আজ আমাদের সামাজিক বন্ধন, মানবিক সম্পর্ক স্বাভাবিক মানব প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, অথচ আমরা তা সচরাচর বুঝতে পারি না।

এই আধুনিক বিশ্বের যত জটিলতা, দ্বন্দ্ব সংঘাত চলছে, কেউ যদি প্রশ্ন করে, এসবের মূলে কী? তবে আমি বলব, এর একমাত্র উৎস হলো এই দেশভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য। পৃথিবীর এই সংকটগ্রস্ত অবস্থার সমাধান তখনই সম্ভব, যদি আমরা এই জাতীয়তাবাদী চেতনার ধ্বংসে সক্ষম হই। তা না হলে, কোনো মুক্তির পথ নেই।

আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধ হয়তো আগের তুলনায় কমেছে, কিন্তু মানবজাতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক হিংস্র, অমানবিক, ঘৃণাপূর্ণ ধ্বংসাত্মক আচরণে লিপ্ত। আমরা আজ এত প্রযুক্তির মাঝে থেকেও কোথাও যেন আটকে আছি, এক ধরনের অস্পষ্ট সংকটে। বিশ্বজুড়ে মানুষ আজ মানসিক শান্তি থেকে বঞ্চিত, কারন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সহানুভূতির জায়গায় ঘৃণা আর বিদ্বেষ স্থান দখল করে নিচ্ছে। কোন মানুশের অন্তরে ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা থাকবে আর সে মানসিক শান্তিতে থাকবে এইটা কখনওই হতে পারে  না তাই তো পৃথিবীর অধিকাংস মানুষ মানসিক অশান্তির মধ্যে রয়েছে ।

অনেকেই একে বলবে survival of the fittest এর বাস্তবতা, যেখানে মানুষ বা দেশ একে অপরকে হারিয়ে টিকে থাকতে চায়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, মধ্যযুগের পরবর্তী রেনেসাঁসের মূল লক্ষ্যই ছিল এই ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভাজন এবং মানবজাতির পার্থক্যকে অতিক্রম করে একটি মানবিক আধুনিক যুগের সূচনা করা। অর্থাৎ এই সারভাইভাল অফ দ্যা ফিটেশট এর নাম দিয়ে মানুশে মানুসে যুদ্ধ , হানাহানি, ঘৃনা, বিদ্বেষ এর শেষ করে দিয়া আর এর পরিবর্তে স্থান দখল করবে ভালবাসা, পারস্পারিক সহযোগিতা, প্রেম । কিন্তু হচ্ছে এর উল্টো!

আমাদের দার্শনিক, কবি, সাহিত্যিক চিন্তাবিদেরা বারবার আমাদের সতর্ক করে দিয়ে গেছেন। তাহলে কি আমরা এখনও আধুনিক হতে পারিনি? আমরা কি এখনও সেই মধ্যযুগীয়, বর্বর মানসিকতার ধারাবাহিকতায় আটকে আছি?

অনেকে বলবে, এই অন্ধ জাতীয়তাবাদের পেছনে ধর্ম দায়ী। কিন্তু আসলেই কি ধর্ম দায়ী? যদি তাই হয়, তবে কি ধর্মই মানুষকে আরও ঘৃণাপূর্ণ, বিদ্বেষপ্রবণ হিংস্র করে তুলেছে? না, ধর্ম কখনও এমন ছিল না। আসলে, ধর্মের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের কাছে পুরোপুরি সত্যভাবে পৌঁছায়নি। আপনি দেখবেন, মধ্যযুগের ইউরোপীয় বা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাস বলতে গেলে আমাদের শেখানো হয়, ধর্ম, পুরোহিত আর যাজক শ্রেণি মধ্যযুগের সব সমস্যার মূল ছিল। মনে হয় যেন ধর্মই অন্ধকার যুগের প্রধান কারণ, যেন পৃথিবীর কাল আর কলংক জনক যত  ইতিহাস তার সব  ধর্মের  ছাড়া আর  কারও না!

কিন্তু এই ইতিহাস কি সত্যিই নিরপেক্ষ? এই ইতিহাস কি কাটছাঁট করা হয়নি ? ধর্মের এই কলংক জনক ইতিহাস কি  যাচাই করা হয়েছে? মোটেও না। তাহলে কীভাবে ধর্মকে মানবতা মানবিকতার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হলো? কে বা কারা করল এই কাজ? ধর্মের বিরুদ্ধে এত ঘৃণা আমাদের সমাজে কীভাবে প্রবেশ করল?

আজকের আধুনিক যুগে ধর্ম আর মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, ধর্মের সেই ক্ষমতা আর নেই। তবুও, সব সমস্যার জন্য ধর্মকে দায়ী করা হয়, এটা কি খুব অদ্ভুত নয়? দেখা যাচ্ছে, বহু অপরাধ সহিংসতা এমন কিছু মানুষ করছে, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে কিন্তু আসলে নিজেরা সব দায়মুক্ত থাকে। পৃথিবীর অশান্তি, বিদ্বেষ বিভাজনের প্রকৃত কারণ না হয়েও ধর্মই যেন সেই সকলের একমাত্র দায়ী হয়ে উঠে!

এই ছায়াময় ইতিহাসের পেছনে রয়েছে এক ধরনের shadow people ,যারা ক্ষমতার স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে, ধর্মকে অপরাধের মুখে দাঁড় করিয়ে নিজেরা ক্ষমতার চূড়ায় উঠে যায়। এরা সমস্যার সৃষ্টিকর্তা নয়, বরং সমস্যা সৃষ্টি করে ধর্মকে ফাঁদে ফেলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যায়। আর এই শ্যাডো পিপল গুলাই হচ্ছে রাজনীতিবিদ, সরকারি আমলা, সামরিক বাহিনীর লোকেরা আর এরা যেকোনো যুগের ইতিহাসে আপনি পেয়ে যাবেন , শুধুযে এই যুগের তা কিন্তু না ! এই শ্যাডো পিপলদের কে আপনি পেয়ে যাবেন ইতিহাসের যেকোনো বাকে। আর এরাই হচ্ছে এনিমি অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড, ভালবাসা, পারস্পারিক সহযোগিতা আর প্রেমের , মানুষের   আর মানবিকতার ।

 

প্রশান্তি কী ?

প্রশান্তি কী? প্রশান্তি হলো প্রকৃতির সাথে নিঃশব্দে লেপ্টে থাকা, কিছু সময়ের জন্য সব চিন্তা, সব কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। সেই সাথে আপ...